
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, এই আবেদনের জাতীয় ও আইনি গুরুত্ব বিবেচনা করে তারা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু গত পাঁচ বছরে তিনটি আলাদা দুর্নীতি মামলার মুখোমুখি। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘুষ নেওয়া, জালিয়াতি এবং আস্থাভঙ্গ, যা তিনি সবসময় অস্বীকার করেছেন। তিনি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, বিচার প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত দেখতে পারলেও ‘জাতীয় স্বার্থ’ অন্যভাবে দাবি করেছে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে নেতানিয়াহুর ‘সম্পূর্ণ ক্ষমা’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট হারজগ তখন জানান, ক্ষমা পেতে হলে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। রোববার তার আবেদনের চিঠি প্রকাশিত হয়েছে, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার তারিখ এখনও জানানো হয়নি। নেতানিয়াহু ২০২০ সালে বিচারাধীন অবস্থায় দায়িত্ব পালন করা প্রথম ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি প্রধান অভিযোগ রয়েছে: ধনী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উপহার গ্রহণের বদলে বিশেষ সুবিধা দেওয়া, একটি পত্রিকাকে ইতিবাচক সংবাদ কভারেজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং একটি বড় টেলিকম কোম্পানির মালিককে নিয়ন্ত্রক সুবিধা দিয়ে অনুকূল সংবাদ নিশ্চিত করা। বিবিসি জানিয়েছে, নেতানিয়াহু এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ‘উইচ হান্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট জনস্বার্থ বা বিশেষ পরিস্থিতি থাকলে দণ্ড মওকুফ বা সাজা লঘু করতে পারেন, এমনকি দণ্ড ঘোষণার আগে ক্ষমা দিতে পারেন। নেতানিয়াহুর লিকুদ দল ও ডানপন্থিরা সাধারণত ক্ষমার পক্ষে, তবে দেশের অনেক নাগরিক—বিশেষত বামপন্থীরা—একে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। ২০২৩ সালে বিচার বিভাগীয় সংস্কারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভও এই শঙ্কার প্রতিফলন ছিল। পরে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর পরিস্থিতি বদলায় এবং গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়।

