
চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ ৫ মে ২০২৫:
নৃশংসতা ও অমানবিকতার নতুন এক দৃষ্টান্ত গড়ে গেল এমটি মার্কেটাইল-২১ নামের তেলবাহী জাহাজে। চীফ ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা কামালকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, যার প্রতিবাদে আজ সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে যায় শত শত লাইটারেজ শ্রমিক। এক বুক বেদনা, চোখে ক্ষোভ আর মুখে ন্যায়বিচারের দৃঢ় দাবি নিয়ে তারা আয়োজন করে এক শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের।
বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে শ্রমিকদের আবেগ ও একাত্মতা ছিল চোখে পড়ার মতো। মোস্তফা কামাল ছিলেন একজন দক্ষ প্রকৌশলী, সহকর্মীদের কাছে নির্ভরতার প্রতীক। তার অকাল মৃত্যু শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, গোটা লাইটারেজ জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
মানববন্ধনে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড কোনো দুর্ঘটনা নয়—এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর ও কৌশলগত হত্যার বহিঃপ্রকাশ। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই দুঃসময়ে আমরা মোস্তফা কামালের পরিবারকে একা ফেলে দিতে পারি না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি—তার স্ত্রী ও সন্তানদের সকল দায়িত্ব আমরা, বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা, কাঁধে তুলে নেব। এটি আমাদের নৈতিক দায়, আমাদের সহমর্মিতার প্রকাশ।” তার এই ঘোষণায় মুহূর্তেই আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠে সমবেত জনতা। অনেকে চোখের জল লুকাতে পারেননি।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব হাসান, সদস্য আলমগীর শিকদার ও নিহতের এক সহপাঠী প্রকৌশলী মনির হোসেন। তারা বলেন, “মোস্তফা কামাল ছিলেন সৎ, পরিশ্রমী ও মানবিক মানুষ। কর্মজীবনে তার সততা ও নিষ্ঠার কারণে সবাই তাকে শ্রদ্ধা করত। কিন্তু যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তারা শুধু একজন মানুষকে হত্যা করেনি—তারা একটা পরিবারের স্বপ্ন, শ্রমিক সমাজের আস্থা, মানবতার উপর আঘাত করেছে।”
মানববন্ধনের সমাপ্তি টানেন সংগঠনের সভাপতি আবদুল করিম। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিশোধ চাই না, চাই সঠিক বিচার। কিন্তু সেই বিচার হতে হবে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক—যাতে ভবিষ্যতে কোনো মোস্তফা কামাল আর প্রাণ না হারায় নির্মমতার শিকার হয়ে।” তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, এই ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে, অপরাধীদের চিহ্নিত করে, কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।
মানববন্ধন শেষে নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সমগ্র প্রাঙ্গণে তখন নেমে আসে এক ধীর বিষণ্নতা—যেন বাতাসও থেমে গেছে মোস্তফা কামালের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে।

