
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
০৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত কমিশনার জনাব হাসান মোঃ শওকত আলী মহোদয় মনসুরাবাদ পুলিশ লাইন্স পরিদর্শন করেন। এ পরিদর্শন ছিল কেবল নিয়মিত তদারকি নয়—বরং একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ, যেখানে আধুনিকতা, দক্ষতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। পরিদর্শনের শুরুতেই উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম) জনাব মোঃ শামীম হোসেন মহোদয় ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। উষ্ণ এই অভ্যর্থনা শুধু আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য এবং একটি সমন্বিত কর্মপরিবেশের প্রতিচ্ছবি। পরিদর্শনকালে কমিশনার মহোদয় মনসুরাবাদ পুলিশ লাইন্সের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট গভীর মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন। অস্ত্রাগারে গিয়ে তিনি অস্ত্র সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি বিষয়ে খোঁজখবর নেন। আধুনিক পুলিশিংয়ে K9 ইউনিটের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তিনি কুকুরগুলোর প্রশিক্ষণ, পরিচালনা ও ব্যবহারিক সক্ষমতা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে চান এবং প্রশিক্ষণের মান আরও উন্নত করার নির্দেশনা দেন। ডিবি অফিস পরিদর্শনের সময় গোয়েন্দা কার্যক্রমের গতিশীলতা, তথ্য সংগ্রহের কৌশল এবং অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বিশেষভাবে জোর দেন তথ্যভিত্তিক তদন্ত, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর। বিশতলা আবাসিক ভবন, ফোর্সেস মেস ও ক্যান্টিন পরিদর্শনের সময় পুলিশ সদস্যদের জীবনযাত্রার মান, খাদ্যব্যবস্থা ও আবাসন সুবিধা নিয়ে খোঁজ নেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন—একজন পুলিশ সদস্য যদি মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে, তবেই সে সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি আবাসন ও খাদ্যব্যবস্থার মান আরও উন্নত করার নির্দেশ দেন। জিম সেন্টার পরিদর্শনকালে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নিয়মিত ব্যায়াম ও ফিটনেস চর্চাকে বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ডাম্পিং স্টেশন ও ওয়াটার প্লান্ট পরিদর্শন করে তিনি পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে কমিশনার মহোদয় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, আধুনিক পুলিশিং কেবল আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি একটি সেবামূলক দায়িত্ব, যেখানে জনগণের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সেই আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান। পরিদর্শন শেষে তিনি সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তরিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব ওয়াহিদুল হক চৌধুরী; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) জনাব মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ; উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) জনাব মোঃ ফেরদৌস আলী চৌধুরী, বিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত); উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান প্রাং (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত); উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) জনাব শেখ শরীফুল ইসলাম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত); উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) জনাব নেছার উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সহ সিএমপির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সবশেষে বলা যায়, এই পরিদর্শন শুধু একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়—এটি ছিল ভবিষ্যতের পুলিশিং ব্যবস্থার একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। কমিশনার মহোদয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বে সিএমপি যে একটি দক্ষ, আধুনিক ও জনগণের আস্থাভাজন বাহিনীতে পরিণত হওয়ার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, মনসুরাবাদ পুলিশ লাইন্সের এই দিনটি তারই এক উজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে থাকবে।

