চট্টগ্রামে অনিক মুখার্জী নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজঃ কোথায় তিনি, কী ঘটেছে তাঁর ভাগ্যে? চকবাজার থানায় জিডি করেও মিলছে না সন্ধান, পুলিশের অনুসন্ধান কতদূর? সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের অবস্থান ও সম্ভাব্য অপরাধের দিক তদন্তের দাবি-

0
27

“আতঙ্কে স্ত্রী পুরবী মুখার্জী, বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা পরিবারের; প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও আইজিপির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা-

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন- মো.কামাল উদ্দিনঃ
একজন মানুষ কোথায় হারিয়ে গেলেন? নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাঁর আর কোনো খোঁজ নেই। তিনি কি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, অসুস্থ হয়ে কোথাও পড়ে আছেন, নাকি কোনো অপরাধচক্রের কবলে পড়েছেন? তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি? সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রশ্ন আরও গভীর হচ্ছে। অথচ উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না তাঁর পরিবার। স্বামীর ফিরে আসার অপেক্ষায় উৎকণ্ঠা আর অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্ত্রী পুরবী মুখার্জী।
চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানাধীন মেহেদীবাগ এলাকা থেকে অনিল মুখার্জী (৪০) নামে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এমনই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ৩০ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৮টার মধ্যে তিনি নিজ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন বলে তাঁর স্ত্রীর দায়ের করা সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বাসা থেকে পায়ে হেঁটে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর স্বামীকে খুঁজে পাওয়ার আশায় স্ত্রী পুরবী মুখার্জী ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর দাখিল করা ওই আবেদনের জিডি নম্বর ১৬৮২ এবং ট্র্যাকিং নম্বর BQDV66। জিডিতে তাঁর স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার সময়, স্থান, পরিচয়, শারীরিক গঠন ও যোগাযোগের প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, সাধারণ ডায়েরি করার পরও তাঁরা এখন পর্যন্ত স্বামীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য কিংবা অনুসন্ধানের দৃশ্যমান অগ্রগতি জানতে পারেননি।
এখন প্রশ্ন উঠছে, একটি সাধারণ ডায়েরি হওয়ার পর নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে পুলিশের অনুসন্ধান কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে? কোন কোন সূত্র ধরে তদন্ত চলছে? সম্ভাব্য বিপদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কতটা জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
জিডিতে যে তথ্য, সেখানেই অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
পুরবী মুখার্জীর দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামীর নাম অনিল মুখার্জী। পিতার নাম জহর মুখার্জী, মাতার নাম দীপা মুখার্জী। তাঁর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য জিডিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। জিডিতে তাঁর মানসিক অসুস্থতার কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
শারীরিক বর্ণনায় বলা হয়েছে, তাঁর উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি, ওজন প্রায় ৯০ কেজি, গায়ের রং ফর্সা, চোখ বাদামি এবং মুখমণ্ডল স্বাভাবিক আকৃতির। নিখোঁজ হওয়ার সময় তিনি কী পোশাক পরেছিলেন, সে বিষয়ে জিডির পোশাক পরিচিতির অংশে কোনো বিবরণ পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবারের কাছ থেকে সর্বশেষ পরিহিত পোশাকের তথ্য সংগ্রহ করে তা অনুসন্ধানে ব্যবহার করা জরুরি।
জিডিতে নিখোঁজ ব্যক্তির ঠিকানা হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগরীর মেহেদীবাগ এলাকার প্রান্তর এল রহমান টাওয়ার উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিকানার বিবরণে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাগ মনিরাম এলাকার আংশিক অংশ, চকবাজার থানা এবং চট্টগ্রাম জেলা উল্লেখ রয়েছে। স্ত্রী পুরবী মুখার্জীর দেওয়া যোগাযোগের মোবাইল নম্বর ০১৮১৬৮০৩১০৭।
এই তথ্যগুলো শুধু পরিচিতির জন্য নয়; নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত, সম্ভাব্য চলাচলের পথ অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
নিখোঁজের সময়সীমা নিয়ে রহস্য, সিসিটিভি ফুটেজেই মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
জিডিতে নিখোঁজ হওয়ার সম্ভাব্য সময় হিসেবে ২৯ অক্টোবর রাত ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ৩০ অক্টোবর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ ঠিক কখন তিনি বাসা থেকে বের হয়েছেন, তা এখনো নির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এই সময়সীমাকে কেন্দ্র করে মেহেদীবাগ এলাকার প্রবেশপথ, আশপাশের সড়ক, ভবন, দোকানপাট, বিপণিবিতান এবং গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা জরুরি। তিনি কোন দিকে গিয়েছেন, একা ছিলেন কি না, কোনো যানবাহনে উঠেছেন কি না কিংবা কারও সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর ক্যামেরার ফুটেজ থেকে পাওয়া যেতে পারে।
বিশেষ করে সময়ের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় দ্রুত তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলামত হারিয়ে যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
দুর্ঘটনা, অসুস্থতা নাকি অপরাধের শিকার?
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তিনি স্বেচ্ছায় কোথাও চলে গেছেন, অসুস্থ হয়ে কোনো স্থানে অবস্থান করছেন, দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, নাকি কোনো অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে—কোনোটিই এখনো নিশ্চিত নয়।
তবে প্রতিটি সম্ভাবনাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপহরণ, জোরপূর্বক আটকে রাখা, ছিনতাই কিংবা অন্য কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা উচিত।
অনিল মুখার্জীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ সক্রিয় অবস্থান, প্রাসঙ্গিক কল ডিটেইলস এবং যোগাযোগের তথ্য আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে পরিবারের কাছ থেকে তাঁর সাম্প্রতিক ছবি, ব্যবহৃত পোশাকের বিবরণ, সর্বশেষ কথোপকথন এবং ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করে অনুসন্ধানের পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য স্থানে তাঁর পরিচয় ও শারীরিক বর্ণনা দিয়ে খোঁজ নেওয়াও জরুরি।
সাধারণ ডায়েরি হয়েছে, এরপর পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?
এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সাধারণ ডায়েরি করার পর অনুসন্ধানের অগ্রগতি। পরিবারের অভিযোগ, তাঁরা এখনো প্রত্যাশিত অগ্রগতি সম্পর্কে সন্তোষজনক তথ্য পাননি। বিষয়টি সত্য হলে তা সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
একজন নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে বিষয়টি অবহিত করেছেন। জিডি নম্বর ১৬৮২, ট্র্যাকিং নম্বর BQDV66—সব তথ্যই পুলিশের নথিতে রয়েছে। এরপর অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে? কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তে কোন কোন সূত্র যাচাই করা হয়েছে? পরিবারকে অনুসন্ধানের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হচ্ছে কি?
এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।
সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা পুলিশের প্রাথমিক প্রশাসনিক দায়িত্ব। কিন্তু নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনো অপরাধের সন্দেহ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সিএমপি কমিশনারের কাছে জনস্বার্থে কয়েকটি প্রশ্ন
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, সংশ্লিষ্ট উপকমিশনার, চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ এবং গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করা প্রয়োজন।
প্রথমত, ৩০ অক্টোবর সাধারণ ডায়েরি হওয়ার পর অনিল মুখার্জীর সন্ধানে কী ধরনের অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে?
দ্বিতীয়ত, নিখোঁজ হওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে কি?
তৃতীয়ত, তাঁর মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ও প্রাসঙ্গিক যোগাযোগের তথ্য আইনানুগভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি?
চতুর্থত, তাঁর পরিচিতজন, প্রতিবেশী, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং সর্বশেষ যাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি?
পঞ্চমত, বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর পরিচয় দিয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে কি?
ষষ্ঠত, পরিবারের উদ্বেগ ও অনুসন্ধানের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে কি?
সপ্তমত, ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় বিশেষ অনুসন্ধান দল বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে কি?
এসব প্রশ্ন কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিব্রত করার জন্য নয়। বরং একজন নিখোঁজ নাগরিককে খুঁজে বের করা এবং তাঁর পরিবারের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণের স্বার্থেই এগুলো উত্থাপন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও অনুসন্ধানের অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরা হলে জনমনে আস্থা বাড়বে।
আতঙ্কে পরিবার, যথাসময়ে উদ্ধার না হলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা
অনিল মুখার্জীর স্ত্রী পুরবী মুখার্জী ও পরিবারের সদস্যরা এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। স্বামীর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর নিরাপত্তাহীনতা। পরিবারের আশঙ্কা, যথাসময়ে তাঁকে খুঁজে বের করা সম্ভব না হলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি ঘটে যেতে পারে।
এই আশঙ্কাকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। আবার কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে আগাম সিদ্ধান্তে পৌঁছানোরও সুযোগ নেই। প্রয়োজন নিরপেক্ষ, দ্রুত ও পেশাদার অনুসন্ধান।
একটি পরিবার যখন তার প্রিয় মানুষটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের মানবিক ও পেশাগত দায়িত্ব। পরিবারের সদস্যদের বারবার বিভিন্ন জায়গায় ছুটতে বাধ্য না করে অনুসন্ধানের দায়িত্বশীল সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
চট্টগ্রামের এই নিখোঁজের ঘটনাটি মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত জরুরি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
চকবাজার থানায় দায়ের করা জিডি নম্বর ১৬৮২-এর ভিত্তিতে অনুসন্ধান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, প্রয়োজনে বিশেষ তদন্ত ও অনুসন্ধান দল গঠন, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ, মোবাইল ফোনের প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পুলিশ ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে পরিবারের অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে কোথাও দায়িত্বে অবহেলা বা অযৌক্তিক বিলম্ব হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি: আশ্বাস নয়, কার্যকর অনুসন্ধান চাই
আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগাম দায়ী করতে চাই না। আমরা চাই, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হোক। অনিল মুখার্জী কোথায় আছেন, কী পরিস্থিতিতে আছেন এবং তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক।
আমরা চাই, চকবাজার থানা ও সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখুক। অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হোক, পরিবারকে নিয়মিত অগ্রগতি জানানো হোক এবং প্রয়োজনীয় সব প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।
একটি সাধারণ ডায়েরি যেন কেবল একটি নম্বর হয়ে না থাকে। সেটি যেন একজন নিখোঁজ নাগরিককে খুঁজে বের করার কার্যকর অনুসন্ধানের ভিত্তি হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন একটাই—অনিল মুখার্জী কোথায়? তাঁর নিখোঁজ হওয়ার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের অনুসন্ধান কতদূর?
একজন স্ত্রী স্বামীর অপেক্ষায়, একটি পরিবার অজানা আতঙ্কে, আর রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এখন মানুষের প্রত্যাশা একটি—দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ।
আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক আশ্বাস চাই না, চাই বাস্তব অনুসন্ধান। কোনো বিলম্বিত তৎপরতা চাই না, চাই অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ। আমরা চাই, অনিল মুখার্জী জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে আসুন। একটি পরিবারের আর্তনাদ যেন দাপ্তরিক ব্যস্ততার আড়ালে চাপা না পড়ে। একজন নাগরিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা, পুলিশের পেশাদারত্ব এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিরও পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই কার্যকর ভূমিকার পরিচয় দিতে হবে। নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী পুরবী মুখার্জীর চকবাজার থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি, জিডি নম্বর ১৬৮২, তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ট্র্যাকিং নম্বর BQDV66 এবং পরিবারের দেওয়া তথ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here