
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে চলেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতি গ্রামের কৃতি শিক্ষার্থী সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত। গণিত ও ইংরেজি অলিম্পিয়াডে অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। শিশুদের মানসিক গণিত দক্ষতা, একাগ্রতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে বিশ্বব্যাপী পরিচিত প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালোহা মেন্টাল অ্যারিথমেটিক’ বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে অনুষ্ঠিত ‘অ্যালোহা বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিযোগিতা’-তে অংশ নেয় সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত। দেশব্যাপী প্রায় ৩ হাজার ৫০০ প্রতিযোগীর মধ্যে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখে সে অর্জন করে মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যালোহা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে নগদ অর্থ ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। জাতীয় পর্যায়ে এই গৌরবময় অর্জনের পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায় সুস্ময়। বিশ্বের ১৭টি দেশের সেরা প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সে ৩য় রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বমঞ্চে তার এই সাফল্য বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালোহা ম্যাথ কুমিল্লা শাখা’র জন্যও বয়ে আনে বিশেষ সম্মান। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও তাকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। সুস্ময় বর্তমানে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। গণিতে অসাধারণ দক্ষতার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডগুলোতেও সমানভাবে সফলতা অর্জন করেছে সে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইংরেজি অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলেও ভিসা জটিলতার কারণে সশরীরে উপস্থিত হতে পারেনি সুস্ময়। তবে প্রতিকূলতাকে জয় করে অনলাইন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অর্জন করে মর্যাদাপূর্ণ ‘সিলভার মেডেল’। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনে আরও একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। পরবর্তীতে জাপান ও যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বের জন্যও কোয়ালিফাই করে সুস্ময়। তবে সময়সূচির কারণে একটি দেশ বেছে নিতে হওয়ায় সে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে সে অফিসিয়াল আমন্ত্রণপত্র হাতে পেয়েছে এবং লন্ডন সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতি গ্রামের এক শিক্ষানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা প্রকৌশলী রিটন বড়ুয়া বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-এ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। মা শর্মিলা বড়ুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সুস্ময় ‘বিশ্বমঞ্চজয়ী সপ্ত’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি নিজের শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য সময় ও সুযোগ অনুযায়ী বিনামূল্যে অনলাইন ক্লাস এবং দিকনির্দেশনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। সুস্ময় বড়ুয়া সপ্তর এই আন্তর্জাতিক অর্জন দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত। পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দেশবাসী আশা করছেন, তার আসন্ন লন্ডন সফর সফল হবে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জন্য আরও গৌরব ও স্বীকৃতি বয়ে আনবে।

