মাটির ঘ্রাণে ফিরে আসা সুর—লোকজ সংগীত আমাদের আত্মপরিচয়ের অনন্ত ঠিকানা-

0
201

সম্মানিত আয়োজকবৃন্দ, প্রিয় শিল্পীসত্তা, সুরের সাধকবৃন্দ এবং লোকজ সংস্কৃতিপ্রেমী উপস্থিত সকলকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। আজকের এই শীতল সন্ধ্যায় আমরা কেবল একটি গানের আসরে জড়ো হইনি—আমরা একত্র হয়েছি আমাদের শিকড়ের কাছে ফিরে আসতে। যে শিকড় মাটির গভীরে প্রোথিত, যে শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ইতিহাস, আমাদের বেঁচে থাকার ভাষা, আমাদের আনন্দ-বেদনার সুর। “মাটির ঘ্রাণে–সুরের টানে, সুর মিলাবো লোকগানে” এই স্লোগানটি শুধু একটি বাক্য নয়; এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের ঘোষণা। লোকজ সংগীত কোনো কৃত্রিম শিল্প নয়। এটি মাঠে-ঘাটে, নদীর পাড়ে, কৃষকের ঘামে, মাঝির বৈঠার টানে, মায়ের ঘুমপাড়ানি গানে জন্ম নেওয়া এক জীবন্ত ঐতিহ্য। এই সংগীত আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে সহজ কথায় গভীর অনুভূতি প্রকাশ করতে হয়, কীভাবে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন তৈরি হয় সুরের মাধ্যমে। যুগ বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে—কিন্তু লোকজ গানের আবেদন কখনো পুরোনো হয়নি। আজকের এই দ্বৈত লোকজ গানের আড্ডায় যাঁরা কণ্ঠ দেবেন শিল্পী শহীদুল ইসলাম ও অজুফা আক্তার সাথী তাঁরা কেবল গান গাইবেন না, তাঁরা আমাদের সামনে জীবনের গল্প শোনাবেন সুরে সুরে। তাঁদের কণ্ঠে লোকজ গান মানে শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সেতুবন্ধন। একই সঙ্গে যন্ত্রীদলের প্রতিটি সদস্য তাঁদের নিজ নিজ দক্ষতায় এই আয়োজনকে পরিপূর্ণ রূপ দিচ্ছেন তবলা, বাঁশি, দোতারা, ঢোল কিংবা আধুনিক বাদ্যযন্ত্র সব মিলিয়ে এটি লোকজ ধারার এক সম্মানজনক আধুনিক উপস্থাপনা। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাতে চাই ‘সুরের ঝংকার’-এর পরিচালক মোহাম্মদ তাজউদ্দীন-কে। এমন এক সময়ে, যখন লোকজ সংস্কৃতি অনেক ক্ষেত্রেই অবহেলার শিকার, তখন তাঁর মতো মানুষরা সাহস করে বলেন—লোকজ গান এখনো প্রয়োজন, এখনো প্রাসঙ্গিক। এই আয়োজন প্রমাণ করে, সংস্কৃতি বাঁচে কিছু নিবেদিত মানুষের ভালোবাসা আর শ্রমে। সঞ্চালনায় যাঁর কণ্ঠে অনুষ্ঠান এগিয়ে যাবে, সেই লিটন চৌধুরী-কেও জানাই শুভেচ্ছা। একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার প্রতিটি পর্ব যত্ন ও মমতায় বাঁধা থাকে। আজকের এই লোকজ গানের আড্ডা আমাদের মনে করিয়ে দিক আমরা যত আধুনিকই হই না কেন, মাটির ঘ্রাণ ভুলে গেলে চলবে না। লোকজ সংগীত আমাদের শোনায় মানুষ হওয়ার গান, একসঙ্গে থাকার গান, ভালোবাসার গান। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই প্রয়াসকে সার্থক করি। শিল্পীদের ভালোবাসা দিয়ে, আয়োজকদের প্রেরণা দিয়ে, আর লোকজ সংগীতকে হৃদয়ে ধারণ করে। এই সুরই বাঁচুক, এই ঐতিহ্যই বহমান থাকুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। সবাইকে ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here