
চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ১৫ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ২০১৭ সালে প্রতিদিন ৩৯ হাজার গাড়ি চলাচলের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। আট বছর পর বাস্তবে চলছে গড়ে মাত্র ৮ হাজার—প্রত্যাশার এক–পঞ্চমাংশ। ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৯১ শতাংশ, ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩১৫ কোটি। মেয়াদও বাড়তে বাড়তে গেছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—ভুল সম্ভাব্যতা যাচাই, অপরিকল্পিত নকশা, র্যাম্প ব্যবহার না হওয়া, নিরাপত্তাহীনতা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে এক্সপ্রেসওয়ে কাঙ্ক্ষিত সুফল দিচ্ছে না।গাড়ি–আয়ের হিসাব উদ্বোধনের পর ১০ মাসে চলেছে ২৪ লাখ ৩৫ হাজার গাড়ি—গড়ে দিনে ৮,১১৯টি। টোল আদায় হয়েছে ১৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, দিনে সাড়ে ৫ লাখের সামান্য বেশি। বর্তমান গতিতে প্রকল্প ব্যয় উত্তোলনে লাগবে কয়েক শত বছর। র্যাম্প ১৫, চালু হয়নি একটি নকশায় থাকা ১৫টি র্যাম্পের ৬টি স্থগিত, ৯টির মধ্যে ১টির কাজও শুরু হয়নি, ৪টির নির্মাণ শেষ হলেও যাতায়াত চালু হয়নি। ফলে অনেক এলাকাবাসীকে এক্সপ্রেসওয়েতে উঠতে ঘুরপথে যেতে হয়—যা ব্যবহার অনীহা বাড়াচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্ঘটনা সিসিটিভি ও আলোকায়ন না থাকায় ছিনতাই–অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। রাতে চালকরা এ সড়ক এড়িয়ে চলছেন। গতিসীমা না মানা ও প্রকৌশলগত ত্রুটির কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মত সম্ভাব্যতা যাচাই “ফরমায়েশি” হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবসম্মত হয়নি বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তাদের মতে, ৪ শতাংশ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীকে কেন্দ্র করে ব্যয়বহুল প্রকল্প নেওয়া অনুচিত। সিডিএর ব্যাখ্যা প্রকল্প পরিচালক জানান—প্রতিদিন ১০ হাজার গাড়ি চলছে এবং র্যাম্প চালু হলে এ সংখ্যা বাড়বে। সিডিএ চেয়ারম্যান বলছেন—জটিলতা কাটলে সব র্যাম্প খোলা হবে এবং যানবাহন বাড়বে।

