
বৌদ্ধ তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে “বৌদ্ধ যুব উৎসব ২০২৬”। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম প্রায় ১৩০টিরও বেশি বৌদ্ধ যুব সংগঠনের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উৎসব বৌদ্ধ তরুণ সমাজে নতুন উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার করেছে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব হলে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মঙ্গলাচরণের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সম্মানিত ট্রাস্টি এবং উৎসবের প্রধান উদ্যোক্তা ও আয়োজক বাবু রুবেল বড়ুয়া–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি “রেইনবো নেশন” ধারণার আলোকে সব জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে তরুণ নেতৃত্বের বিকাশ ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে তাদের সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেন।
যুব সংগঠক প্রীতম বড়ুয়া ডালিম ও দীপান্বিতা চৌধুরী–এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৯ নির্বাচনী এলাকার প্রেক্ষাপটে বৌদ্ধ অধ্যুষিত অঞ্চলে তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জনাব আবু সুফিয়ান। তিনি বৌদ্ধ তরুণদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “ভবিষ্যতের বাংলাদেশে তরুণ নেতৃত্ব, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তার ভবিষ্যৎ” শীর্ষক সেমিনার। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন তরুণ নেতা ও উদ্যোক্তা ইসরাফিল খসরু চৌধুরী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে তরুণ নেতৃত্ব, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা অপরিহার্য। প্রযুক্তি, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় ঘটাতে পারলেই একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব—এমন মন্তব্যে তিনি উপস্থিত তরুণদের অনুপ্রাণিত করেন।
অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পালি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সুদীপ্তা বড়ুয়া, ডা. অসীম বড়ুয়া, প্রকৌশলী সীমান্ত বড়ুয়া, রোটারিয়ান সজীব বড়ুয়া ডায়মন্ড, রোটারিয়ান অমরেশ বড়ুয়া, লায়ন সোহেল বড়ুয়া, সাংবাদিক সুবল বড়ুয়া, ডা. হিমাদ্রী বড়ুয়া, ড. সৌমেন বড়ুয়া, প্রকৌশলী প্রদীপ বড়ুয়া, এডভোকেট বুলবুল বড়ুয়া, লেখক অমল বড়ুয়া, নৃত্যশিল্পী অনন্যা বড়ুয়া, ডা. কল্লোল বড়ুয়া, লায়ন ধনঞ্জয় বড়ুয়া, কীর্তনীয়া রুপায়ন বড়ুয়া ও নয়ন বড়ুয়া, অনুপম বড়ুয়া পারু, লেখক সরিৎ চৌধুরী, সংগীতশিল্পী প্রত্যয় বড়ুয়া, রতন চৌধুরী, সজল বড়ুয়া, প্রকৌশলী রনি বড়ুয়া চৌধুরী, সাংবাদিক বিপ্লব বিজয়, সুপম বড়ুয়া, নিতীশ বড়ুয়া, পিয়াল বড়ুয়া রোহান, সঞ্জয় বড়ুয়াসহ আরও অনেকে।
এছাড়াও বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি যুব, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ যুব, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ, বুড্ডিস্ট ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট (BDT), বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট কাউন্সিল, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ঐক্য ফাউন্ডেশনসহ মোট ১৩০টি বৌদ্ধ যুব ও সামাজিক সংগঠন এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে।
বৌদ্ধ যুব উৎসব ২০২৬ বৌদ্ধ তরুণ সমাজের ঐক্য, নেতৃত্ব বিকাশ ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


