শিরোনাম
ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ টেস্টার মোবারক গ্রেপ্তারযাত্রাবাড়ীতে ২১৫ গ্রাম গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারশেখ হাসিনার পতন, দেশত্যাগ, এবং ভবিষ্যতের রাজনীতিঃএক বছর আগে যে আলো দেখেছিলাম হাসিব আজিজ—চট্টগ্রামের কমিশনার থেকে অতিরিক্ত আইজিপি, এপিবিএন প্রধানসমাজের নৈতিক পরিবর্তনে সীরত মাহফিলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণএপিবিএনকে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দিতে নতুন আইন হচ্ছেবিমানবন্দর এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় একজন গ্রেপ্তারআধুনিক চিকিৎসাসেবায় নতুন আস্থার ঠিকানা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালতখন এস আলমের নাম নেওয়াই ছিল অপরাধ—আজ ফেসবুকের স্মৃতিতে ফিরে এলো আমার সেই সাহসী লেখা এস আলম গ্রুপকে বাঁচানোর সেই আর্তনাদ, চট্টগ্রামের শিল্প-অর্থনীতি ও আমার বিবেকের দায়-মরুর বুকে ভ্রমণের গল্প, শব্দে শব্দে জীবনের মুগ্ধতা

― Advertisement ―

ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ টেস্টার মোবারক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ মো. মোবারক হোসেন ওরফে টেস্টার মোবারক (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে...

রাজশাহীর পদ্মার চরে মিলল বিলুপ্তপ্রায় কুমির

Homeআন্তর্জাতিকরাজশাহীর পদ্মার চরে মিলল বিলুপ্তপ্রায় কুমির

রাজশাহীর পদ্মার চরে পাখির ছবি তুলতে গিয়েছিলেন আলোকশিল্পী ইমরুল কায়েস ও উম্মে খাদিজা ইভা। কিন্তু সেখানে তারা পাখির পরিবর্তে দেখা পেলেন কুমির—মিঠাপানির কুমির, যেটিকে ২০১৫ সালে আইইউসিএন বাংলাদেশে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিল। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে। দুপুরে গরু চরাতে গিয়ে ষাটবিঘা চরের রাজু আহাম্মেদ প্রথম কুমিরটি দেখেন। কুমিরটি তখন পানিতে তিন-চার হাত দূরে ছিল। রাজু যখন ছবি তুলতে এগোচ্ছিলেন, তখন কুমির হঠাৎ পানির মধ্যে নেমে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার মুখ বের করে নিঃশ্বাস নেয়। রাজু বন বিভাগের কর্মী সোহেল রানাকে খবর দেন। পরে খবর পৌঁছায় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবিরের কাছে। তিনি আলোকচিত্রী ইমরুল কায়েসকে ফোন করেন। কায়েস ও খাদিজা রাজশাহী শহরের কাজীহাটা এলাকার বাসিন্দা। পদ্মা নদী তাদের পরিচিত জায়গা। সেদিন তারা লাল মুনিয়ার ছবি তুলতে গিয়েছিলেন। খাদিজা বলেন, “রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে ঘাটের দোকানে বসেছিলাম। ঠিক তখনই বন বিভাগের ফোন এলো। সঙ্গে সঙ্গে কুমির খুঁজতে বের হয়ে পড়লাম।” কোমরসমান পানির মধ্য দিয়ে স্যান্ডেল খুলে ক্যামেরা মাথার ওপরে তুলে পার হয়েছেন তারা। ভয় ছিল— পা পিছলে না যায়। অনেক হাঁটার পর ভারতের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় রাজুর বাড়িতে পৌঁছালেন। রাজুকে সঙ্গে নিয়ে আবার খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু প্রথমে কুমির দেখা মেলেনি। মন খারাপ করে খাদিজা গাছতলায় বসেছিলেন। ঠিক তখনই কায়েস ড্রোন উড়ালেন। প্রথমে কিছু দেখা গেল না, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে কায়েস চিৎকার করে উঠলেন, “পাগলি, কুমির!” দু’জন ছুটে গেলেন সেই দিকে। খাদিজা বলেন, “জীবনে প্রথমবার প্রকৃতিতে কুমির দেখলাম। কায়েস ভিডিও করছিলেন, আমি ছবি তুলছিলাম। মুহূর্তটা ছিল অবিশ্বাস্য।” আইইউসিএনের প্রধান গবেষক এবিএম সারোয়ার আলম (সীমান্ত দীপু) বলেন, “২০১৫ সালে মিঠাপানির কুমিরকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর পাবনা ও অন্য কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে। সম্ভবত এরা ভারতের চাম্বুল নদী থেকে এসেছে।” তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে তিন প্রজাতির কুমির রয়েছে—লোনাপানির কুমির, মিঠাপানির কুমির ও ঘড়িয়াল। রাজশাহীর পদ্মার চরে এই বিলুপ্তপ্রায় কুমিরের দেখা পাওয়া সত্যিই এক রোমাঞ্চকর বিস্ময়—প্রকৃতিই যেন জানিয়ে দিল, এই প্রজাতি এখনও বেঁচে আছে।