**অর্থনীতি নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: প্রেস সচিব শফিকুল আলম**

0
134

দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন মহল ও গণমাধ্যমের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তার দাবি, সরকারের অর্জন ও বাস্তব চ্যালেঞ্জের সঠিক চিত্র তুলে ধরার বদলে অনেকেই বিকৃত তথ্য প্রচার করছেন, যা জনমনে ‘মিশ্র ও ভ্রান্ত বার্তা’ তৈরি করছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২৫’ উপস্থাপনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। দায়িত্বশীল অনুশীলনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১৬ মাসে বহু গণমাধ্যম ও আলোচক চেরি-পিক করা ডেটা ব্যবহার করে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন, যাতে প্রকৃত পরিস্থিতি বিকৃত হয়ে যায় এবং জনগণ বিভ্রান্ত হয়। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় স্বল্পসংখ্যক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বক্তব্য অতিরিক্ত গুরুত্ব পায়, অথচ দেশের বৃহৎ অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সরকারের নীতিগত অগ্রগতি আলোচনার বাইরে থেকে যায়। কিছু ব্যবসায়ী নেতার অতিরঞ্জিত মন্তব্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তাদের ভাষা এমন যে মনে হয় দেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সময়কার মতো ভয়াবহ—যা সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বাস্তবতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। চট্টগ্রাম বন্দরের অদক্ষতাকে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও চাকরি সৃষ্টির বড় বাধা উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, বন্দর দক্ষ না হলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, বন্দর অদক্ষতার কারণে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন বিপুল অর্থ ক্ষতি সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিত সহযোগিতা দিচ্ছে না। গ্যাস সংকট ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অতিরিক্ত অভিযোগ তোলা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ডেটা দেখায় বর্তমান সরকার গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়েছে। যদিও শতভাগ পূরণ সম্ভব হয়নি, তবে বাস্তব কারণ রয়েছে; কিন্তু ভাষা ব্যবহারের ধরন অনেক ক্ষেত্রে ‘সিভিক ডায়ালগ’-এর মান রক্ষা করছে না। দারিদ্র্যের হার নিয়েও ভুল ব্যাখ্যা ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেন হঠাৎ করেই দারিদ্র্য ২০ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশে পৌঁছে গেছে—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আন্তর্জাতিক ডেটা অনুযায়ী সাম্প্রতিক অর্থবছরের শেষে দারিদ্র্য ২০–২১ শতাংশের মধ্যে রয়েছে এবং চলতি বছর তা আরও কমার সম্ভাবনা আছে। শেষে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও তার অর্থনৈতিক টিম প্রতিদিন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন। কিন্তু উদ্দেশ্যমূলক মিশ্র বার্তার কারণে এসব অগ্রগতি সাধারণ মানুষের সামনে পুরোপুরি আসছে না। চ্যালেঞ্জ থাকলে তা বলা উচিত, তবে যেসব বিষয় সরকারের দায় নয়, সেগুলোও সরকারের ওপর চাপানো হচ্ছে—যা হতাশাজনক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here