শিরোনাম
➤বিশেষ প্রতিবেদন দি টুরিস্ট ও চট্রল চিত্র বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের নতুন স্বপ্ন বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিতে চান তিনি কক্সবাজার থেকে সুন্দরবন, চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর, কর্ণফুলী থেকে সিলেটের চা বাগান, পর্যটনকে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির শক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় মো. কামাল উদ্দিন ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিবছর এই দিবস পালিত হয়। পর্যটন যে শুধু মানুষের অবকাশযাপন কিংবা বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং একটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, বিশ্ব পর্যটন দিবস সেই বার্তাই সামনে নিয়ে আসে। বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব পর্যটন দিবসের তাৎপর্য আরও গভীর। কারণ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, নদী, সমুদ্র, পাহাড়, বন, দ্বীপ, হাওর, জীববৈচিত্র্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, লোকসংস্কৃতি এবং মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তায় বাংলাদেশ একটি অসাধারণ পর্যটনভূমি। একদিকে কক্সবাজারের বিশাল সমুদ্রসৈকত, অন্যদিকে সুন্দরবনের গহিন অরণ্য। কোথাও পার্বত্য চট্টগ্রামের মেঘঢাকা পাহাড়, কোথাও সিলেটের সবুজ চা বাগান। কোথাও কুয়াকাটার সমুদ্র, কোথাও হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি। আবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সভ্যতার নানা নিদর্শন। এই বিশাল সম্ভাবনাকে আধুনিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, বিশ্বমানের সেবা এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণার মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বাংলাদেশের পর্যটনকে সেই বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখতে চান। তাঁর পর্যটন ভাবনায় পর্যটন শুধু ভ্রমণ কিংবা বিনোদনের বিষয় নয়। পর্যটন হতে পারে কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের নতুন দ্বার, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি সম্ভাবনাময় খাত এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিচয় তুলে ধরার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। বিশ্ব পর্যটন দিবসে চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের পর্যটন ভাবনা চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের ভাবনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশের পর্যটনকে প্রচলিত ধারণার সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে একটি আধুনিক, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, রুচিসম্মত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যটন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা। একটি পর্যটনকেন্দ্র শুধু সুন্দর হলেই পর্যটন উন্নত হয় না। সেখানে যাওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হতে হবে। পর্যটকের থাকার জন্য মানসম্মত আবাসন থাকতে হবে। নিরাপদ খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নত স্যানিটেশন, জরুরি চিকিৎসা, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র, দক্ষ গাইড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সহজ ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একজন পর্যটক কোনো দেশে এসে কী অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত সেই দেশের পর্যটন ব্যবস্থার প্রকৃত পরিচয় হয়ে ওঠে। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের নতুন উচ্চতায় নিতে হবে বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে কক্সবাজারের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিশাল সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি কক্সবাজারের রয়েছে পাহাড়, দ্বীপ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় সংস্কৃতি, রাখাইন ঐতিহ্য, স্থানীয় খাবার এবং মানুষের জীবনযাপনের বৈচিত্র্য। কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে রাখলে চলবে না। আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারেও কক্সবাজারের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরতে হবে। একজন বিদেশি পর্যটক কক্সবাজারে এসে শুধু সমুদ্রসৈকত দেখে ফিরে যাবেন না। তিনি যেন পাহাড়ে যেতে পারেন, দ্বীপ ভ্রমণ করতে পারেন, স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন এবং বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা অনুভব করতে পারেন, সেই ধরনের সমন্বিত পর্যটন প্যাকেজ তৈরি করা প্রয়োজন। কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের পর্যটন প্যাকেজ তৈরি করা গেলে একজন পর্যটকের বাংলাদেশে অবস্থানের সময়ও বাড়ানো সম্ভব। চট্টগ্রাম হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম প্রবেশদ্বার বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নের কথা বলতে গেলে চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। চট্টগ্রাম একদিকে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, অন্যদিকে পাহাড়, সমুদ্র, নদী, দ্বীপ, উপকূল, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয়। কর্ণফুলী নদী, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, সীতাকুণ্ড, চন্দ্রনাথ, মিরসরাইয়ের পাহাড় ও জলপ্রপাত, বাঁশখালীর উপকূল, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিস্তৃত প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে সমন্বিত করে একটি বড় পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামকে শুধু শিল্প ও বাণিজ্যের শহর হিসেবে নয়, বাংলাদেশের পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবেও নতুন করে ভাবতে হবে। কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা কর্ণফুলী শুধু একটি নদী নয়। এটি চট্টগ্রামের ইতিহাস, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই নদীকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নৌভ্রমণ, নদীর তীরের সৌন্দর্যায়ন, সাংস্কৃতিক আয়োজন, স্থানীয় খাবার এবং চট্টগ্রামের ইতিহাসকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে কর্ণফুলী নিজেই একটি আকর্ষণীয় পর্যটন পণ্যে পরিণত হতে পারে। একজন বিদেশি পর্যটক কর্ণফুলীতে নৌভ্রমণ করবেন, চট্টগ্রামের ইতিহাস জানবেন, বন্দর দেখবেন, স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেবেন এবং পাহাড় ও সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করবেন। এমন একটি সমন্বিত পর্যটন অভিজ্ঞতা চট্টগ্রামের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে পারে প্রকৃতি ও সংস্কৃতি পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান বাংলাদেশের পর্যটন সম্পদের অন্যতম বড় ভাণ্ডার। পাহাড়, মেঘ, ঝরনা, লেক, বন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক, সংস্কৃতি ও উৎসব সব মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের প্রকৃতি ও সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটন অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব। তবে পাহাড়ি পর্যটনের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে। পর্যটনের নামে পাহাড় ও প্রকৃতি ধ্বংস নয়, বরং প্রকৃতিকে রক্ষা করেই পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে হবে। সুন্দরবন বাংলাদেশের অমূল্য পর্যটন সম্পদ সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবনের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব রয়েছে। বাঘ, হরিণ, কুমির, পাখি, নদী, খাল, গাছপালা এবং জোয়ারভাটার অনন্য জীবন সুন্দরবনকে একটি অসাধারণ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে। সুন্দরবনে পর্যটনের বিকাশের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি অবশ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেতে হবে। পর্যটকের সংখ্যা, নৌযান চলাচল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দদূষণ এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে পরিবেশবান্ধব পর্যটন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। সিলেটের চা বাগান ও হাওরেও রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা সমুদ্র ও পাহাড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সিলেটের চা বাগান, জাফলং, রাতারগুল এবং হাওরাঞ্চল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অনন্য আকর্ষণ হতে পারে। বর্ষায় হাওরের বিশাল জলরাশি এবং শুষ্ক মৌসুমে তার পরিবর্তিত রূপ পর্যটকদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। নৌভ্রমণ, স্থানীয় খাবার, লোকসংস্কৃতি এবং গ্রামীণ জীবনযাপনের সঙ্গে পর্যটকদের পরিচিত করা গেলে হাওরভিত্তিক পর্যটন একটি নতুন সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হতে পারে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে বাংলাদেশের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রাচীন মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার, জমিদারবাড়ি এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। পাহাড়পুর, মহাস্থানগড়, বাগেরহাটসহ ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যটন প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। একজন বিদেশি পর্যটক শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা দেখতে চান না। তিনি জানতে চান সেই স্থাপনার ইতিহাস, নির্মাণের গল্প, মানুষের জীবন এবং সেই সভ্যতার সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশের সম্পর্ক। তাই পর্যটনে গল্প বলার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। স্থানীয় খাবারও হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন ব্র্যান্ড বাংলাদেশের খাবারের বৈচিত্র্য বিশ্ব পর্যটনের একটি আকর্ষণীয় সম্পদ হতে পারে। চট্টগ্রামের মেজবানি, কালাভুনা, শুঁটকি ও সামুদ্রিক খাবার, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, সিলেটের বিভিন্ন খাবার, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার, বাংলাদেশের মিষ্টি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় কৃষিপণ্যকে পর্যটনের অংশ করা সম্ভব। পর্যটক একটি দেশকে শুধু চোখ দিয়ে দেখেন না, অনেক সময় খাবারের স্বাদের মধ্য দিয়েও একটি দেশকে মনে রাখেন। তাই বাংলাদেশের স্থানীয় খাবারকে পরিচ্ছন্নতা, মান এবং নান্দনিক পরিবেশনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা প্রয়োজন। পর্যটনের সুফল পৌঁছাতে হবে স্থানীয় মানুষের ঘরে পর্যটন উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শর্ত হলো স্থানীয় জনগণকে এর অংশীদার করা। একটি পর্যটনকেন্দ্রে হোটেল তৈরি হলো, রাস্তা হলো, পর্যটক এলেন, কিন্তু স্থানীয় মানুষ যদি অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত না হন, তাহলে সেই পর্যটন উন্নয়ন পূর্ণাঙ্গ অর্থে টেকসই হবে না। স্থানীয় তরুণদের পর্যটন গাইড হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। স্থানীয় নারীদের হস্তশিল্প, খাবার, হোমস্টে এবং ক্ষুদ্র পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। স্থানীয় কৃষক, জেলে, মাঝি, কারিগর এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পর্যটনের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে যাবে। তরুণরাই হতে পারেন পর্যটনের নতুন দূত বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী পর্যটন শিল্পের বড় শক্তি। বিদেশি ভাষা, পর্যটন ব্যবস্থাপনা, গাইডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফটোগ্রাফি, ভিডিও নির্মাণ এবং আতিথেয়তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের পর্যটন শিল্পে যুক্ত করা গেলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একজন দক্ষ পর্যটন গাইড শুধু একজন গাইড নন। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার একজন দূত। নারীর জন্যও খুলে যেতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের দরজা পর্যটন শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে। হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার, হোমস্টে, পর্যটন গাইড, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, অনলাইন পর্যটন ব্যবসা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের যুক্ত করা সম্ভব। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের পর্যটনকেন্দ্রিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে পর্যটন শুধু অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে না, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখবে। পর্যটনকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় খাতে পরিণত করতে হবে আধুনিক হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বিনোদনকেন্দ্র, নৌপর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, ইকো ট্যুরিজম, ওয়েলনেস পর্যটন এবং সম্মেলন পর্যটনে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ প্রক্রিয়া, দীর্ঘমেয়াদি নীতি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা গেলে পর্যটন শিল্পে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। ডিজিটাল পর্যটন হবে আগামী দিনের বাস্তবতা বিশ্বের পর্যটন ব্যবস্থা দ্রুত ডিজিটাল হচ্ছে। বাংলাদেশকেও এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে। একজন বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে আসার আগেই যেন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন, কীভাবে যাবেন, কোথায় খাবেন, কত খরচ হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে কোথায় যোগাযোগ করবেন, সেই ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, ডিজিটাল ম্যাপ, বহুভাষিক ওয়েবসাইট, পর্যটন অ্যাপ এবং ভার্চুয়াল পর্যটন নির্দেশনা বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে পারে। নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাই পর্যটনের ভিত্তি পর্যটন যতই সুন্দর হোক, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার অভাব থাকলে পর্যটকের অভিজ্ঞতা পূর্ণতা পায় না। পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকবান্ধব আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, জরুরি চিকিৎসা, উদ্ধার ব্যবস্থা, তথ্য সহায়তা, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পর্যটকের কাছে বাংলাদেশের সৌন্দর্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের আচরণ ও সেবার মানও দেশের পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠবে। পরিবেশ রক্ষা ছাড়া পর্যটনের ভবিষ্যৎ নেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন সম্পদ হচ্ছে প্রকৃতি। তাই পর্যটনের নামে পাহাড় কাটা, নদী দখল, বন ধ্বংস, সৈকত দূষণ কিংবা জীববৈচিত্র্য নষ্ট করা যাবে না। পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতি থাকবে, পর্যটক আসবেন, স্থানীয় মানুষ উপকৃত হবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও একই সৌন্দর্য উপভোগ করবে, এমন ভারসাম্যপূর্ণ পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা নদীমাতৃক বাংলাদেশকে নদীভিত্তিক পর্যটনের দেশ হিসেবেও বিশ্বের সামনে তুলে ধরা সম্ভব। কর্ণফুলী, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা, কুশিয়ারা এবং দেশের অসংখ্য নদী ও জলাভূমিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নৌভ্রমণ, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন এবং স্থানীয় জীবনযাপনের সঙ্গে পর্যটকদের পরিচিত করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কর্ণফুলী নদীকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের একটি আধুনিক নদী পর্যটন পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে এটি দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। মেডিকেল, ওয়েলনেস ও সম্মেলন পর্যটনের সম্ভাবনা পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে মেডিকেল ও ওয়েলনেস পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। একইভাবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, ব্যবসায়িক সভা, প্রদর্শনী ও করপোরেট আয়োজনের সঙ্গে পর্যটনকে যুক্ত করা সম্ভব। একজন ব্যবসায়ী বা সম্মেলনের অতিথি বাংলাদেশে এসে যদি একই সফরে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সুন্দরবন কিংবা অন্য কোনো পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণ করেন, তাহলে ব্যবসা ও পর্যটন উভয় ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হবে। পর্যটন সার্কিট গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশের পর্যটনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে আন্তঃআঞ্চলিক পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার মধ্যে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার। কক্সবাজার থেকে বান্দরবান। বান্দরবান থেকে রাঙামাটি। চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই। খুলনা থেকে সুন্দরবন ও বাগেরহাট। সিলেট থেকে জাফলং, রাতারগুল ও হাওর। ঢাকা থেকে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। এভাবে একাধিক পর্যটনকেন্দ্রকে একটি প্যাকেজে যুক্ত করা গেলে পর্যটকের বাংলাদেশে অবস্থানের সময় বাড়বে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটনের অর্থনৈতিক সুফল ছড়িয়ে পড়বে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ে নতুন বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে শুধু সস্তা পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হবে বৈচিত্র্যের দেশ হিসেবে। এটি নদীর দেশ। এটি সমুদ্রের দেশ। এটি পাহাড়ের দেশ। এটি সুন্দরবনের দেশ। এটি হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দেশ। এটি বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশ। এটি অতিথিপরায়ণ মানুষের দেশ। এই গল্পকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিশ্ব পর্যটন মেলার মাধ্যমে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, তথ্যচিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যটন সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটাতে হবে। কারণ স্থানীয় সাংবাদিকরা তাঁদের এলাকার প্রকৃতি, ইতিহাস, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গভীরভাবে তুলে ধরতে পারেন। পর্যটন উন্নয়নে গবেষণা প্রয়োজন কোন দেশের পর্যটক বাংলাদেশে আসতে চান? তাঁরা কী দেখতে চান? কতদিন থাকতে চান? কত টাকা ব্যয় করতে আগ্রহী? কোন পর্যটনকেন্দ্র তাঁদের বেশি আকর্ষণ করে? কেন অনেক বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে এসে অল্প সময়ের মধ্যে ফিরে যান? এসব প্রশ্নের উত্তর গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। পর্যটন উন্নয়নে নিয়মিত পর্যটক জরিপ, বাজার গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রবণতা বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। সামনে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের পর্যটন ভাবনায় একটি আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন রয়েছে। যেখানে কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। সুন্দরবন হবে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র। পার্বত্য চট্টগ্রাম হবে প্রকৃতি, অ্যাডভেঞ্চার ও সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটনের অন্যতম ক্ষেত্র। সিলেট হবে চা, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অনন্য গন্তব্য। চট্টগ্রাম হবে পাহাড়, সমুদ্র, নদী, বন্দর ও ঐতিহ্যের সমন্বিত পর্যটন প্রবেশদ্বার। দেশের প্রতিটি অঞ্চল তার নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিশ্ব পর্যটনের সামনে নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরবে। প্রয়োজন সম্মিলিত জাতীয় উদ্যোগ বাংলাদেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বেসরকারি বিনিয়োগকারী, পর্যটন ব্যবসায়ী, হোটেল রেস্তোরাঁ শিল্প, পরিবহন খাত, স্থানীয় জনগণ এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ। পর্যটনের জন্য প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা। প্রয়োজন পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। প্রয়োজন পর্যটনকে জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নতুন পরিচয় বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের সম্পদ তৈরি করতে হবে না। প্রকৃতি আমাদের সম্পদ দিয়েছে। আমাদের রয়েছে সমুদ্র। আমাদের রয়েছে পাহাড়। আমাদের রয়েছে নদী। আমাদের রয়েছে সুন্দরবন। আমাদের রয়েছে দ্বীপ। আমাদের রয়েছে হাওর। আমাদের রয়েছে ইতিহাস। আমাদের রয়েছে ঐতিহ্য। আমাদের রয়েছে সংস্কৃতি। আমাদের রয়েছে জীববৈচিত্র্য। আর রয়েছে মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা। এখন প্রয়োজন এই সম্পদকে আধুনিক পরিকল্পনা, বিশ্বমানের অবকাঠামো, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত কর➤“বিশ্ব পর্যটন দিবস: চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের পর্যটনের নতুন দিগন্ত-➤হাটহাজারীতে বিদেশি পিস্তল ও ওয়ান শুটারগানসহ গ্রেপ্তার ১➤জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাজারে বাড়ছে পণ্যের দাম, দুশ্চিন্তায় মানুষ➤চট্টগ্রাম রেঞ্জে আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী অপরাধের অন্ধকারে আলোর সন্ধান, মাঠে নেমেই কঠোরতার বার্তা➤রাউজানে মানব কল্যাণে ধম্মকথার ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন➤বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি ৫৬ বছরের ঐতিহ্য, হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং বোয়ালখালীবাসীর প্রত্যাশা➤কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে চুরি-ছিনতাইসহ একাধিক মামলার আসামি হেলালসহ গ্রেপ্তার ৩➤চট্টগ্রামের স্বার্থে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে দিন | নগর পরিকল্পনার কঠিন পথে বাধা নয়, চাই সত্য, প্রমাণ ও আইনের শাসন➤উৎপাদন বাড়লে হাতের নাগালে আসতে পারে ইলিশের দাম

― Advertisement ―

বিশেষ প্রতিবেদন দি টুরিস্ট ও চট্রল চিত্র বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের নতুন স্বপ্ন বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিতে চান...

বিশেষ প্রতিবেদন : মো. কামাল উদ্দিন ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিবছর এই দিবস পালিত হয়। পর্যটন যে শুধু...

“বিশ্ব পর্যটন দিবস: চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের পর্যটনের নতুন দিগন্ত-

Homeসম্পাদকীয়"বিশ্ব পর্যটন দিবস: চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের পর্যটনের নতুন দিগন্ত-

মো. কামাল উদ্দিন
সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক
যুগ্ম সম্পাদক, দৈনিক ভোরের আওয়াজ
ডেপুটি এডিটর, দি টুরিস্ট
সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সিনিয়র’স প্রেসক্লাব
২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্বের অসংখ্য দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়। পর্যটনের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।
কিন্তু বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব পর্যটন দিবসের তাৎপর্য আরও গভীর।
কারণ প্রকৃতি যেন বাংলাদেশকে পর্যটনের জন্য বিশেষভাবে সাজিয়েছে। নদী, সমুদ্র, পাহাড়, বন, দ্বীপ, হাওর, ঐতিহাসিক স্থাপনা, ধর্মীয় নিদর্শন, লোকজ সংস্কৃতি এবং মানুষের সহজাত আতিথেয়তা মিলিয়ে বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় পর্যটনভূমি।
আর বাংলাদেশের এই পর্যটন সম্ভাবনার সবচেয়ে বড় দরজাগুলোর একটি হলো চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা করা কঠিন। কারণ চট্টগ্রাম শুধু একটি জেলা বা একটি নগরী নয়, এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি বিশাল পর্যটন প্রবেশদ্বার। সরকারি পর্যটন তথ্যেও চট্টগ্রাম বিভাগকে একাধিক বৈচিত্র্যময় পর্যটন গন্তব্যের সমন্বিত অঞ্চল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কেন বাংলাদেশের পর্যটনের কেন্দ্র হতে পারে?
একদিকে বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে কর্ণফুলী নদী, তার সঙ্গে পাহাড়, বন, দ্বীপ, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতি।
চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যই তাকে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে আলাদা একটি পর্যটন সম্ভাবনা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে ফয়েজ লেক, বাটালী হিল, জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর, চট্টগ্রাম কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি, বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার, ঐতিহাসিক কোর্ট বিল্ডিং, লালদীঘি ও ভাটিয়ারী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে পর্যটনের নানা উপাদান। সরকারি জেলা পোর্টালেও এসব স্থান পর্যটন স্পট হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়।
চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটু দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে তাকালেই খুলে যায় আরও বিশাল একটি পর্যটনভূমি।
একদিকে কক্সবাজারের সমুদ্র। অন্যদিকে বান্দরবানের পাহাড়। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ। খাগড়াছড়ির পাহাড়ি প্রকৃতি। সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ের পাহাড়, ঝরনা ও উপকূলীয় সৌন্দর্য। বাঁশখালীর সমুদ্র ও পাহাড়। সন্দ্বীপের দ্বীপজীবন। মহেশখালীর ঐতিহ্য। রামুর বৌদ্ধ ঐতিহ্য। টেকনাফের পাহাড়, বন ও সমুদ্র।
অর্থাৎ চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের একটি বিশাল সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী ও সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটন বলয় গড়ে তোলার বাস্তব সুযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম শুধু যাত্রাপথ নয়, নিজেই একটি গন্তব্য
দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় চট্টগ্রামকে কক্সবাজার বা পার্বত্য চট্টগ্রামে যাওয়ার পথ হিসেবে দেখা হয়। অথচ চট্টগ্রাম নিজেই একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
পতেঙ্গার সমুদ্র, কর্ণফুলীর মোহনা, পাহাড়ের সবুজ, ভাটিয়ারীর লেক, ফয়েজ লেকের সৌন্দর্য, বাটালী হিলের দৃশ্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং নৃ-সংস্কৃতির পরিচয় বহনকারী জাদুঘর—সব মিলিয়ে একটি পর্যটকের জন্য চট্টগ্রামে কয়েক দিনের পর্যটন পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব।
বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের পর্যটন তথ্যেও চট্টগ্রামের সঙ্গে সমুদ্রসৈকত, ঐতিহ্য, পাহাড়, দ্বীপ ও জলভিত্তিক বিভিন্ন গন্তব্যকে একই বৃহত্তর পর্যটন অঞ্চলের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন আসে, এই বিপুল সম্ভাবনাকে আমরা কতটা কাজে লাগাতে পেরেছি?
চট্টগ্রামের পর্যটন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে
চট্টগ্রামের পর্যটন উন্নয়ন বলতে শুধু পতেঙ্গায় কিছু সৌন্দর্যবর্ধন কিংবা কয়েকটি বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণকে বোঝালে চলবে না।
প্রয়োজন একটি সমন্বিত চট্টগ্রাম পর্যটন মহাপরিকল্পনা।
এই পরিকল্পনায় নগর পর্যটন, সমুদ্র পর্যটন, পাহাড়ি পর্যটন, নদী পর্যটন, দ্বীপ পর্যটন, ঐতিহাসিক পর্যটন, ধর্মীয় পর্যটন, সাংস্কৃতিক পর্যটন, গ্রামীণ পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।
চট্টগ্রাম নগরীকে হতে হবে সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু।
পতেঙ্গা থেকে কর্ণফুলী: সমুদ্র ও নদী পর্যটনের সম্ভাবনা
পতেঙ্গা শুধু একটি সমুদ্রসৈকত নয়। কর্ণফুলী নদী যেখানে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে মিলিত হয়েছে, সেই ভূপ্রকৃতিই এখানে একটি বিশেষ পর্যটন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
কিন্তু পতেঙ্গাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করতে হলে শুধু দোকান ও মানুষের ভিড় বাড়ালেই হবে না।
প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন সৈকত, পরিকল্পিত হাঁটার পথ, পর্যাপ্ত বসার স্থান, আধুনিক গণশৌচাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র এবং নদী ও সমুদ্রভিত্তিক নিরাপদ বিনোদনের ব্যবস্থা।
কর্ণফুলী নদীকেও পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।
নিরাপদ নদীভ্রমণ, ঐতিহ্যবাহী নৌযান, নদীর তীরভিত্তিক সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং কর্ণফুলীকে কেন্দ্র করে পর্যটন অবকাঠামো তৈরি করা গেলে চট্টগ্রামের পর্যটন অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।
সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই: প্রকৃতির আরেক স্বর্গ
চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চলও পর্যটনের জন্য অসাধারণ সম্ভাবনাময়।
সীতাকুণ্ডের পাহাড়, ঝরনা, বন ও পরিবেশগত বৈচিত্র্য এবং মিরসরাইয়ের বিস্তৃত পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনের আওতায় আনা গেলে চট্টগ্রামের পর্যটন মানচিত্র আরও বড় হবে।
এখানে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো পরিবেশ রক্ষা।
পাহাড় কেটে পর্যটন তৈরি করা যাবে না। ঝরনার পানি দূষিত করে পর্যটন করা যাবে না। প্লাস্টিকের বোতল ও পলিথিনে পাহাড়-ঝরনা ভরে ফেলে পর্যটন উন্নয়ন সম্ভব নয়।
প্রকৃতি ধ্বংস করে পর্যটন নয়, প্রকৃতি রক্ষা করেই পর্যটন।
এই নীতিই হতে হবে চট্টগ্রামের পর্যটন উন্নয়নের মূল দর্শন।
সন্দ্বীপ: দ্বীপ পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ বাংলাদেশের দ্বীপভিত্তিক পর্যটনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা।
দ্বীপের মানুষের জীবন, সমুদ্র, নদী, চর, সূর্যাস্ত, নৌযাত্রা এবং স্থানীয় সংস্কৃতি—সবকিছু মিলে সন্দ্বীপকে একটি আলাদা পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিকশিত করা যেতে পারে।
পরিকল্পিত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপদ নৌযান, আবাসন, স্থানীয় খাদ্য, গাইড ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন সুবিধা তৈরি করা গেলে সন্দ্বীপে নতুন ধরনের পর্যটনের দ্বার খুলতে পারে।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম: একসঙ্গে সমুদ্র ও পাহাড়
চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই।
বাংলাদেশের অনেক পর্যটন এলাকায় হয় পাহাড়, নয়তো সমুদ্র। কিন্তু চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে একজন পর্যটক একই ভ্রমণ পরিকল্পনায় সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী, দ্বীপ এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উপভোগ করতে পারেন।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের সমুদ্র, বান্দরবানের পাহাড়, রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ, খাগড়াছড়ির পাহাড়ি প্রকৃতি—সবকিছুকে একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিটের আওতায় আনা সম্ভব।
বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের তালিকাতেও চট্টগ্রাম বিভাগের পর্যটন আকর্ষণের মধ্যে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এটিই হতে পারে বাংলাদেশের একটি অনন্য পর্যটন ব্র্যান্ড।
“চট্টগ্রাম থেকে সমুদ্র, পাহাড় ও সংস্কৃতির বাংলাদেশ”।
কক্সবাজারকে চট্টগ্রামের পর্যটন করিডোরের অংশ হিসেবে দেখতে হবে
কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে সমুদ্র, দ্বীপ, পাহাড়, বন ও ঐতিহাসিক স্থাপনার সমন্বিত পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে।
কক্সবাজারকে শুধু আলাদা একটি পর্যটন শহর হিসেবে দেখলে সম্ভাবনার একটি বড় অংশ অপূর্ণ থেকে যায়।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার এবং কক্সবাজার থেকে টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও অন্যান্য উপকূলীয় গন্তব্যকে একটি পর্যটন করিডোরের মধ্যে আনা দরকার।
এতে পর্যটক একটি জায়গায় এসে অন্য জায়গায় চলে যাবেন না; বরং কয়েক দিন ধরে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থান করার সুযোগ পাবেন।
এটি স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যটন মানেই কর্মসংস্থান
চট্টগ্রামের লাখ লাখ তরুণকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কর্মী, পর্যটন পরিবহন, নৌযান পরিচালনা, ফটোগ্রাফি, ভিডিও নির্মাণ, অনলাইন পর্যটন প্রচার, হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে তরুণরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।
পর্যটন উন্নয়ন তাই শুধু পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ নয়, এটি মানুষের জীবনের অর্থনৈতিক পরিবর্তনেরও একটি সম্ভাবনা।
চট্টগ্রামের স্থানীয় খাবারও পর্যটনের সম্পদ
পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো খাবার।
চট্টগ্রামের মেজবান, কালাভুনা, সামুদ্রিক মাছ, শুঁটকি, নানা ধরনের আঞ্চলিক রান্না এবং উপকূলীয় খাবারকে পর্যটনের ব্র্যান্ডিংয়ের অংশ করা যেতে পারে।
একজন পর্যটক যখন কোনো জায়গায় যান, তখন তিনি শুধু দৃশ্য দেখতে চান না, সেই এলাকার স্বাদও নিতে চান।
তাই “চট্টগ্রামের খাবার” হতে পারে পর্যটনের একটি আলাদা পরিচয়।
ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে
চট্টগ্রামের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
বন্দরনগরীর ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক, ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয়—সবকিছু পর্যটনের অংশ হতে পারে।
বিশেষ করে ইতিহাসভিত্তিক হাঁটা ভ্রমণ বা হেরিটেজ ওয়াক চালু করা যেতে পারে।
পুরোনো চট্টগ্রামকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য একটি পরিকল্পিত ঐতিহ্য পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
পর্যটন ও পরিবেশ: চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা
চট্টগ্রামের পাহাড়, নদী, সমুদ্র ও বন রক্ষা না করে পর্যটন উন্নয়ন করলে ভবিষ্যতে পর্যটনের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যাবে।
পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে।
নদী ও জলাশয় রক্ষা করতে হবে।
সমুদ্রসৈকতকে প্লাস্টিকমুক্ত রাখতে হবে।
ঝরনা ও পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রে ধারণক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করতে হবে।
যেখানে পরিবেশগতভাবে অতিরিক্ত পর্যটক প্রবেশ ক্ষতিকর, সেখানে নিয়ন্ত্রিত পর্যটন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
কারণ পর্যটনকেন্দ্র যত জনপ্রিয় হবে, তার ওপর চাপও তত বাড়বে।
পর্যটকের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
চট্টগ্রাম অঞ্চলে পর্যটন বাড়াতে হলে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেতে হবে।
পর্যটনকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সুবিধা, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যটক সহায়তা কেন্দ্র থাকা প্রয়োজন।
পাহাড়ি ঝরনায় দুর্ঘটনা, সমুদ্রসৈকতে সাঁতারের ঝুঁকি, নৌযাত্রার নিরাপত্তা এবং পাহাড়ি পথে চলাচলের বিষয়েও কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড থাকা দরকার।
একজন পর্যটক নিরাপদ বোধ করলেই তিনি আবার ফিরে আসবেন এবং অন্যদেরও আসতে উৎসাহিত করবেন।
চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে
চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, মহাসড়ক ও রেল যোগাযোগের কারণে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র।
এই সুবিধাকে পর্যটনের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা দরকার।
বিদেশি পর্যটক চট্টগ্রামে এসে যাতে সহজে কক্সবাজার, পার্বত্য অঞ্চল, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই কিংবা দ্বীপাঞ্চলে যেতে পারেন, সে জন্য সমন্বিত পর্যটন পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
একটি শহরকে শুধু শিল্প ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে দেখলে তার সম্ভাবনার একটি অংশই দেখা হয়।
চট্টগ্রাম একই সঙ্গে হতে পারে বাণিজ্যের নগরী, সমুদ্রের নগরী এবং পর্যটনের প্রবেশদ্বার।
চট্টগ্রামভিত্তিক পর্যটন সার্কিটের প্রস্তাব
আমার দৃষ্টিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য কয়েকটি পর্যটন সার্কিট তৈরি করা যেতে পারে।
প্রথম সার্কিট: চট্টগ্রাম নগরী, পতেঙ্গা, কর্ণফুলী, ফয়েজ লেক, বাটালী হিল, ঐতিহাসিক স্থাপনা।
দ্বিতীয় সার্কিট: চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, পাহাড় ও ঝরনা।
তৃতীয় সার্কিট: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ইনানী, হিমছড়ি, রামু, মহেশখালী।
চতুর্থ সার্কিট: চট্টগ্রাম, বান্দরবান, পাহাড় ও ঝরনা।
পঞ্চম সার্কিট: চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়ি সংস্কৃতি।
ষষ্ঠ সার্কিট: চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, আলুটিলা ও পাহাড়ি পর্যটন।
সপ্তম সার্কিট: চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও উপকূলীয় দ্বীপ পর্যটন।
এগুলো শুধু ভ্রমণপথ নয়। প্রতিটি সার্কিটের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণকে যুক্ত করা যেতে পারে।
প্রয়োজন চট্টগ্রাম পর্যটন কর্তৃপক্ষ বা শক্তিশালী সমন্বয় ব্যবস্থা
চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনা এত বিস্তৃত যে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করে এর পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।
চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে পর্যটন উন্নয়নে একটি শক্তিশালী সমন্বয় ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সরকারি পর্যটন সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, বেসরকারি পর্যটন উদ্যোক্তা, পরিবেশবিদ, গণমাধ্যম, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং পর্যটন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে।
গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে
চট্টগ্রামের পর্যটন নিয়ে আরও অনুসন্ধানী ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা প্রয়োজন।
শুধু পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্যের ছবি প্রকাশ করলেই হবে না।
কোথায় সমস্যা, কোথায় সম্ভাবনা, কোথায় অবকাঠামোর ঘাটতি, কোথায় পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, কোথায় নতুন পর্যটন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে—এসবও তুলে ধরতে হবে।
পর্যটন সাংবাদিকতা হতে পারে পর্যটন উন্নয়নের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার।
বিশ্ব পর্যটন দিবসে চট্টগ্রামের দাবি
বিশ্ব পর্যটন দিবসে তাই চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে আমাদের একটি সুস্পষ্ট দাবি থাকা উচিত।
চট্টগ্রামকে শুধু বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে নয়, বাংলাদেশের পর্যটন প্রবেশদ্বার হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়ে একটি সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
চট্টগ্রাম নগরীকে পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
পতেঙ্গা ও কর্ণফুলীকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মানের নদী ও সমুদ্র পর্যটন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।
সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ের পাহাড় ও ঝরনা রক্ষা করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তুলতে হবে।
সন্দ্বীপকে দ্বীপ পর্যটনের নতুন গন্তব্য হিসেবে উন্নত করতে হবে।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িকে যুক্ত করে সমন্বিত পর্যটন সার্কিট গড়ে তুলতে হবে।
স্থানীয় মানুষকে পর্যটনের অংশীদার করতে হবে।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উন্নয়নের নামে চট্টগ্রামের প্রকৃতি যেন ধ্বংস না হয়।
শেষ কথা
বিশ্ব পর্যটন দিবস আমাদের শুধু ভ্রমণের কথা বলে না। এটি আমাদের নিজেদের দেশকে নতুন চোখে দেখার আহ্বান জানায়।
আর যখন বাংলাদেশের পর্যটনের কথা বলি, তখন চট্টগ্রামকে সামনে রেখেই কথা বলতে হয়।
কারণ চট্টগ্রামের আছে সমুদ্র।
চট্টগ্রামের আছে পাহাড়।
চট্টগ্রামের আছে নদী।
চট্টগ্রামের আছে দ্বীপ।
চট্টগ্রামের আছে বন।
চট্টগ্রামের আছে ইতিহাস।
চট্টগ্রামের আছে সংস্কৃতি।
চট্টগ্রামের আছে বন্দর।
চট্টগ্রামের আছে মানুষের আতিথেয়তা।
আর সবচেয়ে বড় কথা, চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছে কক্সবাজারের সমুদ্র, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় এবং দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের বিস্তৃত প্রকৃতি ও সংস্কৃতি।
এই সমন্বিত বৈচিত্র্য বাংলাদেশের আর কোনো অঞ্চলের পর্যটন পরিকল্পনায় এত ঘনভাবে পাওয়া কঠিন।
তাই সময় এসেছে চট্টগ্রামকে নতুন করে দেখার।
চট্টগ্রাম শুধু বাণিজ্যের রাজধানী নয়, চট্টগ্রাম হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটনের মহাদ্বার।
পতেঙ্গার সমুদ্র থেকে বান্দরবানের পাহাড়, কর্ণফুলীর বুক থেকে কাপ্তাই হ্রদ, সীতাকুণ্ডের ঝরনা থেকে কক্সবাজারের বালুকাবেলা, সন্দ্বীপের দ্বীপজীবন থেকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সংস্কৃতি—সবকিছুকে একটি সুতোয় গেঁথে যদি আমরা একটি সমন্বিত পর্যটন বলয় তৈরি করতে পারি, তাহলে চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন মানচিত্রেও আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারে।
বিশ্ব পর্যটন দিবসে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক—
চট্টগ্রামের প্রকৃতি রক্ষা করব।
চট্টগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ করব।
চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকে বিশ্বে তুলে ধরব।
স্থানীয় মানুষকে পর্যটনের অংশীদার করব।
আর চট্টগ্রামকে গড়ে তুলব বাংলাদেশের পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে।
কারণ,
চট্টগ্রামকে বুঝতে হলে শুধু একটি শহরকে দেখতে হবে না;
দেখতে হবে সমুদ্র, পাহাড়, নদী, দ্বীপ, ইতিহাস ও মানুষের এক অপূর্ব মিলনভূমিকে।
আর সেই মিলনভূমিই হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটনের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

Previous article
Next article
বিশেষ প্রতিবেদন দি টুরিস্ট ও চট্রল চিত্র বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের নতুন স্বপ্ন বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিতে চান তিনি কক্সবাজার থেকে সুন্দরবন, চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর, কর্ণফুলী থেকে সিলেটের চা বাগান, পর্যটনকে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির শক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় মো. কামাল উদ্দিন ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিবছর এই দিবস পালিত হয়। পর্যটন যে শুধু মানুষের অবকাশযাপন কিংবা বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং একটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, বিশ্ব পর্যটন দিবস সেই বার্তাই সামনে নিয়ে আসে। বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব পর্যটন দিবসের তাৎপর্য আরও গভীর। কারণ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, নদী, সমুদ্র, পাহাড়, বন, দ্বীপ, হাওর, জীববৈচিত্র্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, লোকসংস্কৃতি এবং মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তায় বাংলাদেশ একটি অসাধারণ পর্যটনভূমি। একদিকে কক্সবাজারের বিশাল সমুদ্রসৈকত, অন্যদিকে সুন্দরবনের গহিন অরণ্য। কোথাও পার্বত্য চট্টগ্রামের মেঘঢাকা পাহাড়, কোথাও সিলেটের সবুজ চা বাগান। কোথাও কুয়াকাটার সমুদ্র, কোথাও হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি। আবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সভ্যতার নানা নিদর্শন। এই বিশাল সম্ভাবনাকে আধুনিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, বিশ্বমানের সেবা এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণার মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বাংলাদেশের পর্যটনকে সেই বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখতে চান। তাঁর পর্যটন ভাবনায় পর্যটন শুধু ভ্রমণ কিংবা বিনোদনের বিষয় নয়। পর্যটন হতে পারে কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের নতুন দ্বার, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি সম্ভাবনাময় খাত এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিচয় তুলে ধরার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। বিশ্ব পর্যটন দিবসে চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের পর্যটন ভাবনা চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের ভাবনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশের পর্যটনকে প্রচলিত ধারণার সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে একটি আধুনিক, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, রুচিসম্মত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যটন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা। একটি পর্যটনকেন্দ্র শুধু সুন্দর হলেই পর্যটন উন্নত হয় না। সেখানে যাওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হতে হবে। পর্যটকের থাকার জন্য মানসম্মত আবাসন থাকতে হবে। নিরাপদ খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নত স্যানিটেশন, জরুরি চিকিৎসা, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র, দক্ষ গাইড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সহজ ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একজন পর্যটক কোনো দেশে এসে কী অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত সেই দেশের পর্যটন ব্যবস্থার প্রকৃত পরিচয় হয়ে ওঠে। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের নতুন উচ্চতায় নিতে হবে বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে কক্সবাজারের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিশাল সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি কক্সবাজারের রয়েছে পাহাড়, দ্বীপ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় সংস্কৃতি, রাখাইন ঐতিহ্য, স্থানীয় খাবার এবং মানুষের জীবনযাপনের বৈচিত্র্য। কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে রাখলে চলবে না। আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারেও কক্সবাজারের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরতে হবে। একজন বিদেশি পর্যটক কক্সবাজারে এসে শুধু সমুদ্রসৈকত দেখে ফিরে যাবেন না। তিনি যেন পাহাড়ে যেতে পারেন, দ্বীপ ভ্রমণ করতে পারেন, স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন এবং বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা অনুভব করতে পারেন, সেই ধরনের সমন্বিত পর্যটন প্যাকেজ তৈরি করা প্রয়োজন। কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের পর্যটন প্যাকেজ তৈরি করা গেলে একজন পর্যটকের বাংলাদেশে অবস্থানের সময়ও বাড়ানো সম্ভব। চট্টগ্রাম হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম প্রবেশদ্বার বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নের কথা বলতে গেলে চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। চট্টগ্রাম একদিকে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, অন্যদিকে পাহাড়, সমুদ্র, নদী, দ্বীপ, উপকূল, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয়। কর্ণফুলী নদী, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, সীতাকুণ্ড, চন্দ্রনাথ, মিরসরাইয়ের পাহাড় ও জলপ্রপাত, বাঁশখালীর উপকূল, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিস্তৃত প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে সমন্বিত করে একটি বড় পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামকে শুধু শিল্প ও বাণিজ্যের শহর হিসেবে নয়, বাংলাদেশের পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবেও নতুন করে ভাবতে হবে। কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা কর্ণফুলী শুধু একটি নদী নয়। এটি চট্টগ্রামের ইতিহাস, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই নদীকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নৌভ্রমণ, নদীর তীরের সৌন্দর্যায়ন, সাংস্কৃতিক আয়োজন, স্থানীয় খাবার এবং চট্টগ্রামের ইতিহাসকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে কর্ণফুলী নিজেই একটি আকর্ষণীয় পর্যটন পণ্যে পরিণত হতে পারে। একজন বিদেশি পর্যটক কর্ণফুলীতে নৌভ্রমণ করবেন, চট্টগ্রামের ইতিহাস জানবেন, বন্দর দেখবেন, স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেবেন এবং পাহাড় ও সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করবেন। এমন একটি সমন্বিত পর্যটন অভিজ্ঞতা চট্টগ্রামের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে পারে প্রকৃতি ও সংস্কৃতি পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান বাংলাদেশের পর্যটন সম্পদের অন্যতম বড় ভাণ্ডার। পাহাড়, মেঘ, ঝরনা, লেক, বন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক, সংস্কৃতি ও উৎসব সব মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের প্রকৃতি ও সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটন অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব। তবে পাহাড়ি পর্যটনের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে। পর্যটনের নামে পাহাড় ও প্রকৃতি ধ্বংস নয়, বরং প্রকৃতিকে রক্ষা করেই পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে হবে। সুন্দরবন বাংলাদেশের অমূল্য পর্যটন সম্পদ সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবনের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব রয়েছে। বাঘ, হরিণ, কুমির, পাখি, নদী, খাল, গাছপালা এবং জোয়ারভাটার অনন্য জীবন সুন্দরবনকে একটি অসাধারণ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে। সুন্দরবনে পর্যটনের বিকাশের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি অবশ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেতে হবে। পর্যটকের সংখ্যা, নৌযান চলাচল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দদূষণ এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে পরিবেশবান্ধব পর্যটন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। সিলেটের চা বাগান ও হাওরেও রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা সমুদ্র ও পাহাড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সিলেটের চা বাগান, জাফলং, রাতারগুল এবং হাওরাঞ্চল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অনন্য আকর্ষণ হতে পারে। বর্ষায় হাওরের বিশাল জলরাশি এবং শুষ্ক মৌসুমে তার পরিবর্তিত রূপ পর্যটকদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। নৌভ্রমণ, স্থানীয় খাবার, লোকসংস্কৃতি এবং গ্রামীণ জীবনযাপনের সঙ্গে পর্যটকদের পরিচিত করা গেলে হাওরভিত্তিক পর্যটন একটি নতুন সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হতে পারে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে বাংলাদেশের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রাচীন মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার, জমিদারবাড়ি এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। পাহাড়পুর, মহাস্থানগড়, বাগেরহাটসহ ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যটন প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। একজন বিদেশি পর্যটক শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা দেখতে চান না। তিনি জানতে চান সেই স্থাপনার ইতিহাস, নির্মাণের গল্প, মানুষের জীবন এবং সেই সভ্যতার সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশের সম্পর্ক। তাই পর্যটনে গল্প বলার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। স্থানীয় খাবারও হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন ব্র্যান্ড বাংলাদেশের খাবারের বৈচিত্র্য বিশ্ব পর্যটনের একটি আকর্ষণীয় সম্পদ হতে পারে। চট্টগ্রামের মেজবানি, কালাভুনা, শুঁটকি ও সামুদ্রিক খাবার, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, সিলেটের বিভিন্ন খাবার, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার, বাংলাদেশের মিষ্টি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় কৃষিপণ্যকে পর্যটনের অংশ করা সম্ভব। পর্যটক একটি দেশকে শুধু চোখ দিয়ে দেখেন না, অনেক সময় খাবারের স্বাদের মধ্য দিয়েও একটি দেশকে মনে রাখেন। তাই বাংলাদেশের স্থানীয় খাবারকে পরিচ্ছন্নতা, মান এবং নান্দনিক পরিবেশনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা প্রয়োজন। পর্যটনের সুফল পৌঁছাতে হবে স্থানীয় মানুষের ঘরে পর্যটন উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শর্ত হলো স্থানীয় জনগণকে এর অংশীদার করা। একটি পর্যটনকেন্দ্রে হোটেল তৈরি হলো, রাস্তা হলো, পর্যটক এলেন, কিন্তু স্থানীয় মানুষ যদি অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত না হন, তাহলে সেই পর্যটন উন্নয়ন পূর্ণাঙ্গ অর্থে টেকসই হবে না। স্থানীয় তরুণদের পর্যটন গাইড হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। স্থানীয় নারীদের হস্তশিল্প, খাবার, হোমস্টে এবং ক্ষুদ্র পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। স্থানীয় কৃষক, জেলে, মাঝি, কারিগর এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পর্যটনের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে যাবে। তরুণরাই হতে পারেন পর্যটনের নতুন দূত বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী পর্যটন শিল্পের বড় শক্তি। বিদেশি ভাষা, পর্যটন ব্যবস্থাপনা, গাইডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফটোগ্রাফি, ভিডিও নির্মাণ এবং আতিথেয়তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের পর্যটন শিল্পে যুক্ত করা গেলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একজন দক্ষ পর্যটন গাইড শুধু একজন গাইড নন। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার একজন দূত। নারীর জন্যও খুলে যেতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের দরজা পর্যটন শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে। হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার, হোমস্টে, পর্যটন গাইড, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, অনলাইন পর্যটন ব্যবসা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের যুক্ত করা সম্ভব। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের পর্যটনকেন্দ্রিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে পর্যটন শুধু অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে না, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখবে। পর্যটনকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় খাতে পরিণত করতে হবে আধুনিক হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বিনোদনকেন্দ্র, নৌপর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, ইকো ট্যুরিজম, ওয়েলনেস পর্যটন এবং সম্মেলন পর্যটনে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ প্রক্রিয়া, দীর্ঘমেয়াদি নীতি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা গেলে পর্যটন শিল্পে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। ডিজিটাল পর্যটন হবে আগামী দিনের বাস্তবতা বিশ্বের পর্যটন ব্যবস্থা দ্রুত ডিজিটাল হচ্ছে। বাংলাদেশকেও এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে। একজন বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে আসার আগেই যেন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন, কীভাবে যাবেন, কোথায় খাবেন, কত খরচ হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে কোথায় যোগাযোগ করবেন, সেই ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, ডিজিটাল ম্যাপ, বহুভাষিক ওয়েবসাইট, পর্যটন অ্যাপ এবং ভার্চুয়াল পর্যটন নির্দেশনা বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে পারে। নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাই পর্যটনের ভিত্তি পর্যটন যতই সুন্দর হোক, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার অভাব থাকলে পর্যটকের অভিজ্ঞতা পূর্ণতা পায় না। পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকবান্ধব আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, জরুরি চিকিৎসা, উদ্ধার ব্যবস্থা, তথ্য সহায়তা, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পর্যটকের কাছে বাংলাদেশের সৌন্দর্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের আচরণ ও সেবার মানও দেশের পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠবে। পরিবেশ রক্ষা ছাড়া পর্যটনের ভবিষ্যৎ নেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন সম্পদ হচ্ছে প্রকৃতি। তাই পর্যটনের নামে পাহাড় কাটা, নদী দখল, বন ধ্বংস, সৈকত দূষণ কিংবা জীববৈচিত্র্য নষ্ট করা যাবে না। পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতি থাকবে, পর্যটক আসবেন, স্থানীয় মানুষ উপকৃত হবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও একই সৌন্দর্য উপভোগ করবে, এমন ভারসাম্যপূর্ণ পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা নদীমাতৃক বাংলাদেশকে নদীভিত্তিক পর্যটনের দেশ হিসেবেও বিশ্বের সামনে তুলে ধরা সম্ভব। কর্ণফুলী, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা, কুশিয়ারা এবং দেশের অসংখ্য নদী ও জলাভূমিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নৌভ্রমণ, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন এবং স্থানীয় জীবনযাপনের সঙ্গে পর্যটকদের পরিচিত করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কর্ণফুলী নদীকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের একটি আধুনিক নদী পর্যটন পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে এটি দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। মেডিকেল, ওয়েলনেস ও সম্মেলন পর্যটনের সম্ভাবনা পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে মেডিকেল ও ওয়েলনেস পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। একইভাবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, ব্যবসায়িক সভা, প্রদর্শনী ও করপোরেট আয়োজনের সঙ্গে পর্যটনকে যুক্ত করা সম্ভব। একজন ব্যবসায়ী বা সম্মেলনের অতিথি বাংলাদেশে এসে যদি একই সফরে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সুন্দরবন কিংবা অন্য কোনো পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণ করেন, তাহলে ব্যবসা ও পর্যটন উভয় ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হবে। পর্যটন সার্কিট গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশের পর্যটনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে আন্তঃআঞ্চলিক পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার মধ্যে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার। কক্সবাজার থেকে বান্দরবান। বান্দরবান থেকে রাঙামাটি। চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই। খুলনা থেকে সুন্দরবন ও বাগেরহাট। সিলেট থেকে জাফলং, রাতারগুল ও হাওর। ঢাকা থেকে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। এভাবে একাধিক পর্যটনকেন্দ্রকে একটি প্যাকেজে যুক্ত করা গেলে পর্যটকের বাংলাদেশে অবস্থানের সময় বাড়বে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটনের অর্থনৈতিক সুফল ছড়িয়ে পড়বে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ে নতুন বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে শুধু সস্তা পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হবে বৈচিত্র্যের দেশ হিসেবে। এটি নদীর দেশ। এটি সমুদ্রের দেশ। এটি পাহাড়ের দেশ। এটি সুন্দরবনের দেশ। এটি হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দেশ। এটি বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশ। এটি অতিথিপরায়ণ মানুষের দেশ। এই গল্পকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিশ্ব পর্যটন মেলার মাধ্যমে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, তথ্যচিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যটন সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটাতে হবে। কারণ স্থানীয় সাংবাদিকরা তাঁদের এলাকার প্রকৃতি, ইতিহাস, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গভীরভাবে তুলে ধরতে পারেন। পর্যটন উন্নয়নে গবেষণা প্রয়োজন কোন দেশের পর্যটক বাংলাদেশে আসতে চান? তাঁরা কী দেখতে চান? কতদিন থাকতে চান? কত টাকা ব্যয় করতে আগ্রহী? কোন পর্যটনকেন্দ্র তাঁদের বেশি আকর্ষণ করে? কেন অনেক বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে এসে অল্প সময়ের মধ্যে ফিরে যান? এসব প্রশ্নের উত্তর গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। পর্যটন উন্নয়নে নিয়মিত পর্যটক জরিপ, বাজার গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রবণতা বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। সামনে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের পর্যটন ভাবনায় একটি আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন রয়েছে। যেখানে কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। সুন্দরবন হবে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র। পার্বত্য চট্টগ্রাম হবে প্রকৃতি, অ্যাডভেঞ্চার ও সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটনের অন্যতম ক্ষেত্র। সিলেট হবে চা, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অনন্য গন্তব্য। চট্টগ্রাম হবে পাহাড়, সমুদ্র, নদী, বন্দর ও ঐতিহ্যের সমন্বিত পর্যটন প্রবেশদ্বার। দেশের প্রতিটি অঞ্চল তার নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিশ্ব পর্যটনের সামনে নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরবে। প্রয়োজন সম্মিলিত জাতীয় উদ্যোগ বাংলাদেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বেসরকারি বিনিয়োগকারী, পর্যটন ব্যবসায়ী, হোটেল রেস্তোরাঁ শিল্প, পরিবহন খাত, স্থানীয় জনগণ এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ। পর্যটনের জন্য প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা। প্রয়োজন পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। প্রয়োজন পর্যটনকে জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নতুন পরিচয় বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের সম্পদ তৈরি করতে হবে না। প্রকৃতি আমাদের সম্পদ দিয়েছে। আমাদের রয়েছে সমুদ্র। আমাদের রয়েছে পাহাড়। আমাদের রয়েছে নদী। আমাদের রয়েছে সুন্দরবন। আমাদের রয়েছে দ্বীপ। আমাদের রয়েছে হাওর। আমাদের রয়েছে ইতিহাস। আমাদের রয়েছে ঐতিহ্য। আমাদের রয়েছে সংস্কৃতি। আমাদের রয়েছে জীববৈচিত্র্য। আর রয়েছে মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা। এখন প্রয়োজন এই সম্পদকে আধুনিক পরিকল্পনা, বিশ্বমানের অবকাঠামো, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত কর