
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সন্ধ্যা ৬টায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। বৈঠকটি একমাত্র বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে। এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় গণতন্ত্র মঞ্চ ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা নিজেদের মধ্যে জরুরি বৈঠকে বসেছেন। তাঁদের মতে, জুলাই জাতীয় সনদকে ঘিরে যে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেটিই মূলত কমিশনের এ বৈঠকের কারণ। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত অনুলিপি পাঠিয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর পাঠানো খসড়া সংস্করণে কোনো মৌলিক পরিবর্তন না এনে শুধুমাত্র কিছু ভাষাগত সংশোধন করা হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ তিন ভাগে বিভক্ত—প্রথম ভাগে রয়েছে সনদের পটভূমি, দ্বিতীয় ভাগে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব, আর তৃতীয় ভাগে রয়েছে বাস্তবায়নের সাত দফা অঙ্গীকারনামা। আগামী শুক্রবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নেতৃত্ব দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানে ৩০টি রাজনৈতিক দলের দুজন করে প্রতিনিধি সনদে সই করবেন। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন দল ইতোমধ্যে তাঁদের প্রতিনিধির নাম কমিশনে পাঠিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন, পুলিশ ও বিচার বিভাগ—এই ছয়টি খাতে সংস্কারের জন্য পৃথক কমিশন গঠন করে। পরবর্তীতে এসব প্রস্তাবের ওপর রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যা ইতোমধ্যে ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


