শিরোনাম
ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদরাষ্ট্রীয় পুলিশ পদকের স্বীকৃতি পাচ্ছেন বাবুল আজাদ কঠিন সময়ে পাহাড়তলী থেকে ডবলমুরিং, চকবাজার হয়ে ডিবিতে; সাহস, মেধা ও পেশাদারিত্বে উজ্জ্বল এক পুলিশ কর্মকর্তার পথচলা-জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রীসতীশ বাবু লেইনের ভাইরাল ছিনতাই: মূলহোতা সাদ্দাম গ্রেফতারআন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মানবিক পুলিশিংয়ের নতুন দিগন্ত আইসিআরসি ও এপিবিএনের যৌথ প্রশিক্ষণ: আইন প্রয়োগে মানবাধিকার, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতায় হাসিব আজিজের নেতৃত্বে নতুন ভাবনাআমার ছেলেবেলা ৬ সেই রাতগুলো আজও মনে পড়েএপিবিএন: ইতিহাসের অগ্রযাত্রায় জিয়াউর রহমান থেকে আজিজুল হক, আজিজুল হক থেকে হাসিব আজিজ একটি বাহিনীর জন্ম, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভাবনার বিবর্তন, দুই প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং জননিরাপত্তার নতুন অঙ্গীকারবৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহানগর কমিটির প্রথম সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত কালুরঘাট সেতু নির্মাণ, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনসহ ১০ দফা নাগরিক ইস্যুতে কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্তচট্টগ্রাম মেডিকেলে ইউনিট-২ চালুসহ ডেঙ্গু চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি পরিচালকের সঙ্গে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মতবিনিময় রোগী হয়রানি ও দালালচক্র বন্ধ, জনবল বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সচলের ওপর জোরযেসব কারণে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

― Advertisement ―

যেসব কারণে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

Homeঅর্থনীতিযেসব কারণে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও। এরই মধ্যে দেশে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। কয়েক মাস আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল। তবে তখন দেশে এতটা দাম বাড়ানো হয়নি। ফলে এবার হঠাৎ করে কেন জ্বালানি তেলের দাম এতটা বাড়ানো হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বা ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশে সে অনুযায়ী জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়নি। এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন—বিপিসি বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে লোকসান কমাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

অর্থাৎ, দেশে নতুন দাম নির্ধারণের দিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমলেও শুধু ওই দিনের বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়নি। গত কয়েক মাসের আন্তর্জাতিক বাজারদর, যুদ্ধের কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিপিসির পুঞ্জীভূত লোকসান—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পেছনে একাধিক ভূরাজনৈতিক সংকট কাজ করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের প্রভাব পড়েছে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে।

অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ ও সমুদ্রপথে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প পরিবহনপথের ওপর চাপ বেড়েছে। এতে তেল পরিবহনে সময় ও ব্যয়—দুটিই বেড়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত একসঙ্গে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল, ডিজেল ও জাহাজের জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য তা বাড়তি ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি ব্যয় এবং বিপিসির পুঞ্জীভূত লোকসান সমন্বয়ের অংশ হিসেবেই দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। কেরোসিনের দাম ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ভারতে—বিশেষ করে কলকাতায়—১৩৪ দশমিক ৭৬ টাকা। মিয়ানমারে ১৬৪ দশমিক ৮৩ টাকা, নেপালে ১৬১ দশমিক ২৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ দশমিক ৪২ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১ দশমিক ২২ টাকা, ভিয়েতনামে ১৩৭ টাকা, মালদ্বীপে ১৪০ দশমিক ৭১ টাকা, ফিলিপাইনে ১৬৮ দশমিক ৫৩ টাকা, পাকিস্তানে ১৮৫ দশমিক ৪৮ টাকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪৪ দশমিক ৭৯ টাকা।

দেশে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক কম থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছে জ্বালানি বিভাগ।

এ ছাড়া এলএনজি বাজারে যুদ্ধের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সচল রাখা এবং জ্বালানি পাচার ঠেকাতেও দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে প্রতিদিন ডিজেলে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা।

শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছিল। একই সময়ে কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা এবং অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হয়। পরে জুনে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের প্রথম দিক পর্যন্ত এসব জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত ছিল।

সোমবার বাংলাদেশে নতুন জ্বালানি তেলের দাম কার্যকর হওয়ার দিন আন্তর্জাতিক বাজারে ছিল কিছুটা ভিন্ন চিত্র। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ক্ষয়ক্ষতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও প্রত্যাশার তুলনায় সরবরাহ পরিস্থিতি শক্তিশালী থাকায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।

সিএনবিসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট—ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ৪৬ ডলারে দাঁড়ায়।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এক দিনের দামের ওঠানামা এবং দীর্ঘমেয়াদি আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তন এক বিষয় নয়। সৌদি আরবের তেল সরবরাহপথে বিঘ্ন ঘটলেও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি বাড়িয়েছে। এতে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল কমে গেলে সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে হামলা এবং ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তনও ডিজেলের বাজারকে প্রভাবিত করছে।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে শুধু অপরিশোধিত তেলের দাম নয়, পরিশোধিত জ্বালানি এবং পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তনও বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।