শিরোনাম
➤বোয়িং কেনার পেছনে ‘গোপন এজেন্ডা নেই’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী➤পুঁজিবাজারে ১৭ হাজার ৩৩২ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর টাকা ফেরত দেওয়া শুরু➤নির্বাচনী প্রশিক্ষণের বিস্তৃত পরিসর নিয়ে মহাপরিচালক হাসানুজ্জামানের সঙ্গে একান্ত আলাপ নির্বাচন ব্যবস্থাপনা থেকে আচরণ, অফিস পরিচালনা, ক্রয়ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ➤কদমতলীতে কাস্টমস কর্মকর্তার ল্যাপটপ-মোবাইল ছিনতাই, গ্রেফতার ১➤বাকলিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গ্রেফতার ১৫➤হতদরিদ্র মেয়ের বিয়েতে আর্থিক সহায়তা দিল এন.ই.এইচ.আর.এফ চট্টগ্রাম জেলা কমিটি➤ছাত্রদল নেতা জিসানকে অপহরণের পর সড়কে মিলল মরদেহ➤চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা স্মারকলিপি নাগরিক উদ্যোগকে স্বাগত কবীর ভূঁইয়ার, যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান➤নদী আছে, শুধু নেই প্রাণ➤পুরো ঘটনা জেনে সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্য করা উচিত ছিল: রাশেদ খান

― Advertisement ―

বোয়িং কেনার পেছনে ‘গোপন এজেন্ডা নেই’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ‘গোপন এজেন্ডা নেই’ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনায়...

নির্বাচনী প্রশিক্ষণের বিস্তৃত পরিসর নিয়ে মহাপরিচালক হাসানুজ্জামানের সঙ্গে একান্ত আলাপ নির্বাচন ব্যবস্থাপনা থেকে আচরণ, অফিস পরিচালনা, ক্রয়ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ

Homeসম্পাদকীয়নির্বাচনী প্রশিক্ষণের বিস্তৃত পরিসর নিয়ে মহাপরিচালক হাসানুজ্জামানের সঙ্গে একান্ত আলাপ নির্বাচন ব্যবস্থাপনা...

মো. কামাল উদ্দিনঃ
নির্বাচন মানেই কি শুধু ভোটের দিন, ভোটকেন্দ্র, ব্যালট পেপার কিংবা ভোট গণনা? নাকি একটি গ্রহণযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন আয়োজনের পেছনে থাকে দীর্ঘ প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, আইন, আচরণবিধি, পর্যবেক্ষণ এবং বহুমাত্রিক অংশীজনের সমন্বিত ভূমিকা?
আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান-এর সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের একান্ত আলাপচারিতায় এই প্রশ্নগুলোর অনেকটাই নতুনভাবে সামনে এসেছে।
শান্ত, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচন ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক, প্রশিক্ষণের দর্শন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা, অফিস ব্যবস্থাপনা, আচরণ ও শিষ্টাচার, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তাঁর বক্তব্য ও বিষয় উপস্থাপনের ধরন থেকে স্পষ্ট হয়েছে, নির্বাচনী প্রশিক্ষণকে তিনি কেবল একটি দাপ্তরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবে দেখেন না। বরং নির্বাচনকে একটি বৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক অংশীজনের জ্ঞান, দক্ষতা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রশিক্ষণের পরিধি শুধু নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সচিবালয়ের অধীনে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনের মাঠপর্যায়ে আঞ্চলিক, জেলা এবং উপজেলা ও থানা পর্যায়ে নির্বাচন কার্যালয়ের বিস্তৃত কাঠামো রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এর অধীনে ১০টি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, ৬৪টি সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কার্যালয় এবং ৫১৪টি উপজেলা বা থানা নির্বাচন কার্যালয় রয়েছে।
তবে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন কেবল নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্বাচনকে ঘিরে আরও বহু শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকেন।
এর মধ্যে রয়েছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন অংশীজন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য পৃথক নীতিমালা ও নির্দেশিকার তথ্য রয়েছে।
অর্থাৎ একটি আধুনিক নির্বাচন ব্যবস্থায় শুধু ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষিত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বরং নির্বাচনকে ঘিরে যাঁরা তথ্য সংগ্রহ করবেন, পর্যবেক্ষণ করবেন, বিশ্লেষণ করবেন কিংবা জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন, তাঁদেরও দায়িত্ব ও সীমারেখা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।
নির্বাচন ব্যবস্থাপনা মানে বহুমাত্রিক প্রস্তুতি
মহাপরিচালক হাসানুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হলো, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা একটি বহুমাত্রিক কর্মপ্রক্রিয়া।
ভোট গ্রহণ, ভোট গণনা কিংবা ফলাফল প্রকাশের বাইরেও একজন নির্বাচনী কর্মকর্তাকে অনেক ধরনের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করতে হয়।
অফিস পরিচালনা, সময় ব্যবস্থাপনা, নথি ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ববোধ, সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ, বাচনভঙ্গি, শিষ্টাচার, পেশাগত নৈতিকতা, সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোও একটি দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
একজন কর্মকর্তা কতটা জ্ঞানী, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তিনি সেই জ্ঞান দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কতটা দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
একটি প্রতিষ্ঠানের মানুষের সঙ্গে তার আচরণই অনেক সময় পুরো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি তৈরি করে। তাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুধু বিধি-বিধান শেখানো নয়, দায়িত্বশীল আচরণ ও সেবামুখী মানসিকতাও গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আচরণ ও বাচনভঙ্গিও পেশাদারিত্বের অংশ
একজন সরকারি কর্মকর্তা প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তাঁর ভাষা, আচরণ, ধৈর্য, শ্রবণক্ষমতা এবং সমস্যাকে বোঝার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সাক্ষাৎকারে মহাপরিচালকের আলোচনায় এই মানবিক ও পেশাগত দিকটির গুরুত্বও উঠে আসে।
প্রশিক্ষণ তাই শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়। বাস্তব পরিস্থিতিতে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কীভাবে একজন নাগরিকের কথা শুনতে হবে, কীভাবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সামলাতে হবে এবং কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে, তারও প্রস্তুতি।
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক অনেকাংশে নির্ভর করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আচরণ ও সেবার মানের ওপর। নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি ক্রয় ও সম্পদ ব্যবস্থাপনাও প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ
সাক্ষাৎকারে সরকারি ক্রয় ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
একটি বড় নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ সামগ্রী, সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। এসব ক্ষেত্রে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, নিয়ম মেনে ক্রয়, প্রয়োজন নির্ধারণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য শুধু নিয়ম মুখস্থ করানো নয়; বরং নিয়মের পেছনের নীতি ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে কর্মকর্তাদের সচেতন করা।
সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। তাই সরকারি সম্পদের প্রতিটি ব্যবহারের সঙ্গে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা জড়িয়ে থাকে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রশিক্ষণ
বিশ্বব্যাপী নির্বাচন ব্যবস্থাপনা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যের দ্রুত প্রবাহ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য, সাইবার ঝুঁকি, নাগরিক পর্যবেক্ষণ এবং গণমাধ্যমের পরিবর্তিত ভূমিকা নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক পর্যবেক্ষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টি দেখা যায়। কমিশনের ওয়েবসাইটে এশীয় নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নাগরিক পর্যবেক্ষণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রান্ত তথ্য মোকাবিলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ঝুঁকি নিয়ে কর্মশালার তথ্যও রয়েছে।
ফলে আধুনিক নির্বাচনী প্রশিক্ষণের পরিসরও ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।
দেশের নিজস্ব বাস্তবতা ও আইনগত কাঠামোকে ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। একটি দক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে একই সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতা ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হয়।
ঋণখেলাপি প্রসঙ্গ: প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক গবেষণা
আলাপচারিতার একপর্যায়ে ঋণখেলাপি প্রসঙ্গও উঠে আসে।
এ বিষয়ে মহাপরিচালক হাসানুজ্জামান বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে একটি গবেষণামূলক লেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিঃসন্দেহে গবেষণার দাবি রাখে। ঋণখেলাপি, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা, আর্থিক দায়বদ্ধতা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধানের মধ্যে সম্পর্ককে আবেগের পরিবর্তে তথ্য, আইন, পরিসংখ্যান ও নীতিগত বিশ্লেষণের আলোকে দেখা প্রয়োজন।
এ ধরনের গবেষণা শুধু নির্বাচনী আলোচনাকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং রাষ্ট্রীয় আর্থিক শৃঙ্খলা ও জনপ্রতিনিধিত্বের প্রশ্নেও নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্ন
সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন পদে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টিও উঠে আসে।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বর্তমানে উপজেলা পরিষদ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে যোগ্যতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া, ২৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকার শর্ত উল্লেখ রয়েছে; সেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতার পৃথক কোনো শর্ত উল্লেখ নেই।
তবে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সময়ের সঙ্গে সংশোধিত হতে পারে। তাই কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বশেষ কার্যকর আইন, বিধি ও নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এখানেই নির্বাচনী প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আইন পরিবর্তিত হলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও পরিবর্তিত বিধান সম্পর্কে দ্রুত ও সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত হতে হয়।
নির্বাচনকে বুঝতে হলে নির্বাচন-পূর্ব প্রস্তুতিকে বুঝতে হবে
আমাদের সাধারণ ধারণায় নির্বাচন বলতে ভোটের দিনটিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ একটি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার অনেক আগে থেকেই শুরু হয় বিশাল প্রস্তুতি।
কর্মকর্তা নির্বাচন, দায়িত্ব বণ্টন, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম প্রস্তুত, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সমন্বয়, পর্যবেক্ষণ, গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম—সবকিছু মিলিয়েই একটি নির্বাচন।
এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অন্যতম ভিত্তি হলো প্রশিক্ষণ।
প্রশিক্ষণ যত বাস্তবমুখী, আধুনিক ও দায়িত্বকেন্দ্রিক হবে, মাঠপর্যায়ের কাজও তত বেশি সুশৃঙ্খল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
একজন মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎকার, কিন্তু খুলে গেল একটি বৃহৎ চিন্তার দরজা
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের সঙ্গে আমার এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকার আমার কাছে নিছক প্রশ্নোত্তরের একটি পর্ব ছিল না।
বরং এটি ছিল নির্বাচনকে ভিন্ন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ।
আমরা প্রায়ই নির্বাচনকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রার্থী, ভোটার ও ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দেখি। কিন্তু সেই দৃশ্যের আড়ালে থাকে হাজার হাজার মানুষের দায়িত্ব, অসংখ্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, দীর্ঘ প্রশিক্ষণ, আইনগত প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা এবং বিশাল সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞ।
মহাপরিচালক হাসানুজ্জামান অত্যন্ত ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আমার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তাঁর আলোচনায় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি উঠে এসেছে মানবসম্পদ উন্নয়ন, পেশাগত আচরণ, প্রশাসনিক দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা এবং অংশীজনভিত্তিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা।
একজন সাক্ষাৎকারগ্রহীতা হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে একটি বিষয়—নির্বাচন কেবল একটি দিনের আয়োজন নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির নাম।
শেষ কথা
আগারগাঁও থেকে ফেরার পথে মনে হলো, একটি ভোটের পেছনে আসলে কত মানুষের শ্রম, কত দিনের প্রস্তুতি এবং কত স্তরের ব্যবস্থাপনা কাজ করে, তার খুব সামান্য অংশই সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পড়ে।
একটি ব্যালটের পেছনে থাকে আইন।
আইনের পেছনে থাকে প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানের পেছনে থাকে প্রশিক্ষিত মানুষ।
আর প্রশিক্ষিত মানুষের পেছনে থাকে জ্ঞান, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও নিরন্তর প্রস্তুতি।
সেই অর্থে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শুধু কর্মকর্তা তৈরির প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি আধুনিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নির্মাণের প্রক্রিয়া।
আর সেই সক্ষমতা যত জ্ঞাননির্ভর, প্রযুক্তিসচেতন, আইনসম্মত, মানবিক ও পেশাদার হবে, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাও তত বেশি প্রাতিষ্ঠানিক পরিপক্বতার দিকে এগোতে পারবে।