
ডেস্কঃ
চট্টগ্রাম মহানগরে অপরাধ দমনে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত অভিযানের অংশ হিসেবে সিএমপি মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ আবারও প্রমাণ করলো—আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের কারবার চালানো এখন আর সহজ নয়। ডেভিল হান্ট ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের প্রেক্ষাপটে মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত একটি নিখুঁত অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও তাজা গুলি; একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অবৈধ অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেটের একজন সক্রিয় সদস্য। এই সফল অভিযানের সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) মো. হাবিবুর রহমান—যাঁর কৌশলী পরিকল্পনা, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলেই অভিযানের প্রতিটি ধাপ ছিল নির্ভুল ও কার্যকর। মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নে তত্ত্বাবধান করেন সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তফা কামাল, এবং অভিযানের নেতৃত্ব দেন পুলিশ পরিদর্শক রমিজ আহমদ। ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জিডি নং–৪৩০ এর আলোকে মহানগর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কুয়াইশ কলেজ গেট এলাকা থেকে এক অস্ত্র ব্যবসায়ী একটি সিএনজি যোগে অস্ত্র নিয়ে পাঁচলাইশ থানাধীন বাদুরতলা অভিমুখে যাচ্ছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমানের অনুমোদন ও নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক অভিযান গ্রহণ করা হয়।
বিকাল ৪টা ০৫ মিনিটে চান্দগাঁও থানাধীন সিএনবি বালুর টাল সংলগ্ন সিটি লাইটস পেট্রোল পাম্পের সামনে কৌশলগতভাবে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম মেট্রো-থ-১৩-১৪৯০ নম্বরের একটি সিএনজি থামার সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করলে গোয়েন্দা টিমের তৎপরতায় সেটি দ্রুত আটক করা হয়। আটক সিএনজির চালক মো. আলমগীর (৪২) জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার হেফাজতে অবৈধ অস্ত্র থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার দেখানো মতে সিএনজির চালকের সিটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল (৭.৬৫), একটি ম্যাগাজিন এবং তিন রাউন্ড তাজা গুলি। এই উদ্ধার শুধু একটি অস্ত্র জব্দ নয়—বরং এটি মহানগরীতে সক্রিয় একটি অস্ত্র সিন্ডিকেটের কার্যক্রমে বড় ধরনের আঘাত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির মাধ্যমে অস্ত্রের উৎস ও সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে গোয়েন্দা তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ডিবি (উত্তর) বিভাগ অপরাধ দমনে যে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছে—তা চট্টগ্রাম মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডেভিল হান্ট অভিযানের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের সফল অভিযান অপরাধীদের জন্য স্পষ্ট বার্তা—চট্টগ্রামে অপরাধের কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই।ধৃত আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং উদ্ধারকৃত আলামত যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে।


