
মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানারধীন এলাকার মাদনাতুল উলুম আহমদ তৈয়্যেবা মাদ্রাসায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা মানবতা, শিক্ষা এবং ধর্ম—তিনটিরই মূল উদ্দেশ্যকে কলঙ্কিত করেছে। তথাকথিত হুজুরের নির্মম বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত হয়ে গেছে এক নিষ্পাপ এতিম শিশু। তার পিঠে পিঠে কাঁটার মতো লাল দাগ, ক্ষতবিক্ষত চামড়া, চোখে কালসিটে দাগ—এসব ছবিই বলে দেয়, কী ভয়াবহ নির্যাতনের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে।
এই নিষ্ঠুরতা কোনও শাস্তির নামে ঘটতে পারে না। যিনি শিক্ষকের ছদ্মবেশে এমন জঘন্য কাজ করেছেন, তিনি আসলে এক পাষণ্ড, একজন শিশু নির্যাতনকারী। বুকে হাত রেখে ভাবুন—এমন পৈশাচিক আঘাত যদি আপনার সন্তানের গায়ে পড়ত? যদি আপনার শিশুটি রাতে ঘুমাতে গিয়ে দুঃস্বপ্নে চিৎকার করে উঠত?
শিক্ষার নামে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমন অমানবিক আচরণ শিশুদের মনে আজীবন ভয়ের ছাপ ফেলে দেয়। তারা ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, মানুষ থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। আমরা কী এমন বাংলাদেশ চাই? যেখানে মাদ্রাসাগুলো নিরাপদ আশ্রয় নয় বরং রক্তাক্ত কান্নার কারাগার?
এই এতিম শিশুর আর্তনাদ কি প্রশাসনের কানে পৌঁছাবে না?
এই শিশুর চোখের জল কি আমাদের সমাজের বিবেক জাগাবে না?
অবিলম্বে এই হুজুর নামধারী বর্বর ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক, যাতে আর কোনও শিশুর গায়ে এইভাবে বেতের আঘাত না নামে। ধর্মের নামে পাপাচার ও সহিংসতা যারা ছড়ায়, তাদের রুখতেই হবে।
মানবিক বিবেচনায়, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পরিবার বা প্রতিষ্ঠান নয়—পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের।
চলুন, আমরা সবাই মিলে এই শিশুর পাশে দাঁড়াই। তার জন্য ন্যায়বিচার চাই, তার গায়ে যে নির্মম দাগগুলো পড়েছে, তার জন্য জবাব চাই।
এ যেন এক কান্নার চিৎকার—“এই যদি হয় শিক্ষক, তবে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কোথায়?”

