
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
আজ ১৯ আগস্ট—বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস। একটি ছবি কখনো শুধু একটি ছবি নয়; তার ভেতরে বন্দী থাকে সময়, স্মৃতি, অনুভূতি এবং ইতিহাস। আর এই আলোকচিত্রের বিশ্বযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে ১৮৩৯ সালের ১৯ আগস্টের একটি ঐতিহাসিক দিন। ফরাসি উদ্ভাবক লুই-জাক-মান্দে দাগের (Louis-Jacques-Mandé Daguerre) উদ্ভাবিত ডাগেরিওটাইপ (Daguerreotype) আলোকচিত্র পদ্ধতি ওই দিন প্যারিসে ফরাসি বিজ্ঞান একাডেমির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে ঘোষণা করা হয়। এটি ছিল স্থায়ী ছবি তৈরির প্রথম দিককার বাস্তব ও কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি, যা আধুনিক ফটোগ্রাফির বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে। দাগেরের এই কাজের পেছনে ছিলেন ফরাসি উদ্ভাবক নিকেফোর নিএপ্স (Nicéphore Niépce)-ও। নিএপ্স ১৮২০-এর দশকেই হেলিওগ্রাফি পদ্ধতিতে স্থায়ী আলোকচিত্র ধারণের পথ তৈরি করেছিলেন; পরবর্তীতে দাগেরের গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে আলোকচিত্রের প্রযুক্তি আরও কার্যকর রূপ পায়। ঐতিহাসিক সেই ১৯ আগস্ট ১৮৩৯-এর ঘটনাকেই স্মরণ করে প্রতিবছর ১৯ আগস্ট বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস পালিত হয়। তবে দিবসটির আধুনিক বিশ্বব্যাপী উদযাপনের উদ্যোগটি আরও সাম্প্রতিক; World Photography Day-এর নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, ভারতীয় ফটোগ্রাফি শিক্ষক ও. পি. শর্মা ১৯৮৮ সালে বিশ্বব্যাপী একটি ফটোগ্রাফি দিবস পালনের ধারণা দেন এবং ১৯৯১ সালে প্রথম পর্যায়ের উদযাপন শুরু হয়। পরে অনলাইনভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিস্তৃত হয়। সেই থেকে ক্যামেরা বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, ফিল্ম থেকে ডিজিটাল, আর ডিজিটাল থেকে স্মার্টফোন—ফটোগ্রাফি পৌঁছে গেছে মানুষের হাতের মুঠোয়। কিন্তু বদলায়নি এর মূল শক্তি—একটি ক্ষণস্থায়ী মুহূর্তকে ধরে রেখে তাকে স্মৃতিতে, আর কখনো কখনো ইতিহাসে পরিণত করা। আজকের এই দিনে তাই ফটোগ্রাফিকে শুধু একটি শিল্প হিসেবে নয়, মানুষের স্মৃতি, সমাজের দলিল এবং সময়ের নীরব ভাষা হিসেবে স্মরণ করি। আর শ্রদ্ধা জানাই সেইসব আলোকচিত্রীকে, যাঁদের একটি ক্লিক কখনো কখনো হাজার শব্দের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আমি এই বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস। আলোকচিত্রের এই বিশেষ দিনে বিশ্বের সব ফটোগ্রাফার, আলোকচিত্রী, ক্যামেরাপ্রেমী ও দৃশ্যশিল্পীদের প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, গভীর শ্রদ্ধা এবং অফুরন্ত ভালোবাসা। ফটোগ্রাফি আমার কাছে নিছক ছবি তোলার কোনো প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া নয়। এটি সময়কে ধরে রাখার শিল্প, স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক নীরব ভাষা এবং ইতিহাসকে দৃশ্যমান করে তোলার এক শক্তিশালী মাধ্যম। শব্দ যেখানে অনেক সময় থেমে যায়, একটি ছবি সেখানে অনায়াসে কথা বলে। একটি ছবি কখনো হাসায়, কখনো কাঁদায়, কখনো প্রশ্ন তোলে, আবার কখনো বহু বছর আগের কোনো বিস্মৃত দরজা খুলে আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় অতীতে। আমিও জানি ফটোগ্রাফি। এ কথা বলার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের এক ভালোবাসা, কৌতূহল এবং স্মৃতি। ফটোগ্রাফির প্রতি আমার আকর্ষণ শৈশব থেকেই। ছোট্ট বয়সে ক্যামেরার বাটনে আলতো করে চাপ দিয়ে যখন প্রথম ছবি তুলেছিলাম, তখন হয়তো বুঝিনি—সেই ছোট্ট ক্লিকটি আমার ভেতরে একটি দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসার জন্ম দেবে। ক্যামেরার ভিউফাইন্ডারের ছোট্ট ফ্রেমের ভেতর দিয়ে পৃথিবীকে দেখা ছিল আমার কাছে এক ধরনের বিস্ময়। একই দৃশ্য, একই মানুষ, একই প্রকৃতি—ক্যামেরার চোখে যেন অন্য এক অর্থ নিয়ে হাজির হতো। সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি; বরং আরও গভীর হয়েছে। জেনিথ ক্যামেরা ও এক অন্যরকম সময়
২০০১ সালে চট্টগ্রাম ফটোগ্রাফি সোসাইটি আয়োজিত বেসিক ফটোগ্রাফি কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ আমার ফটোগ্রাফি-জীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায়। তখন হাতে ছিল আমার প্রিয় রাশিয়ান জেনিথ ক্যামেরা। আজকের স্মার্টফোনের মতো এক ক্লিকে ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে দেখে নেওয়ার সুযোগ তখন ছিল না। প্রতিটি ফ্রেমের আগে ছিল ভাবনা, অপেক্ষা ও হিসাব। আলো কোথা থেকে আসছে, বিষয়টি ফ্রেমের কোথায় থাকবে, ব্যাকগ্রাউন্ড কেমন হবে, কখন শাটার চাপতে হবে—এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে হতো। ভুল করলে মুহূর্তটি আর ফিরে আসত না। সেই সময়ের ফটোগ্রাফি আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে—ছবি তোলার আগে ছবি দেখতে হয়। ক্যামেরার লেন্সের ভেতর দিয়ে শুধু দৃশ্য দেখলেই হয় না; দৃশ্যের অন্তর্নিহিত গল্পটিও দেখতে হয়। একজন মানুষের মুখের হাসির পেছনে হয়তো দীর্ঘদিনের কষ্ট আছে, একজন বৃদ্ধের চোখে হয়তো একটি প্রজন্মের ইতিহাস আছে, একটি পুরোনো ভবনের দেয়ালে হয়তো একটি শহরের স্মৃতি লুকিয়ে আছে। ফটোগ্রাফারের চোখকে তাই শুধু ক্যামেরার চোখ হলেই চলে না; তাকে হতে হয় অনুভূতির চোখ। আজও সেই জেনিথ ক্যামেরার প্রতি আমার আলাদা টান রয়েছে। জীবনের ব্যস্ততা, সাংবাদিকতা, লেখালেখি, গবেষণা ও নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে নেওয়া হয়নি। কিন্তু কোনো ভালোবাসা পেশা না হলেই যে তার মূল্য কমে যায়, তা নয়। বরং কিছু ভালোবাসা জীবনের গভীরে শখ, স্মৃতি ও নেশা হয়ে বেঁচে থাকে। সাংবাদিকতা, লেখালেখি ও ফটোগ্রাফি—তিনটি ভাষা, একটি সত্য দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা ও লেখালেখির অভিজ্ঞতা আমাকে আরও বেশি করে বুঝিয়েছে—শব্দ এবং ছবির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। একজন সাংবাদিক ঘটনার ভাষ্য লেখেন, একজন লেখক অনুভূতিকে শব্দে রূপ দেন আর একজন ফটোগ্রাফার সেই মুহূর্তকে দৃশ্যমান করে তোলেন। তিনজনের পথ আলাদা হলেও লক্ষ্য অনেক সময় এক—সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরা। একটি সংবাদ হয়তো কয়েকদিন পর পুরোনো হয়ে যায়। একটি লেখা হয়তো সময়ের সঙ্গে বিস্মৃত হয়। কিন্তু একটি শক্তিশালী আলোকচিত্র বহু দশক পরও মানুষের বিবেককে নাড়া দিতে পারে। ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আমরা আজও মনে রাখি ছবির কারণে। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, আন্দোলন, মানুষের বিজয়, বেদনা, আনন্দ, বিপর্যয়, মানবিকতার অসংখ্য মুহূর্ত—সবই ফটোগ্রাফির মাধ্যমে আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়ে আছে। তাই ফটোগ্রাফার কেবল ক্যামেরা হাতে থাকা একজন মানুষ নন। তিনি অনেক সময় সময়ের সাক্ষী, ইতিহাসের নীরব দলিল-সংরক্ষক এবং সমাজের দৃশ্যমান বিবেক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লেখক সম্মেলন, সাহিত্যসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। সেখানে আমার একটি স্বাভাবিক অভ্যাস আছে—প্রথমেই একজন ভালো ফটোগ্রাফারের খোঁজ করি। কারণ আমি জানি, আজকের মুহূর্তটি আগামীকাল আর থাকবে না। আজ যে মানুষটির সঙ্গে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবি তুলছি, হয়তো কয়েক বছর পর তিনি অন্য দেশে থাকবেন। যে সাহিত্যিকের সঙ্গে আজ প্রাণখোলা আড্ডা, হয়তো সময়ের স্রোতে সেই আড্ডা শুধু স্মৃতি হয়ে থাকবে। যে সম্মেলন আজ প্রাণবন্ত, একদিন তার মঞ্চও হয়তো অতীতের অংশ হয়ে যাবে। কিন্তু একটি ছবি সেই মুহূর্তটিকে ধরে রাখতে পারে।
অনেক বছর পর পুরোনো ছবি খুলে দেখলে মনে হয়—সময় আসলে কোথাও হারিয়ে যায়নি; ছবির ভেতর নীরবে ঘুমিয়ে আছে। মোবাইল ক্যামেরার যুগ—ফটোগ্রাফির গণতন্ত্র
প্রযুক্তির অগ্রগতিতে ফটোগ্রাফি আজ মানুষের হাতের মুঠোয়। স্মার্টফোনের ক্যামেরা পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষকে ছবি তোলার সুযোগ দিয়েছে। আজ একটি শিশুও মুহূর্তের মধ্যে ছবি তুলতে পারে, সম্পাদনা করতে পারে এবং পৃথিবীর অন্য প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। এটি ফটোগ্রাফির ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তবে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, ক্যামেরা ছবি তুলতে পারে; কিন্তু ছবির গল্প আবিষ্কার করতে পারে মানুষের চোখ ও মন। একটি দামি ক্যামেরা থাকলেই একজন মানুষ বড় ফটোগ্রাফার হয়ে যান না। আবার সাধারণ একটি মোবাইল ফোন দিয়েও অসাধারণ ছবি তৈরি করা সম্ভব—যদি তার পেছনে থাকে সঠিক মুহূর্ত চিনে নেওয়ার ক্ষমতা, নান্দনিক দৃষ্টি এবং মানবিক অনুভূতি। ফটোগ্রাফির মূল শক্তি যন্ত্রে নয়; দৃষ্টিভঙ্গিতে।
একটি ছবি মানেই একটি গল্প আমি মনে করি, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবনেই অসংখ্য ছবি লুকিয়ে আছে। কারও মুখে সংগ্রামের ইতিহাস, কারও চোখে অপেক্ষা, কারও হাসিতে সাফল্যের আনন্দ, কারও নীরবতায় হারানোর বেদনা। একজন দক্ষ ফটোগ্রাফার সেই অদৃশ্য গল্পটিকে দৃশ্যমান করে তোলেন। বৃষ্টিতে ভেজা রিকশাচালক, ভোরের আলোয় হাঁটতে থাকা শ্রমিক, নদীর ঘাটে অপেক্ষমাণ মাঝি, স্কুলে ছুটে চলা শিশু, বৃদ্ধ মায়ের জানালার পাশে বসে থাকা কিংবা কোনো তরুণীর স্বপ্নময় চোখ—এসবই আসলে জীবনের ছবি। ফটোগ্রাফি তাই শুধু সৌন্দর্য খোঁজে না; ফটোগ্রাফি বাস্তবতাকেও ধারণ করে। কখনো একটি ছবি সমাজের অন্যায় তুলে ধরে, কখনো মানুষের দুর্দশা দেখায়, কখনো পরিবেশ বিপর্যয়ের দলিল হয়ে ওঠে, আবার কখনো মানবিকতার এমন গল্প বলে—যা হাজার বক্তৃতার চেয়েও বেশি শক্তিশালী। ছবির ভেতর মানুষ, মানুষের ভেতর ইতিহাস একটি পুরোনো ছবি হাতে নিলে আমরা শুধু ছবির মানুষগুলোকে দেখি না। আমরা দেখতে পাই সেই সময়ের পোশাক, স্থাপত্য, রাস্তা, যানবাহন, সামাজিক সম্পর্ক, মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও পরিবর্তনের ইতিহাস। এই কারণেই ফটোগ্রাফি একটি জাতির স্মৃতিভাণ্ডার। আজকের একটি সাধারণ রাস্তার ছবি হয়তো আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু পঞ্চাশ বছর পর সেই ছবিই গবেষকের কাছে একটি শহরের পরিবর্তনের মূল্যবান দলিল হতে পারে। আজকের একটি পারিবারিক ছবি আগামী প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠতে পারে তাদের পূর্বপুরুষকে জানার একমাত্র জানালা। এই জায়গাতেই ফটোগ্রাফির মহত্ত্ব। আমার কাছে ফটোগ্রাফি—সময়ের সঙ্গে এক নীরব বন্ধুত্ব
লেখালেখির কারণে আমি শব্দের সঙ্গে দীর্ঘদিন বসবাস করেছি। শব্দ দিয়ে মানুষ, সমাজ, ইতিহাস ও সময়কে ধরার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ফটোগ্রাফি আমাকে শিখিয়েছে সব গল্প শব্দে বলা যায় না।

কিছু গল্প শুধু চোখে দেখা যায়।
কিছু অনুভূতি শুধু একটি ছবিতে ধরা পড়ে।
কিছু স্মৃতি শুধু একটি পুরোনো ছবির স্পর্শেই ফিরে আসে।
তাই আমার কাছে ক্যামেরা শুধু একটি যন্ত্র নয়; এটি সময়ের সঙ্গে মানুষের এক নীরব বন্ধুত্বের মাধ্যম।
আজও কোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সামনে এলে মনে হয়—এটি ধরে রাখা দরকার।
কারণ আমরা জানি না, এই মুহূর্তটি ভবিষ্যতে কতটা মূল্যবান হয়ে উঠবে।
ফটোগ্রাফারদের প্রতি শ্রদ্ধা
বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে তাই বিশ্বের সকল ফটোগ্রাফার বন্ধুর প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা। আপনারা আলোকে ভাষা দেন, মুহূর্তকে স্মৃতিতে পরিণত করেন, স্মৃতিকে ইতিহাসে রূপ দেন। আপনারা মানুষের হাসি যেমন ধারণ করেন, তেমনি কান্নাও ধারণ করেন। আপনারা প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন দেখান, তেমনি সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাও মানুষের সামনে তুলে ধরেন। আপনাদের ক্যামেরার প্রতিটি ক্লিক হয়তো ক্ষণিকের শব্দ কিন্তু তার প্রতিধ্বনি অনেক বছর বেঁচে থাকতে পারে।
একটি ক্লিক—একটি মুহূর্ত।
একটি মুহূর্ত—একটি স্মৃতি।
একটি স্মৃতি—একটি গল্প।
আর একটি গল্প—কখনো কখনো হয়ে ওঠে ইতিহাস। আজ বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে আমার সেই শৈশবের ক্যামেরাপ্রেমকে নতুন করে স্মরণ করছি। স্মরণ করছি ২০০১ সালের সেই বেসিক ফটোগ্রাফি কোর্স, আমার প্রিয় রাশিয়ান জেনিথ ক্যামেরা এবং ক্যামেরার ভিউফাইন্ডারে পৃথিবীকে নতুন করে আবিষ্কারের সেই দিনগুলো। ফটোগ্রাফি পেশা হিসেবে আমার জীবনের প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠেনি; কিন্তু ভালোবাসা হিসেবে এটি আজও আমার হৃদয়ে বেঁচে আছে। আমি লেখক, সাংবাদিক, গবেষক ও টেলিভিশন উপস্থাপক—কিন্তু তার পাশাপাশি আমি একজন ক্যামেরাপ্রেমী মানুষও।
আর তাই আজ নির্দ্বিধায় বলতে পারি “আমিও জানি ফটোগ্রাফি—কারণ আমি জানি, একটি ছবির ভেতর শুধু একটি দৃশ্য নয়; সেখানে লুকিয়ে থাকে একটি মানুষের জীবন, একটি সময়ের গল্প এবং কখনো কখনো একটি জাতির ইতিহাস।”
বিশ্বের সকল আলোকচিত্রী বন্ধুকে জানাই বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
আলো থাকুক আপনাদের লেন্সে,
অনুভূতি থাকুক আপনাদের চোখে,
মানবিকতা থাকুক আপনাদের ছবিতে,
আর আপনাদের প্রতিটি ক্লিক হয়ে উঠুক আগামী দিনের ইতিহাস।


