
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে জেলা পুলিশের বিশেষ দল ৪টি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করেছে। এ সময় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১০ নভেম্বর) ভোরে আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়িতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের নাম মোঃ সাকিব (২১) ও মোঃ শাহেদ (২৭)। পুলিশ ধারণা করছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো খুনের ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছিল। একই দিন দুপুর ২টার দিকে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট বাজার সংলগ্ন আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়ির পেছনের পুকুর থেকে আরও একটি চায়নিজ রাইফেল, একটি শটগান ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই সব অস্ত্র-গুলি গত বছরের ৫ আগস্ট রাউজান থানার থেকে লুট করা হয়েছিল। পুলিশ জানায়, অস্ত্রগুলো পুকুরে প্লাস্টিকের প্যাকেটে লুকানো ছিল। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রাউজানের এক বিএনপি কর্মীকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দুই যুবকের তথ্যের ভিত্তিতে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আগে ভোরে ৪টি বিদেশি পিস্তল, ১টি রিভলভার, ৪২টি রাইফেলের গুলি, ১৯টি পিস্তলের গুলি, ১৬টি শটগান কার্তুজ, ৭টি খালি ম্যাগাজিন, ১টি রকেট ফ্লেয়ার, ২টি রামদা, ৫০টি ইয়াবা ও ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৯৬ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, পুকুরে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি গত বছর থানার থেকে লুট হয়েছিল। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাসেল বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত হতে পারে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাউজানে আবদুল হাকিম হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। পরিকল্পনাকারীদেরও আইনগত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, রাউজানে মোট ৬টি দল সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যাদের সহযোগী ও অস্ত্র ইতোমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার ও জব্দ করেছে।


