শিরোনাম
➤চট্টগ্রাম রেঞ্জে আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী অপরাধের অন্ধকারে আলোর সন্ধান, মাঠে নেমেই কঠোরতার বার্তা➤রাউজানে মানব কল্যাণে ধম্মকথার ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন➤বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি ৫৬ বছরের ঐতিহ্য, হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং বোয়ালখালীবাসীর প্রত্যাশা➤কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে চুরি-ছিনতাইসহ একাধিক মামলার আসামি হেলালসহ গ্রেপ্তার ৩➤চট্টগ্রামের স্বার্থে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে দিন | নগর পরিকল্পনার কঠিন পথে বাধা নয়, চাই সত্য, প্রমাণ ও আইনের শাসন➤উৎপাদন বাড়লে হাতের নাগালে আসতে পারে ইলিশের দাম➤মিছিল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আটক, ছাড়িয়ে নিলেন পথচারীরা➤ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নিন➤বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম➤গুলশানে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় আপস

― Advertisement ―

চট্টগ্রাম রেঞ্জে আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী অপরাধের অন্ধকারে আলোর সন্ধান, মাঠে নেমেই কঠোরতার বার্তা

মো. কামাল উদ্দিন ডেপুটি এডিটর, দি টুরিস্ট নির্বাহী সম্পাদক, চট্রল চিত্র সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সিনিয়র’স প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের মাটি যেমন সমুদ্রের বিশালতা ধারণ করে, তেমনি ধারণ করে পাহাড়ের নীরবতা,...

প্রত্যাবর্তনের ডাক: তারেক রহমান, বাংলাদেশ ও একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক সকাল

Homeজাতীয়প্রত্যাবর্তনের ডাক: তারেক রহমান, বাংলাদেশ ও একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক সকাল

প্রতিবেদন: সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু নাম আছে—যেগুলো উচ্চারিত হলেই রাজপথে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় নীরবতার পর তেমনই এক নাম আবারও আলোচনার কেন্দ্রে—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকারী এই নেতা সম্প্রতি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি দেশে ফিরতে চান, জনগণের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করতে চান এবং জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের এই ঘোষণা কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। এটি বহু বছর ধরে জমে থাকা প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের প্রকাশ এবং বর্তমান ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রতি একটি সুস্পষ্ট চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে তাঁর অবস্থান এখন জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। ২০০৮ সালের পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতায় দেশের বাইরে অবস্থান করছেন তারেক রহমান। এই সময়কালে তাঁকে ঘিরে বিতর্ক যেমন ছিল, তেমনি ছিল নীরব কৌশলও। সরাসরি রাজপথে অনুপস্থিত থাকলেও বিএনপির নীতিনির্ধারণ, আন্দোলনের রূপরেখা, দল পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, “তারেক রহমান বাইরে ছিলেন ঠিকই, কিন্তু নেতৃত্বে ছিলেন সবসময়।” এই বক্তব্য বিএনপির ভেতরে তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সবচেয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন, “আমি দেশে ফিরব। জনগণের সঙ্গে থেকেই রাজনীতি করতে চাই। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” এই বক্তব্যের পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়ায়। বর্তমান বাস্তবতায় ‘ভোটাধিকার’ শব্দটি নিজেই একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিএনপির ভেতরে ও বাইরে আলোচিত তারিখ এখন ২৫ ডিসেম্বর। দলীয় সমর্থকদের একাংশ এটিকে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের দিন হিসেবে দেখছেন। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, তবুও তারিখটি ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও আবেগ লক্ষ করা যাচ্ছে। দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, তারেক রহমান দেশে ফিরলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত থাকবে। সমর্থকদের ভাষায়, এটি কোনো প্রচলিত কর্মসূচি নয়—বরং হতে পারে ‘জনতার জোয়ার’। এক সিনিয়র বিএনপি নেতা বলেন, “এটি কোনো দলীয় শোডাউন নয়, এটি হবে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যর্থনা।”

তারেক রহমানের দেশে ফেরা মানে শুধু বিমানবন্দরে নামা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরনো মামলার মুখোমুখি হওয়া, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং অনিশ্চিত রাজনৈতিক বাস্তবতা। তবুও তাঁর বক্তব্যে পিছু হটার ইঙ্গিত নেই। বিএনপির নেতারা বলছেন, “যে নেতা ঝুঁকি নিতে জানেন না, তিনি কখনো দেশের কাণ্ডারী হতে পারেন না।” এতে একদিকে রাজনৈতিক সাহসের প্রকাশ, অন্যদিকে নেতৃত্বের প্রতি নৈতিক প্রত্যাশাও প্রতিফলিত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একাধিক স্তরে প্রভাব পড়তে পারে। এতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সমীকরণ বদলাতে পারে, বিরোধী রাজনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা তীব্র হতে পারে। এক বিশ্লেষকের ভাষায়, “তারেক রহমান ফিরলে রাজনীতি আর আগের মতো থাকবে না—এটাই বাস্তবতা।”

সমর্থকদের কাছে তারেক রহমান কেবল একজন দলীয় নেতা নন; তিনি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীক। তাঁদের বিশ্বাস, তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে গণতন্ত্রের পথে ফেরাতে, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নিতে এবং ক্ষমতার কেন্দ্রে নয়—জনগণের কাতারে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে সক্ষম। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন—ঘোষণা হোক বা প্রত্যাশা—বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতোমধ্যেই এক ঐতিহাসিক আবহ তৈরি করেছে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির ফেরা নয়; বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষ, আকাঙ্ক্ষা ও পরিবর্তনের দাবির প্রতিফলন।২৫ ডিসেম্বর সত্যিই ইতিহাসের পাতায় লেখা হবে কি না—তা সময়ই বলবে। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এই প্রত্যাবর্তনের আলোচনা ইতোমধ্যেই দেশের রাজনীতিকে একটি নতুন মোড়ের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।

এখন দেশের মানুষের চোখ একটাই প্রশ্নে—এই প্রত্যাবর্তন কি সত্যিই একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করবে?