
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গণভোট অপরিহার্য। এ গণভোটের মাধ্যমেই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বাস্তবতা বদলে যাবে এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে। তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বললেই বদলে যাবে দেশের ইতিহাস। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসচেতনতামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ড. খালিদ হোসেন বলেন, অতীতে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র ফাঁকা থাকত, এমনকি স্কুল মাঠে ছাগল চরার দৃশ্যও দেখা গেছে। কিন্তু এবার সে চিত্র থাকবে না। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ভোটকেন্দ্রগুলো প্রাণবন্ত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচন ছিল নির্বাচনের নামে প্রহসন। এবার সেই অবস্থার অবসান হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোট কোনো নির্দিষ্ট দলের স্বার্থে নয়; এটি জনগণের ঐকমত্যের প্রতিফলন। এ বিষয়ে দেশের সব রাজনৈতিক দল গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে সম্মতি জানিয়েছে। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, জনগণ যদি মনে করে সংস্কারের প্রয়োজন নেই, তাহলে তাতেও বর্তমান সরকারের কোনো ক্ষতি হবে না। ফেব্রুয়ারির পর দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুন সরকার দেশ পরিচালনা করবে। গণভোট বর্তমান সরকারের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর তাদের গাড়ি থেকে জাতীয় পতাকা নামানো হবে এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় যুক্ত হন, তবে উপযুক্ত প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাতে হবে। নির্বাচন কমিশন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। একটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীর অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা হয়রানি, হুমকি ও মামলা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শুকুর মাহমুদ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন। সভায় সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের প্রার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


