
-বিজয় বিপ্লবঃ
চট্টগ্রাম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শিশুদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, রঙিন সাজসজ্জা আর আনন্দঘন পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে আলহাজ্ব মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মোঃ মনজুর আলম–এর অর্থায়নে পরিচালিত এই বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সোমবার সকালে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন মোস্তফা হাকিম গ্রুপের পরিচালক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মোঃ সরোয়ার আলম। বেলুন উড়িয়ে ও প্রতীকী পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে তিনি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। পরে শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ, শারীরিক কসরত ও বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে। উদ্বোধনী বক্তব্যে আলহাজ্ব মোঃ সরোয়ার আলম বলেন, “শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলা সমান গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলার মধ্য দিয়েই শিশুরা প্রতিযোগিতা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার শিক্ষা লাভ করে। জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতার মানসিকতা অপরিহার্য হলেও তা হতে হবে মানবিক ও সহনশীল।” তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, ধৈর্য ও সততার পথে চললে জীবনে কোনো বাধাই অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুজহাত নুয়েরী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই বিদ্যালয় শুধু পাঠ্যশিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিশুদের নৈতিকতা, শারীরিক সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। তিনি সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মোঃ মনজুর আলমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁর মানবিক উদ্যোগেই দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা বিনা খরচে শিক্ষার আলো পাচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলমগীর, উপাধ্যক্ষ বাদশা আলম ও সমাজসেবক নেছার আহমদ। বক্তারা বলেন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিশুদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভবিষ্যতে নেতৃত্ব তৈরিতে সহায়ক হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক সৌরাব হোসেন, জাকির হোসেন, প্রিয়াঙ্কাসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষিকাবৃন্দ ও অভিভাবকরা। তাঁদের আন্তরিক তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা দৌড়, লং জাম্প, বল নিক্ষেপসহ বিভিন্ন খেলায় অংশ নেয়। আয়োজকরা জানান, সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মোঃ মনজুর আলমের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অবহেলিত শিশুদের শিক্ষাদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্য গড়ে তুলবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অতিথিবৃন্দ। দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। শিশুদের উচ্ছ্বাস আর অভিভাবকদের হাসিমুখে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন মানবিক শিক্ষা ও আনন্দের এক অনন্য মিলনমেলায় রূপ নেয়।


