শিরোনাম
➤চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা স্মারকলিপি নাগরিক উদ্যোগকে স্বাগত কবীর ভূঁইয়ার, যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান➤নদী আছে, শুধু নেই প্রাণ➤পুরো ঘটনা জেনে সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্য করা উচিত ছিল: রাশেদ খান➤বিশেষ প্রতিবেদন দি টুরিস্ট ও চট্রল চিত্র বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের নতুন স্বপ্ন বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিতে চান তিনি কক্সবাজার থেকে সুন্দরবন, চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর, কর্ণফুলী থেকে সিলেটের চা বাগান, পর্যটনকে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির শক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় মো. কামাল উদ্দিন ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিবছর এই দিবস পালিত হয়। পর্যটন যে শুধু মানুষের অবকাশযাপন কিংবা বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং একটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, বিশ্ব পর্যটন দিবস সেই বার্তাই সামনে নিয়ে আসে। বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব পর্যটন দিবসের তাৎপর্য আরও গভীর। কারণ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, নদী, সমুদ্র, পাহাড়, বন, দ্বীপ, হাওর, জীববৈচিত্র্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, লোকসংস্কৃতি এবং মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তায় বাংলাদেশ একটি অসাধারণ পর্যটনভূমি। একদিকে কক্সবাজারের বিশাল সমুদ্রসৈকত, অন্যদিকে সুন্দরবনের গহিন অরণ্য। কোথাও পার্বত্য চট্টগ্রামের মেঘঢাকা পাহাড়, কোথাও সিলেটের সবুজ চা বাগান। কোথাও কুয়াকাটার সমুদ্র, কোথাও হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি। আবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সভ্যতার নানা নিদর্শন। এই বিশাল সম্ভাবনাকে আধুনিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, বিশ্বমানের সেবা এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণার মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বাংলাদেশের পর্যটনকে সেই বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখতে চান। তাঁর পর্যটন ভাবনায় পর্যটন শুধু ভ্রমণ কিংবা বিনোদনের বিষয় নয়। পর্যটন হতে পারে কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের নতুন দ্বার, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি সম্ভাবনাময় খাত এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিচয় তুলে ধরার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। বিশ্ব পর্যটন দিবসে চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের পর্যটন ভাবনা চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের ভাবনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশের পর্যটনকে প্রচলিত ধারণার সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে একটি আধুনিক, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, রুচিসম্মত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যটন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা। একটি পর্যটনকেন্দ্র শুধু সুন্দর হলেই পর্যটন উন্নত হয় না। সেখানে যাওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হতে হবে। পর্যটকের থাকার জন্য মানসম্মত আবাসন থাকতে হবে। নিরাপদ খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নত স্যানিটেশন, জরুরি চিকিৎসা, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র, দক্ষ গাইড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সহজ ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একজন পর্যটক কোনো দেশে এসে কী অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত সেই দেশের পর্যটন ব্যবস্থার প্রকৃত পরিচয় হয়ে ওঠে। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের নতুন উচ্চতায় নিতে হবে বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে কক্সবাজারের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিশাল সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি কক্সবাজারের রয়েছে পাহাড়, দ্বীপ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় সংস্কৃতি, রাখাইন ঐতিহ্য, স্থানীয় খাবার এবং মানুষের জীবনযাপনের বৈচিত্র্য। কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে রাখলে চলবে না। আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারেও কক্সবাজারের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরতে হবে। একজন বিদেশি পর্যটক কক্সবাজারে এসে শুধু সমুদ্রসৈকত দেখে ফিরে যাবেন না। তিনি যেন পাহাড়ে যেতে পারেন, দ্বীপ ভ্রমণ করতে পারেন, স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন এবং বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা অনুভব করতে পারেন, সেই ধরনের সমন্বিত পর্যটন প্যাকেজ তৈরি করা প্রয়োজন। কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের পর্যটন প্যাকেজ তৈরি করা গেলে একজন পর্যটকের বাংলাদেশে অবস্থানের সময়ও বাড়ানো সম্ভব। চট্টগ্রাম হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম প্রবেশদ্বার বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নের কথা বলতে গেলে চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। চট্টগ্রাম একদিকে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, অন্যদিকে পাহাড়, সমুদ্র, নদী, দ্বীপ, উপকূল, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয়। কর্ণফুলী নদী, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, সীতাকুণ্ড, চন্দ্রনাথ, মিরসরাইয়ের পাহাড় ও জলপ্রপাত, বাঁশখালীর উপকূল, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিস্তৃত প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে সমন্বিত করে একটি বড় পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামকে শুধু শিল্প ও বাণিজ্যের শহর হিসেবে নয়, বাংলাদেশের পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবেও নতুন করে ভাবতে হবে। কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা কর্ণফুলী শুধু একটি নদী নয়। এটি চট্টগ্রামের ইতিহাস, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই নদীকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নৌভ্রমণ, নদীর তীরের সৌন্দর্যায়ন, সাংস্কৃতিক আয়োজন, স্থানীয় খাবার এবং চট্টগ্রামের ইতিহাসকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে কর্ণফুলী নিজেই একটি আকর্ষণীয় পর্যটন পণ্যে পরিণত হতে পারে। একজন বিদেশি পর্যটক কর্ণফুলীতে নৌভ্রমণ করবেন, চট্টগ্রামের ইতিহাস জানবেন, বন্দর দেখবেন, স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেবেন এবং পাহাড় ও সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করবেন। এমন একটি সমন্বিত পর্যটন অভিজ্ঞতা চট্টগ্রামের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে পারে প্রকৃতি ও সংস্কৃতি পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান বাংলাদেশের পর্যটন সম্পদের অন্যতম বড় ভাণ্ডার। পাহাড়, মেঘ, ঝরনা, লেক, বন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক, সংস্কৃতি ও উৎসব সব মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের প্রকৃতি ও সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটন অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব। তবে পাহাড়ি পর্যটনের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে। পর্যটনের নামে পাহাড় ও প্রকৃতি ধ্বংস নয়, বরং প্রকৃতিকে রক্ষা করেই পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে হবে। সুন্দরবন বাংলাদেশের অমূল্য পর্যটন সম্পদ সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবনের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব রয়েছে। বাঘ, হরিণ, কুমির, পাখি, নদী, খাল, গাছপালা এবং জোয়ারভাটার অনন্য জীবন সুন্দরবনকে একটি অসাধারণ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে। সুন্দরবনে পর্যটনের বিকাশের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি অবশ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেতে হবে। পর্যটকের সংখ্যা, নৌযান চলাচল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দদূষণ এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে পরিবেশবান্ধব পর্যটন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। সিলেটের চা বাগান ও হাওরেও রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা সমুদ্র ও পাহাড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সিলেটের চা বাগান, জাফলং, রাতারগুল এবং হাওরাঞ্চল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অনন্য আকর্ষণ হতে পারে। বর্ষায় হাওরের বিশাল জলরাশি এবং শুষ্ক মৌসুমে তার পরিবর্তিত রূপ পর্যটকদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। নৌভ্রমণ, স্থানীয় খাবার, লোকসংস্কৃতি এবং গ্রামীণ জীবনযাপনের সঙ্গে পর্যটকদের পরিচিত করা গেলে হাওরভিত্তিক পর্যটন একটি নতুন সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হতে পারে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে বাংলাদেশের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রাচীন মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার, জমিদারবাড়ি এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। পাহাড়পুর, মহাস্থানগড়, বাগেরহাটসহ ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যটন প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। একজন বিদেশি পর্যটক শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা দেখতে চান না। তিনি জানতে চান সেই স্থাপনার ইতিহাস, নির্মাণের গল্প, মানুষের জীবন এবং সেই সভ্যতার সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশের সম্পর্ক। তাই পর্যটনে গল্প বলার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। স্থানীয় খাবারও হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন ব্র্যান্ড বাংলাদেশের খাবারের বৈচিত্র্য বিশ্ব পর্যটনের একটি আকর্ষণীয় সম্পদ হতে পারে। চট্টগ্রামের মেজবানি, কালাভুনা, শুঁটকি ও সামুদ্রিক খাবার, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, সিলেটের বিভিন্ন খাবার, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার, বাংলাদেশের মিষ্টি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় কৃষিপণ্যকে পর্যটনের অংশ করা সম্ভব। পর্যটক একটি দেশকে শুধু চোখ দিয়ে দেখেন না, অনেক সময় খাবারের স্বাদের মধ্য দিয়েও একটি দেশকে মনে রাখেন। তাই বাংলাদেশের স্থানীয় খাবারকে পরিচ্ছন্নতা, মান এবং নান্দনিক পরিবেশনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা প্রয়োজন। পর্যটনের সুফল পৌঁছাতে হবে স্থানীয় মানুষের ঘরে পর্যটন উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শর্ত হলো স্থানীয় জনগণকে এর অংশীদার করা। একটি পর্যটনকেন্দ্রে হোটেল তৈরি হলো, রাস্তা হলো, পর্যটক এলেন, কিন্তু স্থানীয় মানুষ যদি অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত না হন, তাহলে সেই পর্যটন উন্নয়ন পূর্ণাঙ্গ অর্থে টেকসই হবে না। স্থানীয় তরুণদের পর্যটন গাইড হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। স্থানীয় নারীদের হস্তশিল্প, খাবার, হোমস্টে এবং ক্ষুদ্র পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। স্থানীয় কৃষক, জেলে, মাঝি, কারিগর এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পর্যটনের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে যাবে। তরুণরাই হতে পারেন পর্যটনের নতুন দূত বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী পর্যটন শিল্পের বড় শক্তি। বিদেশি ভাষা, পর্যটন ব্যবস্থাপনা, গাইডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফটোগ্রাফি, ভিডিও নির্মাণ এবং আতিথেয়তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের পর্যটন শিল্পে যুক্ত করা গেলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একজন দক্ষ পর্যটন গাইড শুধু একজন গাইড নন। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার একজন দূত। নারীর জন্যও খুলে যেতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের দরজা পর্যটন শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে। হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার, হোমস্টে, পর্যটন গাইড, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, অনলাইন পর্যটন ব্যবসা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের যুক্ত করা সম্ভব। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের পর্যটনকেন্দ্রিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে পর্যটন শুধু অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে না, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখবে। পর্যটনকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় খাতে পরিণত করতে হবে আধুনিক হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বিনোদনকেন্দ্র, নৌপর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, ইকো ট্যুরিজম, ওয়েলনেস পর্যটন এবং সম্মেলন পর্যটনে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ প্রক্রিয়া, দীর্ঘমেয়াদি নীতি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা গেলে পর্যটন শিল্পে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। ডিজিটাল পর্যটন হবে আগামী দিনের বাস্তবতা বিশ্বের পর্যটন ব্যবস্থা দ্রুত ডিজিটাল হচ্ছে। বাংলাদেশকেও এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে। একজন বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে আসার আগেই যেন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন, কীভাবে যাবেন, কোথায় খাবেন, কত খরচ হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে কোথায় যোগাযোগ করবেন, সেই ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, ডিজিটাল ম্যাপ, বহুভাষিক ওয়েবসাইট, পর্যটন অ্যাপ এবং ভার্চুয়াল পর্যটন নির্দেশনা বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে পারে। নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাই পর্যটনের ভিত্তি পর্যটন যতই সুন্দর হোক, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার অভাব থাকলে পর্যটকের অভিজ্ঞতা পূর্ণতা পায় না। পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকবান্ধব আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, জরুরি চিকিৎসা, উদ্ধার ব্যবস্থা, তথ্য সহায়তা, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পর্যটকের কাছে বাংলাদেশের সৌন্দর্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের আচরণ ও সেবার মানও দেশের পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠবে। পরিবেশ রক্ষা ছাড়া পর্যটনের ভবিষ্যৎ নেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন সম্পদ হচ্ছে প্রকৃতি। তাই পর্যটনের নামে পাহাড় কাটা, নদী দখল, বন ধ্বংস, সৈকত দূষণ কিংবা জীববৈচিত্র্য নষ্ট করা যাবে না। পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতি থাকবে, পর্যটক আসবেন, স্থানীয় মানুষ উপকৃত হবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও একই সৌন্দর্য উপভোগ করবে, এমন ভারসাম্যপূর্ণ পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা নদীমাতৃক বাংলাদেশকে নদীভিত্তিক পর্যটনের দেশ হিসেবেও বিশ্বের সামনে তুলে ধরা সম্ভব। কর্ণফুলী, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা, কুশিয়ারা এবং দেশের অসংখ্য নদী ও জলাভূমিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নৌভ্রমণ, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন এবং স্থানীয় জীবনযাপনের সঙ্গে পর্যটকদের পরিচিত করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কর্ণফুলী নদীকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের একটি আধুনিক নদী পর্যটন পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে এটি দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। মেডিকেল, ওয়েলনেস ও সম্মেলন পর্যটনের সম্ভাবনা পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে মেডিকেল ও ওয়েলনেস পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। একইভাবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, ব্যবসায়িক সভা, প্রদর্শনী ও করপোরেট আয়োজনের সঙ্গে পর্যটনকে যুক্ত করা সম্ভব। একজন ব্যবসায়ী বা সম্মেলনের অতিথি বাংলাদেশে এসে যদি একই সফরে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সুন্দরবন কিংবা অন্য কোনো পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণ করেন, তাহলে ব্যবসা ও পর্যটন উভয় ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হবে। পর্যটন সার্কিট গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশের পর্যটনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে আন্তঃআঞ্চলিক পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার মধ্যে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার। কক্সবাজার থেকে বান্দরবান। বান্দরবান থেকে রাঙামাটি। চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই। খুলনা থেকে সুন্দরবন ও বাগেরহাট। সিলেট থেকে জাফলং, রাতারগুল ও হাওর। ঢাকা থেকে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। এভাবে একাধিক পর্যটনকেন্দ্রকে একটি প্যাকেজে যুক্ত করা গেলে পর্যটকের বাংলাদেশে অবস্থানের সময় বাড়বে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটনের অর্থনৈতিক সুফল ছড়িয়ে পড়বে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ে নতুন বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে শুধু সস্তা পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হবে বৈচিত্র্যের দেশ হিসেবে। এটি নদীর দেশ। এটি সমুদ্রের দেশ। এটি পাহাড়ের দেশ। এটি সুন্দরবনের দেশ। এটি হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দেশ। এটি বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশ। এটি অতিথিপরায়ণ মানুষের দেশ। এই গল্পকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিশ্ব পর্যটন মেলার মাধ্যমে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, তথ্যচিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যটন সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটাতে হবে। কারণ স্থানীয় সাংবাদিকরা তাঁদের এলাকার প্রকৃতি, ইতিহাস, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গভীরভাবে তুলে ধরতে পারেন। পর্যটন উন্নয়নে গবেষণা প্রয়োজন কোন দেশের পর্যটক বাংলাদেশে আসতে চান? তাঁরা কী দেখতে চান? কতদিন থাকতে চান? কত টাকা ব্যয় করতে আগ্রহী? কোন পর্যটনকেন্দ্র তাঁদের বেশি আকর্ষণ করে? কেন অনেক বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে এসে অল্প সময়ের মধ্যে ফিরে যান? এসব প্রশ্নের উত্তর গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। পর্যটন উন্নয়নে নিয়মিত পর্যটক জরিপ, বাজার গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রবণতা বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। সামনে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের পর্যটন ভাবনায় একটি আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন রয়েছে। যেখানে কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। সুন্দরবন হবে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র। পার্বত্য চট্টগ্রাম হবে প্রকৃতি, অ্যাডভেঞ্চার ও সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটনের অন্যতম ক্ষেত্র। সিলেট হবে চা, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অনন্য গন্তব্য। চট্টগ্রাম হবে পাহাড়, সমুদ্র, নদী, বন্দর ও ঐতিহ্যের সমন্বিত পর্যটন প্রবেশদ্বার। দেশের প্রতিটি অঞ্চল তার নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিশ্ব পর্যটনের সামনে নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরবে। প্রয়োজন সম্মিলিত জাতীয় উদ্যোগ বাংলাদেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বেসরকারি বিনিয়োগকারী, পর্যটন ব্যবসায়ী, হোটেল রেস্তোরাঁ শিল্প, পরিবহন খাত, স্থানীয় জনগণ এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ। পর্যটনের জন্য প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা। প্রয়োজন পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। প্রয়োজন পর্যটনকে জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নতুন পরিচয় বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের সম্পদ তৈরি করতে হবে না। প্রকৃতি আমাদের সম্পদ দিয়েছে। আমাদের রয়েছে সমুদ্র। আমাদের রয়েছে পাহাড়। আমাদের রয়েছে নদী। আমাদের রয়েছে সুন্দরবন। আমাদের রয়েছে দ্বীপ। আমাদের রয়েছে হাওর। আমাদের রয়েছে ইতিহাস। আমাদের রয়েছে ঐতিহ্য। আমাদের রয়েছে সংস্কৃতি। আমাদের রয়েছে জীববৈচিত্র্য। আর রয়েছে মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা। এখন প্রয়োজন এই সম্পদকে আধুনিক পরিকল্পনা, বিশ্বমানের অবকাঠামো, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত কর➤“বিশ্ব পর্যটন দিবস: চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের পর্যটনের নতুন দিগন্ত-➤হাটহাজারীতে বিদেশি পিস্তল ও ওয়ান শুটারগানসহ গ্রেপ্তার ১➤জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাজারে বাড়ছে পণ্যের দাম, দুশ্চিন্তায় মানুষ➤চট্টগ্রাম রেঞ্জে আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী অপরাধের অন্ধকারে আলোর সন্ধান, মাঠে নেমেই কঠোরতার বার্তা➤রাউজানে মানব কল্যাণে ধম্মকথার ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন➤বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি ৫৬ বছরের ঐতিহ্য, হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং বোয়ালখালীবাসীর প্রত্যাশা

― Advertisement ―

চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা স্মারকলিপি নাগরিক উদ্যোগকে স্বাগত কবীর ভূঁইয়ার, যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর অসহনীয় যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের...

চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা স্মারকলিপি নাগরিক উদ্যোগকে স্বাগত কবীর ভূঁইয়ার, যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

Homeচট্টগ্রামচট্টগ্রামের যানজট নিরসনে নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা স্মারকলিপি নাগরিক উদ্যোগকে স্বাগত কবীর...
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম মহানগরীর অসহনীয় যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধ এবং অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণসহ নগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ২৫ দফা দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম।
রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়া পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়ার কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মহাসচিব সাংবাদিক লেখক মো. কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে নাগরিক ফোরামের প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি প্রদান করে।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়া নাগরিক ফোরামের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। নগরীর যানজট নিরসনে নাগরিক সমাজের গঠনমূলক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নাগরিকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে তিনি ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রামের যানজট এখন নাগরিক জীবনের বড় সংকট
স্মারকলিপিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগরী নয়, এটি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্প, ব্যবসা বাণিজ্য, পর্যটন ও আঞ্চলিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশের সঙ্গে এ নগরীর কার্যক্রম সরাসরি সম্পৃক্ত।
প্রতিদিন লাখো মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে নগরীর সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের যানজট, ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অনিয়ন্ত্রিত গণপরিবহন, লাইসেন্সবিহীন চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, কালো ধোঁয়া এবং অতিরিক্ত শব্দের কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
নাগরিক ফোরামের নেতারা বলেন, যানজটকে শুধু ট্রাফিক পুলিশের সমস্যা হিসেবে দেখলে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর সঙ্গে নগর পরিকল্পনা, সড়ক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন, ফুটপাত, বাজার ব্যবস্থাপনা, পার্কিং, পরিবেশ এবং নাগরিক সচেতনতার বিষয়গুলোও সরাসরি জড়িত।
কামাল উদ্দিন: আমরা সমালোচনা নয়, সমাধানের অংশীদার হতে চাই
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে যানজটের দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রতিদিন একজন কর্মজীবী মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকছেন, শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছেন না, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স যানজটে আটকে পড়ছে এবং ব্যবসা বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জন্য নয়, নগরবাসীর স্বার্থে একটি গঠনমূলক প্রস্তাব নিয়ে পুলিশের কাছে এসেছি। আমরা চাই প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ পরস্পরের সহযোগী হয়ে কাজ করুক। চট্টগ্রামের যানজট নিরসন সম্ভব, তবে এর জন্য নিয়মিত অভিযান, পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
কামাল উদ্দিন আরও বলেন, “শুধু অভিযান চালিয়ে কয়েকদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখলে হবে না। যে কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে, সেই কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের পথে যেতে হবে। কোথাও ফুটপাত দখল, কোথাও অবৈধ পার্কিং, কোথাও গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা আবার কোথাও বাজারের পণ্য ওঠানামাই যানজটের মূল কারণ। তাই এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।”
তিনি নাগরিক ফোরামের স্মারকলিপি গ্রহণ ও নাগরিকদের বক্তব্য শোনার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কবীর ভূঁইয়াকে ধন্যবাদ জানান এবং চট্টগ্রামকে নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মাহফুজুর রহমান: মাঠের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ট্রাফিক পরিকল্পনা প্রয়োজন
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে মাঠে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, যানজটের প্রতিটি এলাকার সমস্যা এক নয়। কোথাও সড়কের ওপর অবৈধ পার্কিং, কোথাও ফুটপাত দখল, কোথাও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং কোথাও ভারী যানবাহনের চাপ যানজটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মাহফুজুর রহমান বলেন, “প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার জন্য আলাদা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করতে হবে। শুধু যানজট সৃষ্টি হওয়ার পর পুলিশ মোতায়েন না করে কোন সময় কোথায় যানজট তৈরি হয়, কেন তৈরি হয় এবং কোন ব্যবস্থা নিলে তা কমবে, সে বিষয়ে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা করা দরকার।”
তিনি নাগরিক সমাজকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অংশীদার করার আহ্বান জানান এবং নাগরিক ফোরাম মাঠপর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করে পুলিশকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন।
ইতিহাস গবেষক সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন: চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ দুটিই রক্ষা করতে হবে
ইতিহাস গবেষক সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের ইতিহাস শুধু অতীতের গৌরবের ইতিহাস নয়, এটি একটি চলমান নগর সভ্যতার ইতিহাস। বন্দর, নদী, পাহাড়, বাজার, বাণিজ্যপথ ও মানুষের জীবনযাত্রাকে কেন্দ্র করে শত শত বছর ধরে চট্টগ্রামের নগরজীবন বিকশিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “একটি ঐতিহাসিক নগর যখন অপরিকল্পিতভাবে সম্প্রসারিত হয় এবং তার সড়ক, ফুটপাত, বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তিত হয় না, তখন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নগরীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার চাপকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।”
সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন আরও বলেন, “চট্টগ্রামের রাস্তাঘাট শুধু যানবাহন চলাচলের জায়গা নয়, এগুলো নগর সভ্যতার অংশ। ফুটপাত দখল হলে শুধু একজন পথচারীর চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় না, নগরীর নাগরিক সংস্কৃতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই যানজট নিরসনের পাশাপাশি পথচারীবান্ধব ও ঐতিহ্যসম্মত নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।”
তিনি চট্টগ্রামের পুরোনো বাণিজ্যিক এলাকা, বাজার ও ঐতিহাসিক সড়কগুলোর জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইতিহাসবিদ, নগর বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ, প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও নাগরিক প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান।
সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম: ফুটপাত পথচারীর জন্য
নাগরিক ফোরামের নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ফুটপাত দখল চট্টগ্রাম নগরীর যানজটের অন্যতম বড় কারণ। ফুটপাত দখল হয়ে গেলে সাধারণ পথচারী বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে আসেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি যানজটও তৈরি হয়।
তিনি বলেন, “ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য। সেখানে দোকান, মালামাল, মোটরসাইকেল কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি রাখার সুযোগ থাকা উচিত নয়। একদিন অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর যদি আবার দখল হয়ে যায়, তাহলে সেই অভিযান কার্যকর ফল দেবে না। তাই নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।”
তিনি ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হামিদ হোসাইন: নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ চাই
চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি হামিদ হোসাইন বলেন, চট্টগ্রামের যানজট এখন নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের বড় দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, “একজন মানুষ কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য যে সময় রাস্তায় ব্যয় করেন, তার একটি বড় অংশ যানজটে নষ্ট হয়ে যায়। একজন রোগী হাসপাতালে যাওয়ার সময় যানজটে আটকে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তাই যানজটকে ছোট সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।”
হামিদ হোসাইন বলেন, নাগরিক ফোরাম কোনো সংঘাত বা সমালোচনার রাজনীতি করতে চায় না। তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নাগরিক সমস্যার সমাধানে কাজ করতে চান।
তিনি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কবীর ভূঁইয়ার ইতিবাচক মনোভাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নাগরিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে পুলিশ প্রশাসন এগিয়ে এলে নাগরিক ফোরাম সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
দুলাল কান্তি বড়ুয়া: ধারাবাহিক অভিযান ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়
চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, যানজট নিরসনে অভিযান যেমন প্রয়োজন, তেমনি অভিযানের ধারাবাহিকতা আরও বেশি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “কয়েকদিন অভিযান পরিচালনার পর যদি আবার ফুটপাত দখল হয়, অবৈধ পার্কিং শুরু হয় এবং যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে আগের পরিস্থিতিই ফিরে আসে। তাই নিয়মিত মনিটরিং এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা দরকার।”
তিনি রিয়াজউদ্দিন বাজার, টেরিবাজার, চকবাজার, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, অক্সিজেন, চাকতাই ও খাতুনগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এলাকাভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণের দাবি জানান।
লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল: প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বাড়াতে হবে
নাগরিক ফোরামের নেতা লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল বলেন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণ কঠিন।
তিনি বলেন, “সিসিটিভি ক্যামেরা, তথ্যভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের যানবাহনের গতিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কোথায় কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। প্রযুক্তির সঙ্গে দক্ষ জনবল ও মাঠপর্যায়ের কার্যকর ব্যবস্থাপনা যুক্ত হলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আরও ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।”
তিনি জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও অন্যান্য জরুরি সেবার যানবাহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
কবীর ভূঁইয়ার উদ্যোগকে স্বাগত নাগরিক ফোরামের
স্মারকলিপি গ্রহণকালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়া নাগরিক ফোরামের প্রতিনিধিদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে তাঁর এ উদ্যোগ ও ইতিবাচক মনোভাবকে স্বাগত জানানো হয়।
ফোরামের নেতারা বলেন, জনগণের কথা শোনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের মানসিকতা প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে। তারা আশা করেন, স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২৫ দফা দাবিতে যা রয়েছে
নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে যানজটপ্রবণ এলাকাকে বিশেষ ট্রাফিক জোন ঘোষণা, পিক আওয়ারে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ, কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধ করা।
এ ছাড়া রিয়াজউদ্দিন বাজার ও টেরিবাজারে পৃথক ট্রাফিক পরিকল্পনা, চাকতাই ও খাতুনগঞ্জে ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, আগ্রাবাদ ও বন্দর এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর ও অক্সিজেনে বিশেষ নজরদারি, সিএনজি অটোরিকশার শৃঙ্খলা, বাসের নির্দিষ্ট স্টপেজ, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা, সিসিটিভি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, জরুরি যানবাহনের জন্য গ্রিন করিডর, ট্রাফিক আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা এবং নাগরিক অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে সিএমপি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন যারা
স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন এস. এ. মান্নান, বিপ্লব বড়ুয়া, ড. হামিদ হোসাইন, লায়ন মোহাম্মদ মজিবুর রহমান শাহিন, ডা. মো. আনোয়ার হোছাইন (সাদ্দাম), সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম, নাহিদা নাজু, এস. বি. সুমী, লায়ন মো. মীর হোসেন মাসুম, মো. হোসেন , সোহেল, মহিউদ্দীন, দুলাল কান্তি বড়ুয়া, লায়ন মিনহাজুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ মনজুর আলম, মো. বেলাল উদ্দীন, লায়ন ফরহাদুল হাসান মোস্তফা, লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল, শাহ আলম সাজু তালুকদার, মোহাম্মদ মনজুর, মোহাম্মদ বাপ্পি, মোহাম্মদ আলম, মোহাম্মদ ওসমান, হামিদ হোসাইন ও ওয়াহিদ আলম মাস্টার।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন।
চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি হামিদ হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল কান্তি বড়ুয়াসহ ফোরামের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
“সমাধানের অংশীদার হতে চায় নাগরিক ফোরাম”
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রামের যানজট নিরসন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। পুলিশ প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, বিআরটিএ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমাজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তাদের মতে, চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে তাৎক্ষণিক অভিযান যেমন প্রয়োজন, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রয়োজন। যানজটের কারণ চিহ্নিত করে এলাকাভিত্তিক ব্যবস্থা, আধুনিক গণপরিবহন, পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা, পথচারীবান্ধব ফুটপাত, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা শুধু সমস্যা তুলে ধরতে চাই না, সমস্যার সমাধানের অংশীদার হতেও চাই।”
চট্টগ্রামের সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হলে শুধু যানজট কমবে না, নগরবাসীর সময় বাঁচবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে, রোগী ও জরুরি সেবার যানবাহন দ্রুত চলাচলের সুযোগ পাবে এবং নগরীর সামগ্রিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সবশেষে নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়ার ইতিবাচক মনোভাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে পুলিশ লাইন ক্যান্টিনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে একটি টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনে পুলিশের কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগের সঙ্গে নাগরিকদের সচেতনতা ও স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা যুক্ত হলে যানজট নিরসনে কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব।

Shared post

  • Reply
  • Reply
Congratulations
  • Reply

Well Done Applause Sticker

  • Reply