
আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৪ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নেয়া বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় **২ হাজার ১১০ কোটি টাকার দুর্নীতি** হয়েছে বলে জানিয়েছে **ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)**। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, **২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৮৯১টি প্রকল্পে সংঘটিত দুর্নীতির আনুমানিক পরিমাণ ২৪৮.৪ মিলিয়ন ডলার**, যা টাকায় প্রায় ২ হাজার ১১০ কোটির সমান। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি আয়োজিত **‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’** শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, **রাজনৈতিক প্রভাব, যোগসাজশ ও স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ব্যাপকভাবে ঘটেছে**, অথচ তহবিল ব্যবস্থাপক সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। টিআইবির হিসাব অনুযায়ী, জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের **বার্ষিক প্রয়োজন ১২,৫০০ মিলিয়ন ডলার**, কিন্তু ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে **জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তহবিল মিলিয়ে বছরে গড়ে এসেছে মাত্র ৮৬.২ মিলিয়ন ডলার**, যা প্রয়োজনের মাত্র ০.৭ শতাংশ। এছাড়া প্রতিবেদনে দেখা যায়, **জাতীয় তহবিলের বরাদ্দ প্রতিবছর গড়ে ৮.২ শতাংশ কমেছে**, বিপরীতে **আন্তর্জাতিক তহবিলের বরাদ্দ ৪৩.৮ শতাংশ বেড়েছে**, তবে সেটিও প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। প্রকল্প বাস্তবায়নে **দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যর্থতা**ও নিয়মিত ঘটনা—৮৯১টি প্রকল্পের মধ্যে **৫৪৯টির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে**, গড়ে ৬৪৮ দিনের প্রকল্প শেষ হতে লেগেছে **১,৫১৫ দিন**, অর্থাৎ **১৩৩ শতাংশ সময় বৃদ্ধি** পেয়েছে। কিছু চার বছর মেয়াদি প্রকল্প শেষ হতে লেগেছে **১৪ বছর পর্যন্ত**। আন্তর্জাতিক তহবিলেও একই পরিস্থিতি—৫১টি প্রকল্পের মধ্যে **২১টির মেয়াদ গড়ে ৫২ শতাংশ বেড়েছে**। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক **ড. ইফতেখারুজ্জামান** বলেন, > “বাংলাদেশ প্রতিবছর জলবায়ু ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। কিন্তু ২০০৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমরা পেয়েছি মাত্র ১.২ বিলিয়ন ডলার, যা একেবারেই নগণ্য।” তিনি আরও বলেন, > “জাতীয় তহবিলের ৫৪ শতাংশ অর্থ দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অর্থ লুটপাট করেছে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠী। জবাবদিহিতা ও সুশাসনের অভাবেই এই অবস্থা।” টিআইবি মনে করে, **জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রকৃত উপকারভোগীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন কখনো সম্ভব হবে না।**


