পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মোংলা বন্দরের কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত

0
19

অভিযুক্তের নামে বরাদ্দ আবাসিক ফ্ল্যাটও বাতিল, গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা

পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের করা মামলার পর অভিযুক্তকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাঁর নামে বরাদ্দ আবাসিক ফ্ল্যাটও বাতিল করা হয়েছে।

অভিযুক্তের নাম ইয়ার মো. সুমির। তিনি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিভিল অ্যান্ড হাইড্রোলিক্স বিভাগের সিনিয়র আউটডোর অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও অভিযুক্ত একই আবাসিক এলাকায় পাশাপাশি বাসায় বসবাস করতেন। গত ২৫ অক্টোবর শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সুমিরের বিরুদ্ধে। পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনাটি পরিবারের নজরে আসে। এ বিষয়ে শিশুর পরিবার মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগও দেয়।

পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯১-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আরিফ বিল্লাহ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী কেবল খোরাকি ভাতা পাবেন। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।

অন্যদিকে, পৃথক আদেশে বন্দরের আবাসিক ভবনে অভিযুক্তের নামে বরাদ্দ করা ফ্ল্যাটটিও বাতিল করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইয়ার মো. সুমির পলাতক রয়েছেন। তিনি হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং পরিবার নিয়ে বন্দরের আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের এক কর্মচারী দাবি করেন, শিশুটিকে এর আগেও নির্যাতন করেছিলেন অভিযুক্ত। আগের ঘটনায় ভয়ে শিশুটি কাউকে কিছু জানায়নি। এবার অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (তদন্ত) দায়িত্বে থাকা মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, বন্দরের এক কর্মচারীর শিশুকন্যাকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আরিফ বিল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সুশাসন বজায় রাখতে শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তাঁর নামে বরাদ্দ আবাসিক বাসা বাতিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপরাধকে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রশ্রয় দেবে না বলেও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here