শিরোনাম
“সন্ত্রাসের সামনে আপসহীন ওসি আবদুর রহিম—খুলশীতে আইনের শাসনের নতুন বার্তা”চরণদ্বীপে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভাচরনদ্বীপে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভাঢাকা–কক্সবাজার আকাশপথে ভাড়ার নৈরাজ্য বন্ধ করুন | “পর্যটন রাজধানীকে জিম্মি করে বিমানভাড়া বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া যায় না” | সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডেরদূরের দেশ, কাছের মানুষ—মুনা উইলসনের সঙ্গে শারজাহ বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টার মায়াবী সাক্ষাৎ দূরের দেশ, কাছের মানুষ-দেশে সংকটের মাঝে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে সারবন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত, বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধরেলওয়ের তিন শীর্ষ পদে বড় রদবদলইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইডিবির সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সইফটিকছড়িতে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যুঃ স্বামী সহ ২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

― Advertisement ―

“সন্ত্রাসের সামনে আপসহীন ওসি আবদুর রহিম—খুলশীতে আইনের শাসনের নতুন বার্তা”

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী—আবাসিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাসের কারণে আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এই এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস,...

“আলোকের অভিভাবক: চট্টগ্রামের সাহসীপুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ”

HomeUncategorized"আলোকের অভিভাবক: চট্টগ্রামের সাহসীপুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ"

✍️ মো.কামাল উদ্দিনঃ
জন্ম হয় কিছু মানুষের বর্ণময়তার ছায়ায়,
যাদের পা ফেলার শব্দেও বাজে প্রতিশ্রুতির সুর। তারা যখন উর্দি পরে,
ক্ষমতার নয়—জনতার পাশে দাঁড়ায়,
সেই উর্দিতে ঝলমল করে দায়িত্ববোধের আলো। হাসিব আজিজ—নামটি যেন প্রহরীর মতই জেগে থাকে শহরের প্রতিটি কোণে, চোখে স্বপ্ন, বুকে সাহস, হাতে আইন—তিনিই সেই পুলিশ কমিশনার,
যিনি থানা থেকে রাস্তাঘাট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন আস্থার দূর্গ। তার পেশাদারিত্বে নিপতিত হয় ভয়, তার মানবিকতায় মাথা নত করে সম্মান। জানি, ইতিহাস কেবল বড় বড় নাম রাখে না, রাখে সেই মানুষদের,
যারা নীরবে গড়ে তোলে আগামী দিনের বিশ্বাস। কমিশনার হাসিব আজিজ ঠিক তেমনই এক নাম—যিনি পুলিশের মুখে ফিরিয়েছেন গৌরবের রেখা, আমাদের নির্ভরতার আরেক নাম, আমাদের অহংকার। যখন রাত গাঢ় হয়, তখনই এক প্রদীপ জ্বলে ওঠে—নিরাশার আঁধারে মানুষ আশার মুখ খোঁজে। ঠিক তেমন এক সময়ে, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, চট্টগ্রামের নগর জীবনে আইনশৃঙ্খলা যখন প্রশ্নবিদ্ধ, পুলিশের প্রতি জনআস্থা যখন তলানিতে—তখনই উদিত হন এক আলোর নায়ক, একজন নীরব যোদ্ধা, পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ। তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন শুধু একজন কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং এই এক কোটির বেশি মানুষের শহরে একজন আস্থার অভিভাবক, একজন নিরাপত্তার সৈনিক, একজন মনুষ্যত্বে বিশ্বাসী মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে।
শুরুতে ছিল শুধু দায়িত্ব, পরে ছিল দীপ্তি-শেখ হাসিনার দীর্ঘমেয়াদি শাসনের পতনের পর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসন চরম অস্থিরতা, বিভ্রান্তি ও মনোবলহীনতায় ভুগছিল। অনেক জায়গায় পুলিশ বাহিনী কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছিল। ঠিক তখন চট্টগ্রামের মতো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সংবেদনশীল নগরীর আইনশৃঙ্খলার ভার তুলে নেওয়া ছিল এক বিরাট দায়।
এই দুঃসময়ে পুলিশের ভাঙা ভিতকে ধরে রাখার দায়িত্ব যখন হাসিব আজিজের কাঁধে আসে, তখন তিনি কেবল প্রশাসক নন, হয়ে উঠেছিলেন অন্ধকার সময়ের আলোর কাণ্ডারি।
বাবার উত্তরাধিকার, নিজের সততার ছায়া-হাসিব আজিজের শিরায় বইছে সৎ পুলিশিং-এর উত্তরাধিকার। তাঁর বাবা আজিজুল হক চট্টগ্রামে ডিআইজি এবং পরে পুলিশ কমিশনার ও বাংলাদেশের আইজিপি ছিলেন। তিনি কখনো ক্ষমতার মোহে ভেসে যাননি, বরং হয়ে উঠেছিলেন জনতার পুলিশ—একটা নাম, যেটা উচ্চারণেই ভরসা আসে। সেই রক্তেই জন্ম নেওয়া হাসিব আজিজ প্রমাণ করেছেন—পুলিশও পারে মানবিক হতে, সততার প্রতীক হতে, ভয় নয়—বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি হতে।শৃঙ্খলার ফেরিওয়ালা এক মহানগরে-চট্টগ্রামের ১৭টি থানাকে ঘিরে ছিল ভয়াবহ অস্থিরতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, কিশোর গ্যাং, মাদক সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, বন্দরের নিরাপত্তা-সংকট—সব মিলিয়ে এক হযবরল অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে হাসিব আজিজ দায়িত্ব নেন ধীর, স্থির অথচ সাহসিকতার সাথে।
তিনি থেমে থাকেননি অফিস কক্ষে, যানজটহীন প্রটোকলে নয়—নিজে ছুটে গেছেন মাঠে, থানায়, অভিযানে। কখনো মধ্যরাতে, কখনো দূর গ্রামে—যেখানে অপরাধ লুকায়, সেখানেই উপস্থিত হয়েছেন তিনি। তারপর একে একে ভেঙেছেন অপরাধের খোলস, গড়েছেন নতুন শৃঙ্খলা।জনতার পুলিশ, অহংকারহীন এক কর্মকর্তা-
আজকাল প্রশাসনের অনেকের মধ্যেই দেখা যায় ‘আমি’সর্বস্ব চেহারা। কিন্তু হাসিব আজিজ বিনম্র, সৌম্য, অথচ দৃঢ়চেতা। সাধারণ মানুষ তাঁকে কাছে পেয়েছে, থানায় গিয়ে ‘না’ শুনেনি। তিনি পুলিশকে বুঝিয়েছেন—পুলিশের অস্ত্র নয়, মনুষ্যত্বই আসল শক্তি
থানার অফিসার ইনচার্জ থেকে সিপাহী পর্যন্ত সবাই তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। কেউ মামলা নিতে গড়িমসি করলে তিনি নিজে প্রশ্ন করেছেন—”মানুষ যখন নির্ভরতা খোঁজে, তখন আমরা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারি না।”
সফলতা যার পদচিহ্ন হয়ে আছে প্রতিটি গলিতে-তাঁর সময়কালে চট্টগ্রামে অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেফতার হয়েছে, ভয়ংকর কিশোর গ্যাং ছত্রভঙ্গ হয়েছে, মাদক চক্র ভেঙেছে, বন্দরের নিরাপত্তা পুনঃস্থাপন হয়েছে, এবং সবথেকে বড় কথা—মানুষ ফিরে পেয়েছে পুলিশের প্রতি আস্থা। এই সাহসী পুলিশ কমিশনার এমন সব অভিযান পরিচালনা করেছেন যেখানে সাফল্যের পর পুলিশের মনোবল বহুগুণে বেড়ে যায়। আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষের বিশ্বাস যে এখনো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব—তিনি তা বাস্তবে দেখিয়েছেন।পদোন্নতির দ্বারপ্রান্তে, তবু স্মৃতিতে চিরস্থায়ী
সম্প্রতি তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। যে কোনো সময় তাঁকে বিদায় নিতে হতে পারে এই মহানগরের দায়িত্ব থেকে। কিন্তু তিনি চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়ে রেখে যাবেন এমন এক অনুপম দৃষ্টান্ত, যেটি শুধুই একটি দায়িত্বের নয়—একটি ভালোবাসার, আত্মত্যাগের, এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার গল্প।
একজন মানুষের হাতে গড়ে উঠা বিশ্বাসের দুর্গ- চট্টগ্রামবাসী গর্ব করে বলবে—আমরা পেয়েছিলাম এক সত্যিকারের পুলিশ কমিশনার, যার চোখে ছিল না অহংকার, whose spine was not bent to politics, whose hands never trembled at justice. আমরা পেয়েছিলাম একজন আশার চিত্রকর, যিনি আঁকতে পেরেছিলেন নিরাপত্তার দৃশ্যপট
আমরা তাঁকে বিদায় জানাবো গর্বের সাথে, শ্রদ্ধার সাথে—কারণ আমরা জানি, পুলিশ মানে আর ভয়ের প্রতীক নয়, পুলিশের মধ্যেও একজন মানুষ থাকে—যার নাম হতে পারে হাসিব আজিজ।
লেখকঃ যুগ্ম সম্পাদক -দৈনিক ভোরের আওয়াজ, গবেষক ও টেলিভিশন উপস্থাপক।
সদস্য – পেন ইন্টারন্যাশনাল ( বিশ্ব লেখক সংগঠন)