
মো. কামাল উদ্দিন
বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম জোনে নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন শাকিলা সুলতানা। তাঁর এই যোগদানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের ইতিহাসে রচিত হলো এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়—প্রথম নারী এসপি হিসেবে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
শাকিলা সুলতানার জন্ম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ডেপুটি বাড়িতে। তাঁর পিতা অধ্যাপক আলহাজ্ব আমিন আহমদ খান জুনু মিয়া একজন সুপরিচিত সমাজসেবক এবং চুনতি মহিলা সরকারি কলেজের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ। গর্বিত কন্যা হিসেবে শাকিলা আজ পুলিশ প্রশাসনের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শাকিলা সুলতানা মিতুর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে দেখা হয়। দীর্ঘ আলাপচারিতায় উঠে আসে তাঁর শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক বন্ধন, শিক্ষা এবং কর্মজীবনের নানা অধ্যায়। তাঁকে দেখে মনে হলো—অত্যন্ত আন্তরিক, বিনয়ী, এবং বন্ধুবৎসল একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা।
কিছুদিন আগেই দৈনিক ভোরের আওয়াজ–এ তাঁর কর্মজীবনের সাফল্য নিয়ে আমার লেখা একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি সেই লেখা পড়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং কৃতজ্ঞতা জানান। সাক্ষাৎকালে আমি তাঁর হাতে উপহারস্বরূপ তুলে দিই চট্টগ্রামের কৃতিসন্তান, নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের রূপকার ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনকে নিয়ে শাহরিয়ার খালেদের রচিত গ্রন্থ “অদম্য মনোয়ার”। বইটি তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং জানান, একসময় তিনি প্রচুর বই পড়তেন—এখন আবার সেই অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে চান।
আলাপচারিতায় শাকিলা সুলতানা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন—তিনি বলেন, আমাদের দেশের অন্যতম বড় সংকট হলো অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং আত্মনির্ভরতার অভাব। আমাদের সমাজে এখনো অনেকেই পরিবার বা অন্যদের ওপর নির্ভর করে চলেন, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি হয়নি। তিনি উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টেনে আত্মনির্ভরতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
শাকিলা সুলতানা মিতু একজন সৎ, মেধাবী ও প্রিয় পুলিশ কর্মকর্তা—যাঁর মধ্যে অহংকারের লেশমাত্র নেই। সহজতা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা তাঁকে করে তুলেছে আলাদা ও অনন্য। তাঁর পথচলা হোক আরও দীপ্তিময়—এই শুভকামনাই রইলো।

