
বাংলাদেশ পুলিশের অনেক কর্মকর্তা তাঁদের কর্মদক্ষতা, সততা এবং জনসেবার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নেন। তেমনই একজন পুলিশ কর্মকর্তা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সরোয়ার। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবেই নয়, বরং জনগণের বন্ধু, অপরাধীদের আতঙ্ক এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একজন নিরলস সৈনিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা। সততা, নিষ্ঠা, সাহসিকতা এবং পেশাদারিত্বকে ধারণ করে তিনি ধাপে ধাপে এগিয়ে গেছেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, চন্দনাইশ এবং কুমিল্লার দেবীদ্বার থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি কর্মস্থলেই তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে বিশেষ সুনাম অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম থানা নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিল্পাঞ্চল, পর্যটন কেন্দ্র, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিপুল জনসংখ্যার কারণে সোনারগাঁ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পালন করে চলেছেন ওসি গোলাম সরোয়ার। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি থানাকে জনগণের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। তাঁর নির্দেশনায় থানার পুলিশ সদস্যরা শুধু অপরাধ দমনে নয়, জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কোনোভাবেই টেকসই আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই তিনি সাধারণ মানুষের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সোনারগাঁ থানায় ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বিশেষ অভিযান। এসব অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চোর, ডাকাত, অস্ত্রধারী অপরাধী এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর অবস্থান এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে একাধিক দুর্ধর্ষ অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। খুন, ডাকাতি, অপহরণ, অস্ত্র এবং নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই দৃঢ় অবস্থানের কারণে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমেছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। ওসি গোলাম সরোয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর জনবান্ধব পুলিশিং দর্শন। তিনি মনে করেন, থানায় সেবা নিতে আসা একজন সাধারণ মানুষ যেন নিজের বাড়ির মতো পরিবেশ পান। থানার দরজা সবসময় জনগণের জন্য খোলা রাখা এবং দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশনা হলো—কোনো মানুষ যেন থানায় এসে হয়রানির শিকার না হন। চন্দনাইশ থানায় দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেছিলেন, “পুলিশ জনগণের সেবক। মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারলে অপরাধ দমন অনেক সহজ হয়ে যায়।” তাঁর এই দর্শনই আজও তাঁর কাজের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বোয়ালখালী থানায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানগুলো ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। চোরাই মোটরসাইকেল ও যানবাহন উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়নের কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছিল। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। দেবীদ্বার থানায়ও তিনি একইভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র, মাদক কারবারি এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের প্রশংসা অর্জন করে। আইন সবার জন্য সমান—এই নীতি অনুসরণ করে তিনি কখনোই প্রভাবশালী বা সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তাঁকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই অর্জন তাঁর নেতৃত্ব, দক্ষতা এবং অপরাধ দমনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি বহন করে। পুলিশের অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, গোলাম সরোয়ার শুধু একজন দক্ষ তদন্তকারী নন; তিনি একজন সফল সংগঠকও। থানার প্রতিটি সদস্যকে নিয়ে তিনি একটি সমন্বিত টিম গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে অভিযান পরিচালনা থেকে শুরু করে তদন্ত কার্যক্রম পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হচ্ছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী এবং মানবিক একজন মানুষ। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যা সমাধানে আন্তরিক ভূমিকা রাখেন। এজন্য তাঁর কর্মস্থলগুলোতে সাধারণ মানুষ তাঁকে শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং একজন অভিভাবক ও বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে দেখেন। বর্তমান সময়ে মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি এবং সাইবার অপরাধ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় ওসি গোলাম সরোয়ার আধুনিক, তথ্যভিত্তিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে তিনি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কমিউনিটি পুলিশিং এবং জনসম্পৃক্ততাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। তিনি বারবার বলেছেন, “অপরাধ দমন শুধু পুলিশের একার কাজ নয়; এটি সমাজের প্রতিটি সচেতন মানুষের দায়িত্ব। জনগণ ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।” আজকের বাংলাদেশে যখন জনবান্ধব, সৎ ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি, তখন ওসি গোলাম সরোয়ার সেই প্রত্যাশার একটি উজ্জ্বল নাম। কর্মদক্ষতা, সততা, মানবিকতা, নেতৃত্বগুণ এবং জনগণের প্রতি অঙ্গীকারের কারণে তিনি শুধু সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ নন, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ এক অনুকরণীয় পুলিশ কর্মকর্তা। জনগণের নিরাপত্তা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তাঁর এই নিরলস পথচলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা শুধু সোনারগাঁবাসীর নয়, বরং দেশের সর্বস্তরের সচেতন মানুষের। তাঁর সাফল্য বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করুক, এটাই সবার কামনা।


