সংকেত–টেলিকম কাজে ৫০ কোটি টাকার অনিয়ম: দোহাজারী–কক্সবাজার রেল প্রকল্পে নতুন বিতর্ক

0
128

হাজার কোটি টাকার দোহাজারী–কক্সবাজার রেলওয়ে প্রকল্পে সংকেত ও টেলিকম নির্মাণকাজে ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ ও কর্মকর্তাদের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ঘিরে রেল অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা চলছে। দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান দল ২৬ অক্টোবর রেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ সেলিমের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের কপি, স্থায়ী ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি চেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—সংকেত ও টেলিকম শাখায় তিনি ঠিকাদারদের যোগসাজশে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করিয়ে ৫০ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি করেছেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলীর দায়িত্বে দীর্ঘদিন রয়েছেন। ৩ সেপ্টেম্বর তার বদলির আদেশ হলেও মাত্র ১৩ দিনের মাথায় তা রহস্যজনকভাবে বাতিল হয়। রেলওয়ের ভেতরেই শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার ‘প্রভাব’ তার পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, একই ব্যক্তি নিয়ম ভঙ্গ করে একযোগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন—উপপরিচালক (সিগন্যাল ও টেলিকম), উপপরিচালক (পুনর্বাসন) এবং বিভাগীয় সংকেত প্রকৌশলী হিসেবে। ফলে প্রকল্পের কেনাকাটা, যন্ত্রাংশ স্থাপন, মেরামতসহ নানা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সরেজমিন ও অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা গেছে—৯টি স্টেশনে স্থানীয়ভাবে তৈরি নিম্নমানের মেকানিক্যাল পয়েন্ট মেশিন বসানো হয়েছে, যেগুলোতে ইতোমধ্যে মরিচা ধরেছে। চুক্তিতে ব্লক কমিউনিকেশনের জন্য এক্সেল কাউন্টার স্থাপনের কথা থাকলেও তা হয়নি; এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নিম্নমানের বন্ডিং ওয়্যার ব্যবহারের ফলে ট্র্যাক সার্কিটে বিঘ্ন ঘটছে, সিগন্যাল ঠিকমতো না পৌঁছায় ট্রেন চলাচলেও দেরি হচ্ছে। অতিরিক্ত প্রধান সিগন্যাল ও টেলিকম প্রকৌশলী তারেক মো. শামস তুষার প্রকল্পের টেলিকম–সিগন্যাল অংশে ৪১টি অসংগতি শনাক্ত করে রিপোর্ট দিলেও এখনো কোনো সংশোধন হয়নি। এতে দেশের অন্যতম ব্যস্ত রুট ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার লাইনে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ সেলিম দাবি করেন, “অভিযোগ তদন্তাধীন। কোনো অনিয়ম হয়নি।” রেলপথ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। দুদক সব নথি সংগ্রহের পর খুব শিগগির মাঠপর্যায়ে তদন্ত শুরু করবে।

—

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here