
বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ‘গোপন এজেন্ডা নেই’ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনায় উন্মুক্ত পরিবেশে চুক্তির মাধ্যমে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের উড়োজাহাজের বহর আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বোয়িং কেনার পেছনে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী বোয়িং বা অন্য কোনো নির্মাতার কাছ থেকেই উড়োজাহাজ কেনা হবে। চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে উন্মুক্ত পরিবেশেই চুক্তি হয়েছে এবং বিষয়টি গণমাধ্যমের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়, বরং প্রয়োজনের ভিত্তিতেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চুক্তি অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের বিমান বহরে ঐতিহাসিকভাবে বোয়িংয়ের আধিক্য থাকলেও ভবিষ্যতে মিশ্র বহর প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজের সমন্বয়ে বহর গড়ে তোলা প্রয়োজন। চাপের মুখে বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন ধারণাও নাকচ করেন তিনি। তার ভাষ্য, যাত্রীচাহিদা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক কার্যক্রম বিবেচনা করেই বহরের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হচ্ছে। এদিকে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়ে হুমায়ুন কবির জানান, বিষয়টি নিয়ে কারিগরি মূল্যায়ন চলছে। কারিগরি সমস্যার কারণে রুটটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। এখন পুনরায় চালুর সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সময় ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর আগে ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য আরেকটি চুক্তি করা হয়। দুই দফার চুক্তিতে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে বাংলাদেশের ব্যয় হবে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি।


