
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাবেক আইনজীবী মাইকা ফেটম্যান জানিয়েছেন, চলমান দুর্নীতি মামলায় দোষ স্বীকার না করলে প্রেসিডেন্ট তার প্রতি কোনো ধরনের ক্ষমা প্রদান করতে পারবেন না। রোববার (৩০ নভেম্বর) নেতানিয়াহুর দাখিল করা ক্ষমা আবেদন আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সোমবার (১ ডিসেম্বর) টাইমস অব ইসরায়েল প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেটম্যান স্পষ্ট করে বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী ক্ষমা দেওয়া হয় সেই ব্যক্তিকেই, যিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। ফেটম্যানের মন্তব্যের কিছুক্ষণ আগে তেলআবিবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে নেমেছেন অসংখ্য ইসরায়েলি নাগরিক। তারা নেতানিয়াহুর ক্ষমা আবেদনের সরাসরি প্রত্যাখ্যানের দাবি জানান। প্রেসিডেন্ট হারজগ জানিয়েছেন, তিনি আইনি পরামর্শ নেয়ার পরই সিদ্ধান্ত দেবেন এবং আপাতত কোনো শর্তযুক্ত ক্ষমার দিকে তার ঝোঁক আছে— এমন সংবাদের সত্যতা নেই। সম্ভাব্য উত্তরসূরি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও বলেছেন, নেতানিয়াহু যদি রাজনীতি ছাড়েন, তবে তিনি ক্ষমা প্রদানের পক্ষে অবস্থান নেবেন। পাঁচ বছর ধরে তিনটি দুর্নীতি মামলায় ঘুষ, জালিয়াতি ও আস্থাভঙ্গের অভিযোগে বিচারাধীন নেতানিয়াহু শুরু থেকেই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন। এ মাসের শুরুতে তিনি ঘোষণা দেন, দোষ স্বীকার করতে হলে তিনি ক্ষমা চাইবেন না। তবুও রোববার জমা দেওয়া ১১১ পৃষ্ঠার আবেদনে কোনো দোষ স্বীকার বা অনুশোচনা ছিল না; বরং ভিডিও বার্তায় তিনি মামলাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, অভিযোগ বাতিল হলে ‘জাতীয় ঐক্য’ আরও জোরদার হবে। মামলার শুরুর দিকে দুই মাস নেতানিয়াহুর পক্ষে লড়াই করা ফেটম্যানের মতে, দোষ স্বীকার ছাড়া তাকে ক্ষমা দেওয়ার পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল বা রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউশনের সুপারিশ আসার কোনো সুযোগ নেই। অতীতে যেসব ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ ছাড়াই ক্ষমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ছিল গুরুতর অসুস্থ অভিযুক্তদের জন্য— কোনো দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রীকে কখনোই এ ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়নি।
