
অনিয়মিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো হৃদরোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ফ্যাট ও কোলেস্টেরল ধমনিতে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতাও এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে বেশি লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। পুষ্টিবিদদের মতে, নিচের ৮ ধরনের খাবার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—**১. কোমল পানীয়** ভোজনের পরে অনেকেই কোমল পানীয় পান করেন। কিন্তু প্রতি ১২ আউন্স সোডা-জাতীয় পানীয়েই থাকে প্রায় ১০ চা চামচ চিনি। নিয়মিত এসব পানীয় ওজন বাড়ানোর পাশাপাশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। কৃত্রিম চিনি ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। **২. সাদা ব্রেড ও বেশি লবণ** সাদা ব্রেডে উচ্চ কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা রক্তের সুগার দ্রুত বাড়িয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত লবণ রক্তনালিতে ক্ষতি করে এবং ব্লক তৈরি করতে পারে। দিনে ৫ গ্রাম লবণের বেশি গ্রহণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। **৩. প্রক্রিয়াজাত মাংস** সসেজ, হট ডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও লবণ। গবেষণা দেখিয়েছে, দিনে প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। **৪. ফাস্টফুড** চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং বেশি ক্যালোরি—সবই ফাস্টফুডে থাকে। এগুলো হার্ট অ্যাটাকজনিত সমস্যার অন্যতম কারণ। **৫. পিৎজা** পিৎজায় থাকে ফ্যাট, লবণ এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস। স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় এটি হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। **৬. আইসক্রিম**পরিশোধিত চিনি, ফ্যাটযুক্ত দুধ এব কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ আইসক্রিম ক্যালোরি বাড়ায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি করে। **৭. কলিজা, মগজ ও হাড়ের মজ্জা**
এই অংশগুলোতে কোলেস্টেরল বেশি থাকে। তাই যারা হৃদরোগে আক্রান্ত তাদের জন্য কলিজা, মগজ বা নেহারি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। **৮. মাছের মাথা ও ডিম** মাছের মাথা ও ডিমে থাকা এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড রক্তের লিপিড প্রোফাইল বাড়ায়, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। **শেষ কথা** বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার ও শরীরচর্চার মাধ্যমে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা সম্ভব। পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ ও জীবনধারায় পরিবর্তন আনে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো যায়। **সূত্র:** হার্ভার্ড হেলথ, কোয়ান্টাম মেথড, ওয়েবএমডি

