
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বিধিমালায় ‘শাপলা’ প্রতীক না থাকায় ন্যাশনাল কনস্টিটিউশন পার্টিকে (এনসিপি) এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ইসি সচিব বলেন, “তপশিলে শাপলা প্রতীক নেই, তাই এনসিপিকে শাপলা দেওয়ার সুযোগ নেই। কমিশন নিজস্ব বিবেচনায় অন্য একটি প্রতীক দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে। শাপলা প্রসঙ্গে ইসির আগের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।” তিনি আরও জানান, কমিশন আগেই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে এবং এ বিষয়ে কোনো বিকল্প প্রস্তাব এখনো আসেনি। আরপিও (Representation of the People Order) সংশোধনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশন দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছে, এবং এখন পর্যন্ত কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় চিহ্নিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। আখতার আহমেদ বলেন, “আরপিও প্রস্তাবগুলো কমিশন পাঁচটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করেছে—যেগুলো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য, সামান্য ভাষাগত সংশোধনযোগ্য, রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া সম্ভব নয়, বিদ্যমান আইনে নির্ধারিত এবং কমিশনের নিজস্ব বিবেচনায় সংশোধনযোগ্য মনে হয়েছে।” অন্যদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০ আসনে চূড়ান্তভাবে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৭৬১টি বলে জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, “আজ আমরা চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা তৈরি করেছি। মোট কক্ষের সংখ্যা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি—এর মধ্যে পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং মহিলাদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি।” প্রাথমিকভাবে ১৪টি অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১২ হাজার ভোটকক্ষ থাকবে। প্রতিটি ভোটকক্ষে গড়ে প্রায় তিন হাজার ভোটার ভোট দেবেন বলে জানান তিনি। ইসির তথ্য অনুযায়ী, খসড়া তালিকায় ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ৬১৮টি—যা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪২ হাজার ১৪৮টির তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা কিছুটা কমে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৬টিতে দাঁড়িয়েছে, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১৭ হাজার কম।


