
ব্যস্ত জীবনযাত্রায় ঠিকমতো খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চা অনেকের কাছেই বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফল হিসেবে ধীরে ধীরে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়, যার মধ্যে লিভারের সমস্যা এখন বেশ সাধারণ। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—লিভারের অসুখ অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই বাড়তে থাকে, ফলে মানুষ টেরই পান না যে ভেতরে ভেতরে ক্ষতি হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, লিভার সুস্থ রাখতে সব সময় দামি ওষুধ বা কঠিন ডায়েটের প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের রান্নাঘরের খুব পরিচিত একটি সবজি—মুলা—লিভারের যত্নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতীয় পুষ্টিবিদ নামামি আগারওয়াল মুলাকে লিভারের জন্য ‘সুপারহিরো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, বিশেষ কোনো সাপ্লিমেন্ট বা ডিটক্স ড্রিংকের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত মুলা খাওয়াই লিভার ভালো রাখার জন্য যথেষ্ট উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে যাদের ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি রয়েছে। মুলার অন্যতম গুণ হলো এটি লিভার থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিকভাবে লিভারকে পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে এটি লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে যাদের লিভার অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকে, তাদের জন্য মুলা বিশেষ উপকারী।এ ছাড়া মুলায় রয়েছে ভিটামিন সি ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের প্রভাব কমায় এবং লিভারের প্রদাহ প্রতিরোধে সহায়তা করে। লিভার থেকে নিঃসৃত পিত্তরস চর্বি হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুলা পিত্তরসের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে, ফলে চর্বি হজম ভালো হয় এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমতে পারে। মুলায় থাকা গ্লুকোসিনোলেটস নামের প্রাকৃতিক উপাদান লিভারের প্রদাহ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি লিভারের ক্ষতি বাড়াতে পারে—এমন উপাদানের বিরুদ্ধেও কাজ করে। খাবারের তালিকায় মুলা যোগ করাও খুব সহজ। সকালে খালি পেটে মুলার রস পান করা যেতে পারে, আবার মুলা ভেজানো পানিও খাওয়া যায়। কাঁচা মুলা সালাদে কিংবা রান্নার বিভিন্ন পদে ব্যবহার করলেও একই উপকার পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু মুলা খেলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। লিভার সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। তবুও বলা যায়, সুস্থতার পথে যাত্রা শুরু হয় অনেক সময় আমাদের প্রতিদিনের খাবার থেকেই। তাই থালায় সামান্য পরিবর্তন এনে নিয়মিত মুলা যোগ করলেই লিভারের জন্য বড় উপকার পাওয়া সম্ভব।


