নতুন এপিবিএন আইন-২০২৬ বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ: হাসিব আজিজের নেতৃত্বে ইউনিট প্রধানদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময়

0
14

আইনের যথাযথ প্রয়োগ, সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিস্তারিত আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর সার্বিক কার্যক্রমকে নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় আরও সুশৃঙ্খল, কার্যকর, সমন্বিত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন এপিবিএন আইন-২০২৬ বাস্তবায়ন এবং বাহিনীর দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরায় এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলনকক্ষে বাহিনীর প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজের নেতৃত্বে আয়োজিত এ সভায় সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনরত সকল এপিবিএন ইউনিটের অধিনায়ক ও ইউনিট প্রধানগণ জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্ত হন।
সভায় নতুন আইনটির যথাযথ বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, অপারেশনাল কার্যক্রম, গোয়েন্দা তৎপরতা, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
হাসিব আজিজের নেতৃত্বে নতুন আইনের বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা
এপিবিএন প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজের নেতৃত্বে নতুন এপিবিএন আইন-২০২৬ বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি, সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাহিনীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের কর্মপরিকল্পনা সভার আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
নতুন আইনের আলোকে এপিবিএনের প্রতিটি ইউনিট যাতে নির্ধারিত আইনগত বিধান, দায়িত্ব ও প্রশাসনিক নির্দেশনা অনুসরণ করে নিজ নিজ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, পেশাদারত্ব, জবাবদিহি এবং কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে এপিবিএনের দায়িত্বের পরিধি ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের যোগাযোগ আরও কার্যকর করার বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়।
ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহানের বক্তব্যে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব
সভায় ডিআইজি (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, পিএইচডি, নতুন এপিবিএন আইন-২০২৬ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, দায়িত্ব বণ্টন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যদের করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।
তিনি নতুন আইনের প্রতিটি বিধান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যদের পরিষ্কার ধারণা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যের আলোচ্য বিষয় ছিল, আইন বাস্তবায়ন শুধু দাপ্তরিক নির্দেশনা বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং বাহিনীর প্রতিটি পর্যায়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম, দায়িত্ব পালন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইনের যথাযথ প্রতিফলন থাকতে হবে।
ড. মোহাম্মদ শাহজাহান প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক কর্মকর্তা ও সদস্যকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকা, নির্ধারিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা এবং দায়িত্ব পালনে পেশাদার আচরণ বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।
তিনি সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ, প্রশাসনিক তথ্যের সঠিক আদান-প্রদান এবং ইউনিটভিত্তিক কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করা গেলে নতুন আইন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হবে—এমন বিষয় তাঁর বক্তব্যের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
বিশেষ করে নতুন আইনের বিধান বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমানভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রাখা এবং আইনানুগ পদ্ধতিতে বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
অপারেশনস, ইন্টেলিজেন্স ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা
সভায় নতুন আইনের আলোকে বাহিনীর দায়িত্ব ও কর্মপরিধি যথাযথভাবে অনুসরণ, প্রশাসনিক কার্যক্রমের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা কার্যক্রমের সমন্বয়, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন এবং প্রতিটি ইউনিটের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
একটি বিশেষায়িত পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে প্রশাসন, অপারেশনস, ইন্টেলিজেন্স ও প্রশিক্ষণ বিভাগ পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। ফলে এসব বিভাগের মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা, তথ্য আদান-প্রদান এবং দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন আইনের বিধান সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনগত সীমারেখা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের সকল ইউনিটের অংশগ্রহণ
সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, পিএইচডি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন), অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস ও ইন্টেলিজেন্স), অতিরিক্ত ডিআইজি (এফডিএমএন), পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন), পুলিশ সুপার (অপারেশন), পুলিশ সুপার (ইন্টেলিজেন্স), পুলিশ সুপার (ট্রেনিং), ল’ অ্যান্ড মিডিয়া শাখার কর্মকর্তাসহ এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
অন্যদিকে জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনরত সকল এপিবিএন ইউনিটের অধিনায়ক ও ইউনিট প্রধানগণ সভায় সংযুক্ত হন। এর ফলে কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোর মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং নতুন আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে সমন্বিত ধারণা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
আইনের শাসন, পেশাদারত্ব ও জননিরাপত্তার অঙ্গীকার
এপিবিএন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বিশেষ নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ব্যক্তির নিরাপত্তা, অপরাধ দমন এবং অর্পিত বিশেষ দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ বাহিনীর কার্যক্রমে দক্ষতা ও পেশাদারত্বের পাশাপাশি আইনানুগ আচরণ, মানবিক মূল্যবোধ, নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন এপিবিএন আইন-২০২৬-এর যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যক্রমে আইনগত স্বচ্ছতা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা এবং পেশাগত সমন্বয় আরও সুসংহত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নতুন আইনি কাঠামোয় এপিবিএনের ভবিষ্যৎ পথচলা
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও পরিবর্তিত হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজন দক্ষ নেতৃত্ব, প্রশিক্ষিত জনবল, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, সুস্পষ্ট আইনগত ভিত্তি এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা।
অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজের নেতৃত্ব এবং ডিআইজি (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ শাহজাহানের প্রশাসনিক দিকনির্দেশনার আলোকে নতুন আইন বাস্তবায়নের এ উদ্যোগ এপিবিএনের সাংগঠনিক কাঠামো ও কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে ৩ নভেম্বরের এ গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় নতুন আইনের আলোকে এপিবিএনের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের পদ্ধতি সুস্পষ্ট করা, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি ইউনিটের কার্যক্রমে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইনের যথাযথ প্রয়োগ, পেশাদারত্ব, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও জননিরাপত্তার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে এপিবিএনের প্রতিটি সদস্য ও ইউনিট আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে—এমন প্রত্যাশাই এ উদ্যোগের মূল তাৎপর্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here