শিরোনাম
➤চট্টগ্রামের স্বার্থে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে দিন | নগর পরিকল্পনার কঠিন পথে বাধা নয়, চাই সত্য, প্রমাণ ও আইনের শাসন➤উৎপাদন বাড়লে হাতের নাগালে আসতে পারে ইলিশের দাম➤মিছিল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আটক, ছাড়িয়ে নিলেন পথচারীরা➤ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নিন➤বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম➤গুলশানে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় আপস➤“ঝড়, বিতর্ক ও প্রত্যাবর্তন: কোতোয়ালী পেরিয়ে গুলশানে আবু জায়েদ নাজমুন নূর-একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নের সবচেয়ে শক্ত জবাব -নতুন দায়িত্ব, নতুন আস্থা, নতুন অধ্যায়””➤ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ➤রাষ্ট্রীয় পুলিশ পদকের স্বীকৃতি পাচ্ছেন বাবুল আজাদ কঠিন সময়ে পাহাড়তলী থেকে ডবলমুরিং, চকবাজার হয়ে ডিবিতে; সাহস, মেধা ও পেশাদারিত্বে উজ্জ্বল এক পুলিশ কর্মকর্তার পথচলা-➤জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

― Advertisement ―

চট্টগ্রামের স্বার্থে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে দিন | নগর পরিকল্পনার কঠিন পথে বাধা নয়, চাই সত্য, প্রমাণ ও আইনের শাসন

মো. কামাল উদ্দিন:চট্টগ্রামকে ভালোবাসি বললেই চট্টগ্রামের জন্য কাজ করা হয় না। চট্টগ্রামের জন্য কাজ করতে হলে অনেক সময় জনপ্রিয়তার পথ ছেড়ে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে...

নতুন পে-স্কেল: কোন গ্রেডে কত ইনক্রিমেন্ট, কেমন হবে মূল বেতন?

Homeজাতীয়নতুন পে-স্কেল: কোন গ্রেডে কত ইনক্রিমেন্ট, কেমন হবে মূল বেতন?

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে নতুন বেতন কাঠামো। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে শুধু গ্রেড নয়, কর্মচারীদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিকেও গুরুত্ব দিয়ে বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেতে পারেন। এরই মধ্যে পে-স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বর্তমানে সব গ্রেডে প্রায় একই হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি দেওয়ার পদ্ধতি থেকে সরে আসছে সরকার। নতুন কাঠামোতে তুলনামূলকভাবে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে নবম পে-স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সচিব কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আইনি যাচাই-বাছাই এবং প্রজ্ঞাপন জারির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত বেতন ও সম্ভাব্য বকেয়া অর্থ সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে হাতে পেতে পারেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে তিন ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও বর্তমানে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নতুন পে-স্কেল কার্যকরের পর যেন কোনো আইনি বা কারিগরি জটিলতা তৈরি না হয়, সেজন্য খসড়া প্রজ্ঞাপনের আইনি যাচাই, বিধিমালা সংশোধন এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত হালনাগাদের কাজও এগিয়ে চলছে। জানা গেছে, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। তবে নতুন খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। বেতন বৃদ্ধির এ নতুন নীতিমালার পেছনে সরকারের পরিচালিত একটি বিস্তৃত জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জরিপে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দেন। এ ছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ রাখার বিষয়ে আলোচনা করছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪। বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রেডে ভাতা বৃদ্ধিরও প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার ওপর নির্ভরশীল নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি ভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।