
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নভেম্বরের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার দাবিতে রংপুরে সর্বস্তরের মানুষ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর জিলা স্কুল মোড়ে ‘সর্বস্তরের ছাত্র জনতার’ ব্যানারে ‘তিস্তার ডাক’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে মানুষ বললেন, “আর সময় নেই, নভেম্বরের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হোক।” এতে অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও তিস্তা বাঁচাও–নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। অবস্থান কর্মসূচিতে তিস্তা বাঁচাও–নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, “দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর রাজনৈতিক দলগুলো এ ইস্যুতে সরব হয়েছে এবং সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও কাজ শুরু করার কথা বলা হলেও বাস্তব পদক্ষেপ আমরা এখনও দেখতে পাচ্ছি না। আগামী জানুয়ারিতে প্রকল্প শুরু করতে হলে প্রথমে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, তিস্তা এলাকায় অফিস স্থাপন এবং ২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকার একনেকে অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষে তা সম্ভব নয়, তাই নভেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু হওয়া আবশ্যক।” জামায়াতে ইসলামের রংপুর জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি রায়হান সিরাজী বলেন, “রংপুরবাসীর সঙ্গে বারবার তামাশা করা হচ্ছে। তিস্তাপারের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যা দাবি করছে, অন্তর্বর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন করুক। বর্তমান সরকারের সময়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফল পাওয়া গেলেও রংপুরের মানুষ কেন আন্দোলন করছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ।” এনসিপির জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আলমগীর কবির বলেন, “পরিবেশ উপদেষ্টা গত ৫ ফেব্রুয়ারি কাউনিয়ার তিস্তা সেতুর কাছে সমাবেশে তিস্তাপারের মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র চলছে।” অবস্থান কর্মসূচিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মাহির ফয়সালের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির মহানগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক আলমগীর নয়ন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ এবং রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মুদাব্বির মারুফ।


