― Advertisement ―

প্রজ্ঞানন্দ স্মৃতি সংসদের বর্ষবরণ ও গুনীজন সংবর্ধনা সম্পন্ন

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে : রাউজান উপজেলার পুর্বআবুরখীল তালুকদারপাড়ায় অবস্থিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রজ্ঞানন্দ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে নববর্ষ বরণ, গুনীজন সংবর্ধনা ও...

“কোতোয়ালি থেকে পাঁচলাইশ, সামনে বায়েজিদ: ওসি আব্দুল করিমের নেতৃত্বে আধুনিক পুলিশিংয়ের ধারাবাহিক সাফল্যের গল্প”

Homeচট্টগ্রাম“কোতোয়ালি থেকে পাঁচলাইশ, সামনে বায়েজিদ: ওসি আব্দুল করিমের নেতৃত্বে আধুনিক পুলিশিংয়ের ধারাবাহিক...

মো. কামাল উদ্দিন
গত বছরের এই দিনে, গভীর প্রত্যাশা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আমি একটি লেখা লিখেছিলাম—চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় আধুনিক সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়ে। সেই লেখার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল করিম—একজন মেধাবী, চৌকস ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা, যার নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ থানা প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আসতে শুরু করেছিল। আজ এক বছর পর ফিরে তাকালে দেখা যায়, সেই উদ্যোগ কেবল একটি প্রকল্পের সূচনা ছিল না—বরং একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। সময়ের পরিক্রমায় আব্দুল করিম আর কোতোয়ালিতে নেই; বর্তমানে তিনি পাঁচলাইশ থানার দায়িত্বে নিয়োজিত, এবং অদূর ভবিষ্যতে বায়েজিদ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। কিন্তু তার কর্মদক্ষতা, দায়িত্ববোধ এবং উদ্ভাবনী চিন্তাধারা একইভাবে প্রবাহমান রয়েছে—এক থানা থেকে আরেক থানায়। কোতোয়ালি থানায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি যে সিসি ক্যামেরা মনিটরিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা ছিল সময়োপযোগী এবং বাস্তবভিত্তিক একটি সিদ্ধান্ত। চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তির ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী। আমি নিজে সেই সময় কোতোয়ালি থানায় গিয়ে সরাসরি এই মনিটরিং সিস্টেমের প্রস্তুতিপর্ব দেখেছি। একটি সুসজ্জিত কন্ট্রোল রুম, সারি সারি মনিটর, দক্ষ পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা—সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছিল, এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত নিরাপত্তা কাঠামো। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় এবং জনবহুল এলাকায় ক্যামেরার নজরদারি স্থাপন করে তিনি এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, যার মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের আগেই তা শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়। ওসি আব্দুল করিমের পুলিশিং কৌশলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দৃঢ়তা দেখান। কোতোয়ালির মতো সংবেদনশীল এলাকায় তিনি যে দক্ষতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। শুধু অপরাধ দমন নয়, জনসাধারণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের আস্থা অর্জনেও তিনি সফল হয়েছেন। পরবর্তীতে পাঁচলাইশ থানায় দায়িত্ব গ্রহণের পরও তার সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। পাঁচলাইশ এলাকা, যা নগরীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং এলাকা, সেখানে তার অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অপরাধ দমনে তার তৎপরতা, মাদকবিরোধী অভিযান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে তিনি একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এখন তিনি বায়েজিদ থানার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন—এটি তার কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বায়েজিদ এলাকা ভৌগোলিক ও সামাজিক দিক থেকে কিছুটা ভিন্ন চ্যালেঞ্জ বহন করে। তবে তার পূর্ববর্তী সাফল্য এবং অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বলা যায়, তিনি এখানেও একটি শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। বরং কোতোয়ালির অভিজ্ঞতা এবং পাঁচলাইশের বাস্তব প্রয়োগ তাকে আরও পরিপক্ব করে তুলেছে, যা বায়েজিদ থানায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এই পুরো যাত্রাপথে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের নেতৃত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার দূরদর্শী পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি গুরুত্ব এবং মাঠপর্যায়ে দক্ষ কর্মকর্তাদের কাজে লাগানোর সক্ষমতা—এই সবকিছু মিলেই আজ চট্টগ্রাম নগরীর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। ওসি আব্দুল করিমের মতো কর্মকর্তারা সেই নেতৃত্বেরই সফল বাস্তবায়নকারী। পেছনে তাকালে স্পষ্ট হয়—কোতোয়ালি থানার সেই সিসি ক্যামেরা মনিটরিং উদ্যোগ ছিল একটি সূচনা, যার প্রভাব আজও বহমান। এটি শুধু অপরাধ দমন নয়, বরং একটি নতুন মানসিকতার জন্ম দিয়েছে—যেখানে প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং দায়বদ্ধতা একসঙ্গে কাজ করে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রকৃত শক্তি তার পদে নয়, বরং তার কর্মে। আর সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ওসি আব্দুল করিম নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন দায়িত্বশীল, সাহসী এবং দূরদর্শী কর্মকর্তা হিসেবে। কোতোয়ালি থেকে পাঁচলাইশ, আর সামনে বায়েজিদ—এই পথচলা কেবল বদলির ইতিহাস নয়; এটি এক ধারাবাহিক সাফল্যের দলিল। চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা—তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করবেন, সেখানেই আইনশৃঙ্খলার দৃঢ় ভিত গড়ে উঠবে, অপরাধ দমনে নতুন কৌশল যুক্ত হবে এবং জনগণের নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে। তার এই অগ্রযাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং একটি নিরাপদ নগর গঠনের পথপ্রদর্শক হিসেবেই বিবেচিত হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি বদলাচ্ছে অপরাধের ধরনও। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যে কর্মকর্তারা নিজেদের প্রস্তুত করছেন, তাদের মধ্যেই অন্যতম একজন ওসি আব্দুল করিম। তার এই ধারাবাহিক প্রয়াস ও নেতৃত্ব চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে—এটাই প্রত্যাশা, এটাই বিশ্বাস।