শিরোনাম
ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ টেস্টার মোবারক গ্রেপ্তারযাত্রাবাড়ীতে ২১৫ গ্রাম গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারশেখ হাসিনার পতন, দেশত্যাগ, এবং ভবিষ্যতের রাজনীতিঃএক বছর আগে যে আলো দেখেছিলাম হাসিব আজিজ—চট্টগ্রামের কমিশনার থেকে অতিরিক্ত আইজিপি, এপিবিএন প্রধানসমাজের নৈতিক পরিবর্তনে সীরত মাহফিলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণএপিবিএনকে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দিতে নতুন আইন হচ্ছেবিমানবন্দর এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় একজন গ্রেপ্তারআধুনিক চিকিৎসাসেবায় নতুন আস্থার ঠিকানা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালতখন এস আলমের নাম নেওয়াই ছিল অপরাধ—আজ ফেসবুকের স্মৃতিতে ফিরে এলো আমার সেই সাহসী লেখা এস আলম গ্রুপকে বাঁচানোর সেই আর্তনাদ, চট্টগ্রামের শিল্প-অর্থনীতি ও আমার বিবেকের দায়-মরুর বুকে ভ্রমণের গল্প, শব্দে শব্দে জীবনের মুগ্ধতা

― Advertisement ―

ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ টেস্টার মোবারক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ মো. মোবারক হোসেন ওরফে টেস্টার মোবারক (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে...

**পারস্পরিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে একমত বাংলাদেশ-পাকিস্তান**

Homeঅর্থনীতি**পারস্পরিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে একমত বাংলাদেশ-পাকিস্তান**

প্রায় দুই দশক পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নবম জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন (জেইসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশ পারস্পরিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একমত হয়। ২০০৫ সালের পর এই প্রথম এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষই অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে। কৃষি, বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জ্বালানি, বিমান ও সমুদ্র যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশের প্রতিনিধি দল জানায়, কমিশনের লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতা নয়—দুটি দেশের জনগণের কল্যাণ ও আঞ্চলিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করাও এর উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি, ট্রেড, কমার্স, আইটি ও খাদ্য খাতে এমন সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে যা সরাসরি দুই দেশের জনগণের উপকারে আসবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, আঞ্চলিক সহযোগিতার দিকেও যেতে চাই। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যদি একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করে, তাহলে পুরো অঞ্চলের উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে।” বৈঠকে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে পারস্পরিক গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিমান ও সমুদ্র যোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী করার দিকেও উভয়পক্ষ আগ্রহ দেখায়। পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক বলেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারেরও কম, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার তুলনায় খুবই সামান্য। “আমাদের জনসংখ্যা বিশাল এবং অর্থনৈতিকভাবে একে অপরের পরিপূরক। আমরা চাই, দুই দেশের ট্রেড ভলিউম আরও বাড়ুক,” তিনি বলেন। তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, ওষুধ ও অন্যান্য শিল্পপণ্য আমদানির সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি আমরা কৃষি ও জ্বালানি খাতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করব।” অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই বৈঠক একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। যদি আলোচনার বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ আরও জোরদার হবে।” বৈঠক শেষে উভয়পক্ষ একে অপরের আতিথেয়তা ও সহযোগিতার প্রশংসা করে। পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল জানায়, “দীর্ঘদিন পর এই বৈঠক হওয়ায় আমরা আশাবাদী যে এটি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে। আমাদের লক্ষ্য হবে এই ইতিবাচক ধারা ধরে রেখে বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা।” বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও জানান, “জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশনের এই সভা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং পুরো অঞ্চলের সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।” তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার মতো অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সঙ্গেও একই ধরনের পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে, প্রায় দুই যুগ পর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশনের এই বৈঠক উভয় দেশের জন্য একটি ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দিয়েছে। কৃষি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের উন্নয়নই হবে এই বৈঠকের মূল অর্জন।