
সভাপতি সোহাগ আরেফিন, সাধারণ সম্পাদক কাদের রাজু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রুবেল নির্বাচিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজের পরিচিত সংগঠন চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (সিআরএ) দ্বিবার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর, আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সাংবাদিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য, পেশাগত সম্প্রীতি এবং প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে নির্বাচনকে ঘিরে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সৃষ্টি হয় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নির্বাচনে সভাপতি পদে সোহাগ আরেফিন, সাধারণ সম্পাদক পদে কাদের রাজু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. রুবেল নির্বাচিত হয়েছেন।
গত ৩০ অক্টোবর (শুক্রবার) চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব কার্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনে সংগঠনের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীদের সমর্থক ও সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে এক প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সদস্যদের মধ্যে যেমন ছিল উৎসবের আমেজ, তেমনি ছিল নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রত্যাশা।
নির্বাচন চলাকালে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল। পেশাগত মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংগঠনিক সংহতির যে পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে, তা নির্বাচনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
নবনির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি
নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে সোহাগ আরেফিন, সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে রাজু আহমেদ, সহসভাপতি হিসেবে আমিনুল হক শাহীন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাদের রাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এম আর মিলন ও রিদুয়ান হৃদয়, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো. রুবেল, অর্থ সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ শাকিল, সহঅর্থ সম্পাদক হিসেবে সাহেদুর রহমান মোর্শেদ, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে সাফায়েত মোরশেদ, প্রচার সম্পাদক হিসেবে রতন বড়ুয়া, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কামরুল সিফাতউল্লাহ, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ জুয়েল সিকদার, সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে এস নেজাম উদ্দীন কাদেরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে গিয়াস উদ্দিন টিটু, ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান, আপ্যায়ন সম্পাদক হিসেবে আছহাব উদ্দিন হিরো, নারী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে শরীফুন নাহার হ্যাপী এবং কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মো. রিয়াজ উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন ও অতিথিদের উপস্থিতি
নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক ইকবাল। নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রকাশক ও উপদেষ্টা সম্পাদক আয়ান শর্মা এবং দৈনিক সময়ের কাগজের আঞ্চলিক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রানা। তাঁদের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
নির্বাচনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম। নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, ফুলকলি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার এম এ সবুর এবং দৈনিক চট্টগ্রাম পোস্টের সম্পাদক মোহাম্মদ আইয়ুব।
অতিথি ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নির্বাচনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসে।
নতুন নেতৃত্বের কাছে প্রত্যাশা
নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, নতুন কমিটি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার থাকা, নবীন ও প্রবীণ সাংবাদিকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেবে।
সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশনের পেশা নয়, এটি সমাজের অসংগতি তুলে ধরা, জনস্বার্থের পক্ষে কথা বলা এবং সত্য ও ন্যায়ের অনুসন্ধানে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এ বিবেচনায় সাংবাদিকদের একটি ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর সংগঠন পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্ব সংগঠনের সদস্যদের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক, পেশাগত সহযোগিতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
সব মিলিয়ে আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সিআরএর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সংগঠনটি সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সদস্যদের।

