শিরোনাম
➤চট্টগ্রামের স্বার্থে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে দিন | নগর পরিকল্পনার কঠিন পথে বাধা নয়, চাই সত্য, প্রমাণ ও আইনের শাসন➤উৎপাদন বাড়লে হাতের নাগালে আসতে পারে ইলিশের দাম➤মিছিল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আটক, ছাড়িয়ে নিলেন পথচারীরা➤ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নিন➤বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম➤গুলশানে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় আপস➤“ঝড়, বিতর্ক ও প্রত্যাবর্তন: কোতোয়ালী পেরিয়ে গুলশানে আবু জায়েদ নাজমুন নূর-একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নের সবচেয়ে শক্ত জবাব -নতুন দায়িত্ব, নতুন আস্থা, নতুন অধ্যায়””➤ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ➤রাষ্ট্রীয় পুলিশ পদকের স্বীকৃতি পাচ্ছেন বাবুল আজাদ কঠিন সময়ে পাহাড়তলী থেকে ডবলমুরিং, চকবাজার হয়ে ডিবিতে; সাহস, মেধা ও পেশাদারিত্বে উজ্জ্বল এক পুলিশ কর্মকর্তার পথচলা-➤জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

― Advertisement ―

চট্টগ্রামের স্বার্থে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে দিন | নগর পরিকল্পনার কঠিন পথে বাধা নয়, চাই সত্য, প্রমাণ ও আইনের শাসন

মো. কামাল উদ্দিন:চট্টগ্রামকে ভালোবাসি বললেই চট্টগ্রামের জন্য কাজ করা হয় না। চট্টগ্রামের জন্য কাজ করতে হলে অনেক সময় জনপ্রিয়তার পথ ছেড়ে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে...

ভোটের মাঠে ভয়ের ছায়া

Homeজাতীয়ভোটের মাঠে ভয়ের ছায়া

জাতীয় নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী যাত্রা শুরু হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ কাটেনি। ভোটের মাঠে সন্ত্রাসের ছায়া ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা প্রার্থী ও ভোটার—উভয়ের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অপরিহার্য হলেও বাস্তব চিত্র বলছে, সেই সূচক এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। ভয়হীন নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তুলতে অবৈধ অস্ত্রধারী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের তাগিদ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনায় শুক্রবার রাজধানীর বুকে ফিল্মি কায়দায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। এর আগেও গত মাসে চট্টগ্রামে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগ কর্মসূচিতে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রার্থীদের স্বাভাবিক প্রচার-প্রচারণাকে ব্যাহত করবে এবং ভোটারদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়াবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের শুরুতেই যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে পরিস্থিতি দিনে দিনে আরও অবনতি ঘটতে পারে। এজন্য আগাম গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার আগেই পরিস্থিতির উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ধরতে বড় ধরনের বিশেষ অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)-এর সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তার মতে, সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর আরও আগেই সতর্ক ও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন ছিল। বড় পরিসরে অস্ত্র উদ্ধারের দৃশ্যমান কোনো অভিযান এখনো চোখে পড়েনি। কথার বাইরে বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। সাম্প্রতিক কয়েক মাসের অপরাধচিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তপশিল ঘোষণার পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, সামান্য বিরোধেও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা কালবেলাকে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকা জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতি খুব ভালো নয়, আবার খুব খারাপও নয়—তবে অবনতি যেন না হয়, সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, তপশিল ঘোষণার পর একজন প্রার্থীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। গত এক মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই সময়ে সারা দেশে অন্তত ২০টি আলোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে ১২টিতেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি ঘটনায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যেই নির্বাচনী প্রার্থীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, গত বছর গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও এখনো প্রায় ১ হাজার ৩৪০টি অস্ত্র ও ২ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব অবৈধ অস্ত্র নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভোটের মাঠে ভয়ের এই ছায়া আরও ঘন হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।