
পেটব্যথা এমন একটি সমস্যা, যা প্রায় সবাই কখনও না কখনও অনুভব করেন। সাধারণত আমরা ভাবি—হয়তো বেশি খেয়েছি, খারাপ খাবার খেয়েছি, বা হজমে সমস্যা হয়েছে। কিন্তু বারবার বা নিয়মিত পেটব্যথা অনেক সময় শরীরের ভিতরে থাকা গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। অনেকে পেটব্যথাকে হালকাভাবে নেন, কারণ ব্যথা মাঝে মাঝে হয় বা তীব্র নয়। তবে গলস্টোন, আলসার, গ্যাস্ট্রাইটিস বা অ্যাপেন্ডিসাইটিসের মতো রোগের শুরুর লক্ষণও সাধারণ পেটব্যথার মতো হতে পারে। ব্যথার ধরন, সময় ও অবস্থান খেয়াল করলে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব এবং জটিলতা এড়ানো যায়। নিচে জানুন কোন কোন রোগ আপনার ‘সাধারণ’ পেটব্যথার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে। **১. গলস্টোন (পিত্তথলিতে পাথর)** গলস্টোন হলো পিত্তথলিতে তৈরি হওয়া শক্ত পাথরের মতো দানা। এগুলো পিত্তপ্রবাহে বাধা তৈরি করে, বিশেষ করে তেল বা চর্বিযুক্ত খাবারের পর তীব্র ব্যথা হয়। ব্যথা সাধারণত পেটের ডানদিকের উপরের অংশে হয় এবং কাঁধ পর্যন্ত ছড়াতে পারে। **২. গ্যাস্ট্রাইটিস (পাকস্থলির আবরণে প্রদাহ)** পাকস্থলির দেয়ালে প্রদাহ হলে গ্যাস্ট্রাইটিস হয়। অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক বা *H. pylori* ব্যাকটেরির কারণে এটি হতে পারে। উপসর্গ হিসেবে বমিভাব, জ্বালাপোড়া ও পেটে ভারি ভাব দেখা যায়। সাধারণত হালকা খাবার ও অ্যান্টাসিড কিছুটা সাহায্য করে। **৩. জিইআরডি (GERD – অ্যাসিড রিফ্লাক্স)** এই অবস্থায় পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে ওঠে। ফলে বুকজ্বালা, টক ঢেঁকুর ও উপরের পেটে অস্বস্তি দেখা দেয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে খাদ্যনালির ক্ষতি হতে পারে। খাবারের পর শুয়ে না পড়া ও হালকা খাবার খাওয়া উপকারী **৪. অ্যাপেন্ডিসাইটিস (অ্যাপেন্ডিক্সে প্রদাহ)**
এটি জরুরি মেডিক্যাল অবস্থা। পেটের ডানদিকের নিচে তীব্র ব্যথা, জ্বর, বমি, এবং খাবারের আগ্রহ কমে যাওয়া—এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। **৫. আইবিএস (IBS – হজমতন্ত্রের কার্যগত সমস্যা)** IBS কোনো সংক্রমণ নয়, এটি দীর্ঘস্থায়ী হজমজনিত সমস্যা। স্ট্রেস, হরমোন পরিবর্তন বা কিছু খাবার এটি বাড়িয়ে দেয়। ফলে পেটে ব্যথা, ফাঁপা ভাব, গ্যাস ও অস্বস্তি দেখা দেয়। পুরোপুরি সারানো সম্ভব নয়, তবে ডায়েট ও জীবনধারার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে সমস্যা কমানো যায়। **৬. পেপটিক আলসার (পাকস্থলী বা অন্ত্রে ঘা)** পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের দেয়ালে ক্ষত বা ঘা তৈরি হলে পেপটিক আলসার হয়। কারণ হতে পারে *H. pylori* ব্যাকটেরিয়া বা অতিরিক্ত ব্যথানাশক সেবন। উপসর্গ হিসেবে খালি পেটে জ্বালাপোড়া, টক ঢেঁকুর, হালকা বমিভাব দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা না করলে রক্তক্ষরণও হতে পারে। সকল পেটব্যথাই গুরুতর নয়, তবে ঘনঘন বা তীব্র ব্যথাকে কখনও অবহেলা করবেন না। শরীর প্রায়ই ছোট ছোট লক্ষণ দিয়ে বড় সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। তাই নিয়মিত সুষম খাবার খান, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখুন এবং প্রয়োজনে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

