শিরোনাম
চট্টগ্রামের স্বার্থে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে দিন | নগর পরিকল্পনার কঠিন পথে বাধা নয়, চাই সত্য, প্রমাণ ও আইনের শাসনউৎপাদন বাড়লে হাতের নাগালে আসতে পারে ইলিশের দামমিছিল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আটক, ছাড়িয়ে নিলেন পথচারীরাভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নিনবিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দামগুলশানে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় আপস“ঝড়, বিতর্ক ও প্রত্যাবর্তন: কোতোয়ালী পেরিয়ে গুলশানে আবু জায়েদ নাজমুন নূর-একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নের সবচেয়ে শক্ত জবাব -নতুন দায়িত্ব, নতুন আস্থা, নতুন অধ্যায়””ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদরাষ্ট্রীয় পুলিশ পদকের স্বীকৃতি পাচ্ছেন বাবুল আজাদ কঠিন সময়ে পাহাড়তলী থেকে ডবলমুরিং, চকবাজার হয়ে ডিবিতে; সাহস, মেধা ও পেশাদারিত্বে উজ্জ্বল এক পুলিশ কর্মকর্তার পথচলা-জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

― Advertisement ―

চট্টগ্রামের স্বার্থে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে দিন | নগর পরিকল্পনার কঠিন পথে বাধা নয়, চাই সত্য, প্রমাণ ও আইনের শাসন

মো. কামাল উদ্দিন:চট্টগ্রামকে ভালোবাসি বললেই চট্টগ্রামের জন্য কাজ করা হয় না। চট্টগ্রামের জন্য কাজ করতে হলে অনেক সময় জনপ্রিয়তার পথ ছেড়ে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে...

“‘কেএনএফের পোশাক তৈরি: সাবেক এমপি আবদুচ ছালামের ভাই তরিকুলসহ চারজন আটক”””ওসি আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান, হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও দেশবিরোধী তৎপরতার সঙ্গে ছালাম পরিবারের সংশ্লিষ্টতা তদন্তের আওতায় আসছে–

HomeUncategorized"'কেএনএফের পোশাক তৈরি: সাবেক এমপি আবদুচ ছালামের ভাই তরিকুলসহ চারজন আটক"""ওসি আফতাব...

মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রামে পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) জন্য তৈরি করা সন্দেহভাজন ইউনিফর্মসহ চারজনকে আটক করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। আটককৃতদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ‘ওয়েল ফেব্রিক্স’ নামের একটি পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরিকুল ইসলাম, যিনি আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুচ ছালামের ভাই।
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে সোমবার রাত ৯টার দিকে চান্দগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাপড়বাহী একটি গাড়িসহ চারজনকে আটক করা হয়। এসময় বিপুল পরিমাণ রোল কাপড় জব্দ করা হয়, যা কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরির কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ওসি আফতাব উদ্দিনের সাহসী পদক্ষেপ- ওসি মো. আফতাব উদ্দিন এ অভিযান সম্পর্কে দৈনিক ভোরের আওয়াজকে জানান, “কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরি করা হচ্ছে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘ওয়েল ফেব্রিক্স’ কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে কাপড়সহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বাকিদের নাম আপাতত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।” ওসি আফতাব উদ্দিনের এই পদক্ষেপ শুধু একটি সংগঠনের নাশকতা প্রতিরোধ নয়, বরং চট্টগ্রামে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা অবৈধ অর্থ উপার্জনের নেটওয়ার্কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছালাম পরিবারের নাম বারবার কেন? আটক তরিকুল ইসলাম সাবেক সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের ভাই। ছালাম পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচিত। সিডিএ’র চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়েই আবদুচ ছালাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত, জমি লুট, দুর্নীতি, এবং প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ ওঠে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়ে তোলা অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যকে এখন দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্তের দাবি রাখে।
পূর্বের অভিযানে ইউনিফর্ম জব্দ-
এটিই প্রথম নয়—গত ১৭ মে বায়েজিদ থানার নয়াহাট এলাকার রিংভো অ্যাপারেলস থেকে ২০ হাজার ৩০০টি ইউনিফর্ম, ২৬ মে অক্সিজেন নয়াহাট থেকে ১১ হাজার ৭৮৫টি ইউনিফর্ম, এবং ২৭ মে পাহাড়তলী ডিটি রোডের একটি কারখানা থেকে ১৫ হাজার ইউনিফর্ম জব্দ করে পুলিশ। এসব পোশাকের বিষয়ে পুলিশের ভাষ্য, পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠী কেএনএফ-এর জন্য এসব তৈরি হচ্ছিল
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা হয়েছে, এবং এসব মামলায় কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলাম, গোলাম আজম, ও নিয়াজ হায়দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেএনএফ এবং জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা-
কেএনএফ গত কয়েক বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অস্ত্রধারী হামলা, এবং ব্যাংক ডাকাতির মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। সংগঠনটি সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুক পেজ খুলে নিজেদের অস্তিত্ব ঘোষণা করে এবং ৯টি উপজেলাকে নিয়ে পৃথক ‘রাজ্য’ গঠনের হুমকি দেয়। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো—তাদের বিরুদ্ধে ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের প্রশিক্ষণের অভিযোগও উঠেছে। ফলে, যারা এই সংগঠনের পক্ষে কাজ করছে, চুক্তিতে পোশাক সরবরাহ করছে, তাদের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক আশ্রয়ে ব্যবসা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র- তরিকুল ইসলামের কারখানা থেকে কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরির অভিযোগ এবং তার রাজনৈতিক পরিবারিক পরিচয় স্পষ্ট করে দেয় যে, কেবল লোভ নয়, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাও সন্ত্রাসকে টিকিয়ে রাখছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে এই পরিবার রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে আসছিল, তবে কেবল মামলা নয়, সম্পদ বাজেয়াপ্তসহ রাষ্ট্রীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জনগণের প্রশ্ন: কে আসল দেশদ্রোহী?
জনগণ এখন প্রশ্ন তুলছে—দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে যারা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছে, যারা সেই অর্থ সশস্ত্র বিদ্রোহী ও জঙ্গিগোষ্ঠীকে সহায়তায় ব্যয় করছে, তাদের বিরুদ্ধে কি যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে? চট্টগ্রামের মানুষের মনে এখন একটাই প্রত্যাশা—ওসি আফতাব উদ্দিনের মতো সাহসী কর্মকর্তাদের হাতেই বিচার ও শুদ্ধি অভিযানের হাল তুলে দেওয়া হোক, এবং ‘ছালাম পরিবার’-এর মতো রাজনৈতিক রক্ষাকবচধারীদের মুখোশ উন্মোচন হোক। তথ্যসূত্র: দৈনিক ভোরের আওয়াজ প্রতিবেদন, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান, ওসি আফতাব উদ্দিনের বক্তব্য এবং মামলার তথ্য।