
মো: কামাল উদ্দিন: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ইতিহাসে এমন সময় এসেছে যখন সাধারণ মানুষ পুলিশের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। অপরাধ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে পুলিশ বাহিনীকে জনমুখী হিসেবে দেখা যেত না। সেই সংকটময় সময়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপিসি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাহসী, সৎ ও নির্ভীক পুলিশ অফিসার হাসিব আজিজ। আজ তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের দেড় বছর পূর্ণ হলো। এই এক বছরে চট্টগ্রামের মানুষ তাঁর নেতৃত্বে যে নিরাপত্তা, স্বস্তি ও আস্থা ফিরে পেয়েছে, তা নিঃসন্দেহে পুলিশের হারানো গৌরবকে পুনর্জীবিত করেছে। সাধারণ মানুষ এবং পুলিশ সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও বিশ্বাসের জাগরণ হয়েছে, যা তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় সাফল্য। হাসিব আজিজ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭১ সালের ৩০ ডিসেম্বর, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাত্র ১৪ দিন পর, শরীয়তপুর জেলার শফিপুর থানায়। স্বাধীনতার আবহে জন্ম হওয়া এই সন্তান জীবনের শুরু থেকেই বীরত্ব, দেশপ্রেম এবং দায়িত্বশীলতার চেতনা ধারন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি চারপাশের মানুষ ও সমাজের জন্য দায়িত্ববোধ শিখেছেন। এই প্রেরণা পরবর্তীতে তাঁর পেশাদার জীবনেও প্রতিফলিত হয়েছে।
১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগ দেন হাসিব আজিজ। শুরু থেকেই সততা, নিষ্ঠা এবং দায়িত্ববোধ তাঁকে আলাদা করেছে। তিনি দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত ডিআইজি পদে থেকেও কখনো দায়িত্বে কমতি দেখাননি।
সমসাময়িক অনেক জুনিয়র সহকর্মী ইতিমধ্যেই আইজিপি পদে পৌঁছেছে, কিন্তু হাসিব আজিজের সৎ ও নির্ভীক নেতৃত্ব এখনো পুলিশের মধ্যে উদ্দীপনা এবং জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। তিনি একজন নিখুঁত প্রফেশনাল, যিনি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও উদ্দীপনা ফিরিয়ে দিয়েছেন। জনমুখী নীতি এবং সততা তাঁকে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও শ্রদ্ধেয় করে তুলেছে। তবুও, এই যোগ্যতা সত্ত্বেও তিনি সময়মতো পদোন্নতি পাননি। এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে হাসিব আজিজ বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। হাসিব আজিজ শুধুমাত্র একজন পুলিশ অফিসার নন, তিনি এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। তাঁর পিতা, মরহুম এম আজিজুল হক, ছিলেন বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর একজন সৎ ও সাহসী আইজিপি। ১৯৮১–৮২ সালে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তিনি নীতির সঙ্গে আপস করেননি। পরে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই ঐতিহ্য এবং পিতার সততা ও সাহসিকতা হাসিব আজিজকে তাঁর কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা এবং জনমুখী নেতৃত্বের পথে পরিচালিত করেছে। হাসিব আজিজের ক্ষেত্রে পদোন্নতি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘকাল বৈষম্যের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৬ সালের সময়ে তার পিতা বিএনপি সরকারের পছন্দের ব্যক্তিত্ব হিসেবে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ১০ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদে নিযুক্ত হন। সেই কারণে হাসিব আজিজকে রাজনৈতিক পূর্বধারণা ও প্রভাবের কারণে সময়মতো পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়। অনেক জুনিয়র কর্মকর্তা, যারা তার তুলনায় কম যোগ্য বা অভিজ্ঞ, ইতিমধ্যেই উচ্চ পদে পৌঁছেছে। দীর্ঘকাল তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। তাকে কোনঠাসা করা হয়েছে এবং মূল্যের স্বীকৃতি থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এই দীর্ঘকালীন বাধা ও বৈষম্য তাকে কখনো পেছনে টেনে আনতে পারেনি। তিনি সততা, সাহস এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
২০২৪ সালে চট্টগ্রাম সি এমপির কমিশনার হিসেবে যোগ নেওয়ার পর হাসিব আজিজ দেখিয়েছেন—“পুলিশ ক্ষমতার নয়, পুলিশ জনতার।” তিনি চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মনোবলহীন পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও উদ্দীপনা ফিরিয়ে দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা পুনঃস্থাপন করেছেন। চট্টগ্রামের মানুষ আজ নতুনভাবে পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে তার নেতৃত্ব শুধু প্রশাসনিক নয়, জনমুখী ও ন্যায্য। হাসিব আজিজের দক্ষতা, সততা, নেতৃত্ব এবং দীর্ঘকালীন অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, তিনি দেশের সর্বোচ্চ পুলিশ পদ, আইজিপি, হওয়ার যোগ্য। তার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে পুলিশ বাহিনী পুনরায় গৌরব, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থা ফিরে পেয়েছে। দেশের অন্য জেলা ও শহরে এই নীতি ও নেতৃত্ব প্রয়োগযোগ্য। রাজনৈতিক বাধা সত্ত্বেও তিনি সততা ও দায়িত্বে কখনো কমতি দেখাননি। জনমুখী নীতি, দক্ষতা এবং সততার জন্য তিনি পুলিশের জন্য অনুপ্রেরণা এবং জনগণের জন্য নিরাপত্তা ও স্বস্তির প্রতীক। অতএব, হাসিব আজিজের আইজিপি হওয়া কেবল ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন নয়—এটি দেশের পুলিশ বাহিনীর স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য অপরিহার্য। দক্ষতা, সততা, সাহসিকতা, ন্যায্যতা এবং দীর্ঘকালীন অভিজ্ঞতা—এই সব গুণাবলী হাসিব আজিজকে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যোগ্য করে। রাজনৈতিক বাধা ও বৈষম্য সত্ত্বেও তিনি জনমুখী নেতৃত্বের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও পুলিশের মর্যাদা পুনঃস্থাপন করেছেন। এখন সময় এসেছে, দেশের স্বার্থে, জনগণের আস্থা রক্ষার জন্য এবং পুলিশের মর্যাদা পুনঃস্থাপনের জন্য হাসিব আজিজকে আইজিপি পদে পদোন্নতি দেওয়া।


