শিরোনাম
২২তম স্মরণ সভায় সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা- সাংবাদিক সৈয়দ মোস্তফা জামাল ছিলেন নিরহংকারী, নীতিবান, মানবতাবাদী ও সমাজহিতৈষী মানুষসরকার বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ১৩ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে।তেলের দাম বাড়ল, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা অব্যাহতভয়াবহ আগুনে বানিয়াচং বাজারে ৯ দোকান পুড়ে ছাই“২২ এপ্রিল: জন্ম এক মানুষের, জাগরণ এক ইতিহাস—লেনিনের আলোয় বিশ্ব ও আমার দেখা”প্রজ্ঞানন্দ স্মৃতি সংসদের নতুন কমিটি গঠিত২৪ ঘণ্টায় সাত খুন: জামায়াত আমিরের ক্ষোভ, সরকারের সমালোচনাদুই আসনের নির্বাচনী নথি সংরক্ষণের নির্দেশরাজনীতির ছায়ায় শিক্ষা ক্যাম্পাস: চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে সংঘর্ষ, আতঙ্কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার দিনে অস্থিরতা-এবার ‘দম’ দেখবে সারা দেশ

― Advertisement ―

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর দূরদৃষ্টির প্রত্যাশা—চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসক হিসেবে এম এ হাশেম রাজুকে দায়িত্ব দিয়ে তৃণমূলের শক্তিকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় প্রতিষ্ঠার সময় এখনই-

Homeআন্তর্জাতিকমাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর দূরদৃষ্টির প্রত্যাশা—চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসক হিসেবে এম এ হাশেম...

-মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের হৃদস্পন্দন—চন্দনাইশ। পাহাড়, জনপদ, নদী আর সংগ্রামী মানুষের এক অদম্য ভূখণ্ড। এই জনপদের রাজনীতি কখনোই কাগুজে ছিল না; এটি ছিল রাজপথের, মানুষের, মাটির। আর সেই রাজনীতির ভেতর থেকেই উঠে আসা এক নাম—এম এ হাশেম রাজু—আজ আবার নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই আলোচনার মূল কারণ কেবল তার অতীত নয়, তার বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা। একজন নেতা হিসেবে তিনি নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলেছেন, যেখানে রাজনীতি আর জনসেবা একসূত্রে গাঁথা। তাই আজ চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট দাবি উচ্চারিত হচ্ছে—চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসক হিসেবে এম এ হাশেম রাজুকে দায়িত্ব দেওয়া হোক। তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে,এক নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা এম এ হাশেম রাজুর রাজনৈতিক জীবন কোনো শর্টকাটের গল্প নয়। এটি ধৈর্য, ত্যাগ, নির্যাতন এবং অবিচল বিশ্বাসের গল্প। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত তার পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ, কিন্তু দৃঢ়। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন রাজপথের এক সাহসী কণ্ঠ। সেই সময়ের দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে তিনি যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা আজও অনেক তরুণ কর্মীর জন্য অনুপ্রেরণা। পরবর্তীতে ১/১১-এর দুঃসময়ে, যখন অনেকেই নীরব ছিলেন, তখন তিনিই প্রথম রাস্তায় নেমে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান-এর মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি দিয়েছেন—যা তার সাহসিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। শুধু তাই নয়, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক নিপীড়নের মুখেও তিনি বারবার কারাবরণ করেছেন। ৫৭টি মিথ্যা মামলা, দীর্ঘ সময় ঘরছাড়া জীবন এসব কিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং তিনি আরও দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করেছেন—তিনি আদর্শের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতৃত্বের প্রমাণ রাজনীতিতে প্রকৃত নেতৃত্বের পরীক্ষা হয় মাঠে, নির্বাচনে, সংকটে। সেই পরীক্ষায় এম এ হাশেম রাজু সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর মনোনীত প্রার্থী জসিমউদ্দীনকে বিজয়ী করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল নির্ধারক। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা, ভোটারদের আস্থা অর্জন করা এবং প্রতিকূল পরিবেশেও সংগঠনকে সক্রিয় রাখা—এই তিনটি ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
এই বিজয় কেবল একটি আসন জয়ের ঘটনা নয়; এটি প্রমাণ করেছে—এম এ হাশেম রাজু এখনো মাঠের রাজনীতির সবচেয়ে কার্যকর সংগঠকদের একজন। আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান রাজনীতির ইতিহাসে অনেকেই সময়ের সঙ্গে আপস করে নিজেদের অবস্থান বদলেছেন। কিন্তু এম এ হাশেম রাজু সেই দলে নন। তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন—দলের আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রশ্নে তিনি আপসহীন। বিএনপিকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সরব ছিলেন। কর্ণেল অলি আহমেদের মতো বিতর্কিত রাজনৈতিক ভূমিকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না। এই দৃঢ়তা তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে। তিনি শুধু একজন সংগঠক নন; তিনি একজন আদর্শিক যোদ্ধা। কেন উপজেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি সবচেয়ে উপযুক্ত চন্দনাইশ উপজেলা আজ যেসব সমস্যার মুখোমুখি—অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, বেকারত্ব, পরিবেশগত ঝুঁকি, প্রশাসনিক দুর্বলতা—এসব মোকাবিলায় প্রয়োজন একজন অভিজ্ঞ, বাস্তবমুখী এবং জনমুখী প্রশাসক। এম এ হাশেম রাজুর মধ্যে এই তিনটি গুণই বিদ্যমান: জনসংযোগ: তিনি প্রতিটি ইউনিয়ন, প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত। অভিজ্ঞতা: ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রশাসনিক বাস্তবতা গভীরভাবে বুঝেছেন। নেতৃত্ব: সংকট মোকাবিলায় তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রমাণিত। তিনি জানেন কোথায় রাস্তা দরকার, কোথায় স্কুল, কোথায় হাসপাতাল, কোথায় কর্মসংস্থান। কারণ তিনি এই মাটির মানুষ, এই মাটির সমস্যাই তার নিজের সমস্যা। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সম্ভাবনা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি নতুনভাবে সংগঠিত হচ্ছে। এই পুনর্গঠনের সময় তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এম এ হাশেম রাজুকে চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা হবে একটি শক্তিশালী বার্তা—দল ত্যাগীদের নয়, ত্যাগীদের মূল্যায়ন করে।
এটি হবে একটি দৃষ্টান্ত, যেখানে রাজপথের সংগ্রামী নেতারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে এসে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন।
চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা চট্টগ্রামের মানুষ আজ উন্নয়ন চায়, স্থিতিশীলতা চায়, এবং সবচেয়ে বেশি চায়—নিজেদের একজন মানুষকে দায়িত্বে দেখতে। এম এ হাশেম রাজু সেই মানুষ, যিনি মানুষের দুঃখ বুঝেন, মানুষের ভাষায় কথা বলেন এবং মানুষের জন্য লড়াই করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রতি বিনীত আহ্বান—চন্দনাইশের এই পরীক্ষিত, ত্যাগী এবং নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে মূল্যায়ন করুন। তাকে উপজেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে তৃণমূলের শক্তিকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করুন। এটি শুধু একটি সিদ্ধান্ত হবে না; এটি হবে ইতিহাসের অংশ— যেখানে একজন রাজপথের যোদ্ধা, মানুষের ভালোবাসায় গড়া নেতা, প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে একটি জনপদের ভাগ্য পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় রচনা করবেন।
এম এ হাশেম রাজু—সংগ্রামের প্রতীক, আস্থার নাম, চন্দনাইশের ভবিষ্যৎ।