
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর-১০ ফ্লাইওভারের ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা ওড়িয়ে আলোচনায় আসা সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. আজিজুর শেখ এবার সেই পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ৪ নম্বর নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের দেবী গ্রামের বাসিন্দা মো. রাজু শেখের ছেলে আজিজুর শেখ সরকারি বাঙলা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য। আজিজুর শেখের দাবি, তিনি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আন্দোলনের সময় তার মাথা, বুক, পিঠ, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি বুলেটের আঘাত লাগে। তিনি আরও জানান, ১৯ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি পান। তবে আন্দোলনের পর ‘জুলাই যোদ্ধা’ তালিকায় নিজের নাম না থাকা বা আলোচনায় না আসা নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই বলেও জানান। বর্তমানে কলেজের পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকার তাগিদে ঢাকার রাস্তায় সিএনজি অটোরিকশা চালাচ্ছেন আজিজুর। তার ভাষায়, সৎভাবে উপার্জন করে নিজের শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়াই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। তিনি বলেন, ‘সিএনজি চালানোর কারণে বন্ধু ও পরিচিতদের নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু আমি সেসবকে গুরুত্ব দিই না। পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই। তাই চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজের আয়ের পথ নিজেই তৈরি করেছি।’ আজিজুর জানান, এর আগে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় ফুটপাতে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় চাঁদাবাজদের কারণে সেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়ার পরও দোকান রক্ষা করতে পারেননি। পরে বাধ্য হয়ে ব্যবসা ছেড়ে সিএনজি চালানো শুরু করেন। পড়াশোনা ও উপার্জন—দুই দায়িত্ব একসঙ্গে সামলে এগিয়ে যেতে চান এই শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন পূরণ করাই এখন আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।’


