শিরোনাম
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রীসতীশ বাবু লেইনের ভাইরাল ছিনতাই: মূলহোতা সাদ্দাম গ্রেফতারআন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মানবিক পুলিশিংয়ের নতুন দিগন্ত আইসিআরসি ও এপিবিএনের যৌথ প্রশিক্ষণ: আইন প্রয়োগে মানবাধিকার, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতায় হাসিব আজিজের নেতৃত্বে নতুন ভাবনাআমার ছেলেবেলা ৬ সেই রাতগুলো আজও মনে পড়েএপিবিএন: ইতিহাসের অগ্রযাত্রায় জিয়াউর রহমান থেকে আজিজুল হক, আজিজুল হক থেকে হাসিব আজিজ একটি বাহিনীর জন্ম, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভাবনার বিবর্তন, দুই প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং জননিরাপত্তার নতুন অঙ্গীকারবৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহানগর কমিটির প্রথম সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত কালুরঘাট সেতু নির্মাণ, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনসহ ১০ দফা নাগরিক ইস্যুতে কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্তচট্টগ্রাম মেডিকেলে ইউনিট-২ চালুসহ ডেঙ্গু চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি পরিচালকের সঙ্গে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মতবিনিময় রোগী হয়রানি ও দালালচক্র বন্ধ, জনবল বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সচলের ওপর জোরযেসব কারণে বাড়ল জ্বালানি তেলের দামহামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৩০৫“ইউনিফর্মের আড়ালে যে মানুষটিকে আমি দেখেছি জাহিদুল কবির—কঠোর দায়িত্বের ভেতরে নরম এক হৃদয়ের গল্প-

― Advertisement ―

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে...

“মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: উত্তরা নয়, যেন আগুনে পোড়া জাতির হৃদয়”

HomeUncategorized"মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: উত্তরা নয়, যেন আগুনে পোড়া জাতির হৃদয়"

✍️ লিখেছেন: রবিউল হোসেনঃ
নিঃসঙ্গ আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছি আজ,
হৃদয়ের ভিতর কান্নার এক বিষণ্ণ নদী বয়ে যাচ্ছে।
প্রবাসের প্রাচুর্য আর ব্যস্ততার শহরে—
আজ আমার ভেতরের শহর ভেঙে চুরমার।
মাইলস্টোনের সেই নিষ্পাপ মুখগুলো,
যারা একদিন স্বপ্নে আকাশ ছুঁতে চেয়েছিল—তারা আজ নিঃশব্দ, নির্বাক, নিথর।
তাদের ছেঁড়া বই, ছুটে চলা জুতো, রঙিন খাতা আজ যেন বাতাসে ভেসে বেড়ায় শোকের গান হয়ে।
মা তার সন্তানের শেষ জামাটা জড়িয়ে কাঁদছে,
একজন শিক্ষক তাঁর প্রিয় ছাত্রের নামটি উচ্চারণ করে
বুক চাপড়ে বিলাপ করছেন—
আমরা  প্রবাসে বসে শুধু শুনি হাহাকার!
দূর থেকে আমরা কিছুই করতে পারি না,
শুধু এই আকুতি পৌঁছে দিতে পারি আপনাদের হৃদয়ে—
চলো, তাদের জন্য আমরা কাঁদি একসাথে।
চলো, দোয়ার হাত তুলি তাদের শান্তির জন্য- তাতে আমার কিছু কথা কিছু অনুভূতি প্রকাশ মাত্র – আমি কোন লেখক নয় বিবেকের তাগিদে লিখতে বসলাম –
২১ জুলাই, বেলা ১টা পেরুনোর কিছুক্ষণ পর—
ঢাকার উত্তরামাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নামল একটি মৃত্যুর ছায়া।
না, এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়।
এটি বাস্তব, নির্মম, বীভৎস ও হৃদয়ছেঁড়া ইতিহাস—
যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রচিত হলো রক্ত, আগুন আর ছাইয়ের অক্ষরে
একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলো শিশুদের শ্রেণিকক্ষে।
যেখানে একটু আগেই শিশুরা হোমওয়ার্ক করছিল, টিফিন ভাগাভাগি করছিল,
যেখানে মা অপেক্ষা করছিল বিকেলে ঘোরার প্রতিশ্রুতিতে,
সেই জায়গাটিই এক নিমিষে রূপ নিলো লাশের মিছিলে, অগ্নিকুণ্ডে।
৭ বছরের জুনায়েদ ভোরে বলেছিল,
“আম্মু, আজ আমি স্কুলে যাব না।”
মা আদর করে বলেছিলেন,
“না বাবা, আজ তোকে স্কুলে যেতেই হবে। ফিরলে ঘুরতে যাবো, চিকেন রান্না করবো!”
…কিন্তু সে ফিরলো না।
ফিরলো চিনতে না পারা একটি দগ্ধ শরীর হয়ে,
ফিরলো না বলা সেই ছোট্ট চিঠিটি নিয়েই—যা ব্যাগে রেখেছিল মায়ের জন্য।
▪️ কেউ চোখের সামনে বন্ধুর পুড়ে যাওয়া দেহ দেখেছে।
▪️ কেউ নিজের দেহ নিয়ে লড়াই করছে বার্ন ইউনিটে।
▪️ কেউ এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না, তাদের খেলার সাথী আজ লাশ হয়ে গেছে।
সেইসব সহপাঠী এখন নিজের হাতেই প্রিয় বন্ধুর লাশ কাঁধে তুলে নিচ্ছে।
এই দৃশ্য আমরা কি কোনোদিন ভুলতে পারবো।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক যে খবরটি আমার বুক ভেঙে দিয়েছিল—
আগুনে দগ্ধ হয়ে শিশুরা ছটফট করছিল।
“পানি… একটু পানি…”— বলে আকুতি করছিল।
আর ঠিক তখনই কিছু দোকানদার বলছে, ৪০ টাকার পানি ৬০০ টাকা।
এ কি মানুষ?
না কি এই জাতির বিবেকই পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে?
▪️ যারা গাড়ি চালায়, তারা এই শিশুদের যন্ত্রণা দেখেও জিম্মি করে টাকা নিয়েছে।
▪️ কোনো হেলিকপ্টার পাঠানো হয়নি।
▪️ জরুরি সেবা পৌঁছায়নি ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
এই কেমন রাষ্ট্র?
এই কেমন সমাজ?
শিক্ষিকা মেহরিন নেছা যখন শিশুদের বাঁচাতে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়লেন,
নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিলেন—
ঠিক তখনই এক তথাকথিত শিক্ষক মিডিয়ায় বললেন—
“আমার কিছু হয়নি, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।”
এই কি শিক্ষকতা?
এই কি মানবতা?
একটি শিক্ষকের মুখ থেকে এমন বক্তব্য জাতিকে বিভ্রান্ত করে, ব্যথিত করে, লজ্জায় ফেলেদেয়।
▪️ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেন প্রশিক্ষণ বিমান ওড়ানো হলো?
▪️ কেন নিয়ন্ত্রণ হারালো সেই বিমান?
▪️ কোথায় ছিল নিরাপত্তা বলয়, পরিকল্পনা, প্রস্তুতি?
▪️ কেন হেলিকপ্টার আসলো না? কেন পানির ট্রাক আসলো না?
এই প্রশ্নগুলোর জবাব আজ চাই—রাজপথে, আদালতে, বিবেকের কোর্টে।
সেইসব শিশুরা আজ আর শুধুই কান্না নয়—তারা প্ল্যাকার্ড হাতে রাজপথে বলছে—
“আমার বন্ধুর লাশ ফেরত চাই না, চাই বিচার!”
“শিক্ষা হোক নিরাপদ, মরণ নয়।”
“দায়ী ব্যক্তিদের বিচার না হলে ফিরবো না!”
এই দুর্ঘটনার পর সারা বিশ্বের মিডিয়ায় এই লজ্জাজনক চিত্র ছড়িয়ে পড়েছে—
▪️ শিশু পানি চাইছে, আর আমরা দাম চাইছি।
▪️ মানুষ পুড়ছে, আর আমরা ভিডিও করছি।
▪️ বাবা ছেলের দগ্ধ দেহ জড়িয়ে চিৎকার করছে, আর কেউ এগিয়ে আসছে না।
এই কি আমাদের সভ্যতা? এই কি বাংলাদেশ।
একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী হিসেবে নয়,
একজন পিতা, একজন দেশপ্রেমিক, একজন ব্যাকুল হৃদয়ের নাগরিক হিসেবে আমি বলছি—
এই ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে।
▪️ আমি নিজে শিশু সুরক্ষায় একটি তহবিল গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।
▪️ আমি রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাই—বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আইন হোক।
আমরা আজ কাঁদছি-
সারা জাতি ব্যথায় নুয়ে পড়েছে।
কিন্তু কেবল কান্না নয়, এখন প্রয়োজন দ্রুত বিচার, গণদাবি, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা।
— রবিউল হোসেন-ওমান প্রবাসী ব্যবসায়ী
বোয়ালখালীর কৃতি সন্তান
শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সদা সোচ্চার এ