শিরোনাম
➤চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা স্মারকলিপি নাগরিক উদ্যোগকে স্বাগত কবীর ভূঁইয়ার, যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান➤নদী আছে, শুধু নেই প্রাণ➤পুরো ঘটনা জেনে সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্য করা উচিত ছিল: রাশেদ খান➤বিশেষ প্রতিবেদন দি টুরিস্ট ও চট্রল চিত্র বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের নতুন স্বপ্ন বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিতে চান তিনি কক্সবাজার থেকে সুন্দরবন, চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর, কর্ণফুলী থেকে সিলেটের চা বাগান, পর্যটনকে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির শক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় মো. কামাল উদ্দিন ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিবছর এই দিবস পালিত হয়। পর্যটন যে শুধু মানুষের অবকাশযাপন কিংবা বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং একটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, বিশ্ব পর্যটন দিবস সেই বার্তাই সামনে নিয়ে আসে। বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব পর্যটন দিবসের তাৎপর্য আরও গভীর। কারণ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, নদী, সমুদ্র, পাহাড়, বন, দ্বীপ, হাওর, জীববৈচিত্র্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, লোকসংস্কৃতি এবং মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তায় বাংলাদেশ একটি অসাধারণ পর্যটনভূমি। একদিকে কক্সবাজারের বিশাল সমুদ্রসৈকত, অন্যদিকে সুন্দরবনের গহিন অরণ্য। কোথাও পার্বত্য চট্টগ্রামের মেঘঢাকা পাহাড়, কোথাও সিলেটের সবুজ চা বাগান। কোথাও কুয়াকাটার সমুদ্র, কোথাও হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি। আবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সভ্যতার নানা নিদর্শন। এই বিশাল সম্ভাবনাকে আধুনিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, বিশ্বমানের সেবা এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণার মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বাংলাদেশের পর্যটনকে সেই বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখতে চান। তাঁর পর্যটন ভাবনায় পর্যটন শুধু ভ্রমণ কিংবা বিনোদনের বিষয় নয়। পর্যটন হতে পারে কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের নতুন দ্বার, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি সম্ভাবনাময় খাত এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিচয় তুলে ধরার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। বিশ্ব পর্যটন দিবসে চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের পর্যটন ভাবনা চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের ভাবনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশের পর্যটনকে প্রচলিত ধারণার সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে একটি আধুনিক, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, রুচিসম্মত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যটন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা। একটি পর্যটনকেন্দ্র শুধু সুন্দর হলেই পর্যটন উন্নত হয় না। সেখানে যাওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হতে হবে। পর্যটকের থাকার জন্য মানসম্মত আবাসন থাকতে হবে। নিরাপদ খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নত স্যানিটেশন, জরুরি চিকিৎসা, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র, দক্ষ গাইড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সহজ ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একজন পর্যটক কোনো দেশে এসে কী অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত সেই দেশের পর্যটন ব্যবস্থার প্রকৃত পরিচয় হয়ে ওঠে। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের নতুন উচ্চতায় নিতে হবে বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে কক্সবাজারের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিশাল সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি কক্সবাজারের রয়েছে পাহাড়, দ্বীপ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় সংস্কৃতি, রাখাইন ঐতিহ্য, স্থানীয় খাবার এবং মানুষের জীবনযাপনের বৈচিত্র্য। কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে রাখলে চলবে না। আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারেও কক্সবাজারের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরতে হবে। একজন বিদেশি পর্যটক কক্সবাজারে এসে শুধু সমুদ্রসৈকত দেখে ফিরে যাবেন না। তিনি যেন পাহাড়ে যেতে পারেন, দ্বীপ ভ্রমণ করতে পারেন, স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন এবং বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা অনুভব করতে পারেন, সেই ধরনের সমন্বিত পর্যটন প্যাকেজ তৈরি করা প্রয়োজন। কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের পর্যটন প্যাকেজ তৈরি করা গেলে একজন পর্যটকের বাংলাদেশে অবস্থানের সময়ও বাড়ানো সম্ভব। চট্টগ্রাম হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম প্রবেশদ্বার বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নের কথা বলতে গেলে চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। চট্টগ্রাম একদিকে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, অন্যদিকে পাহাড়, সমুদ্র, নদী, দ্বীপ, উপকূল, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয়। কর্ণফুলী নদী, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, সীতাকুণ্ড, চন্দ্রনাথ, মিরসরাইয়ের পাহাড় ও জলপ্রপাত, বাঁশখালীর উপকূল, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিস্তৃত প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে সমন্বিত করে একটি বড় পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামকে শুধু শিল্প ও বাণিজ্যের শহর হিসেবে নয়, বাংলাদেশের পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবেও নতুন করে ভাবতে হবে। কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা কর্ণফুলী শুধু একটি নদী নয়। এটি চট্টগ্রামের ইতিহাস, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই নদীকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নৌভ্রমণ, নদীর তীরের সৌন্দর্যায়ন, সাংস্কৃতিক আয়োজন, স্থানীয় খাবার এবং চট্টগ্রামের ইতিহাসকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে কর্ণফুলী নিজেই একটি আকর্ষণীয় পর্যটন পণ্যে পরিণত হতে পারে। একজন বিদেশি পর্যটক কর্ণফুলীতে নৌভ্রমণ করবেন, চট্টগ্রামের ইতিহাস জানবেন, বন্দর দেখবেন, স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেবেন এবং পাহাড় ও সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করবেন। এমন একটি সমন্বিত পর্যটন অভিজ্ঞতা চট্টগ্রামের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে পারে প্রকৃতি ও সংস্কৃতি পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান বাংলাদেশের পর্যটন সম্পদের অন্যতম বড় ভাণ্ডার। পাহাড়, মেঘ, ঝরনা, লেক, বন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক, সংস্কৃতি ও উৎসব সব মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের প্রকৃতি ও সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটন অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব। তবে পাহাড়ি পর্যটনের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে। পর্যটনের নামে পাহাড় ও প্রকৃতি ধ্বংস নয়, বরং প্রকৃতিকে রক্ষা করেই পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে হবে। সুন্দরবন বাংলাদেশের অমূল্য পর্যটন সম্পদ সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবনের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব রয়েছে। বাঘ, হরিণ, কুমির, পাখি, নদী, খাল, গাছপালা এবং জোয়ারভাটার অনন্য জীবন সুন্দরবনকে একটি অসাধারণ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে। সুন্দরবনে পর্যটনের বিকাশের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি অবশ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেতে হবে। পর্যটকের সংখ্যা, নৌযান চলাচল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দদূষণ এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে পরিবেশবান্ধব পর্যটন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। সিলেটের চা বাগান ও হাওরেও রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা সমুদ্র ও পাহাড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সিলেটের চা বাগান, জাফলং, রাতারগুল এবং হাওরাঞ্চল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অনন্য আকর্ষণ হতে পারে। বর্ষায় হাওরের বিশাল জলরাশি এবং শুষ্ক মৌসুমে তার পরিবর্তিত রূপ পর্যটকদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। নৌভ্রমণ, স্থানীয় খাবার, লোকসংস্কৃতি এবং গ্রামীণ জীবনযাপনের সঙ্গে পর্যটকদের পরিচিত করা গেলে হাওরভিত্তিক পর্যটন একটি নতুন সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হতে পারে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে বাংলাদেশের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রাচীন মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার, জমিদারবাড়ি এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। পাহাড়পুর, মহাস্থানগড়, বাগেরহাটসহ ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যটন প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। একজন বিদেশি পর্যটক শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা দেখতে চান না। তিনি জানতে চান সেই স্থাপনার ইতিহাস, নির্মাণের গল্প, মানুষের জীবন এবং সেই সভ্যতার সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশের সম্পর্ক। তাই পর্যটনে গল্প বলার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। স্থানীয় খাবারও হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন ব্র্যান্ড বাংলাদেশের খাবারের বৈচিত্র্য বিশ্ব পর্যটনের একটি আকর্ষণীয় সম্পদ হতে পারে। চট্টগ্রামের মেজবানি, কালাভুনা, শুঁটকি ও সামুদ্রিক খাবার, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, সিলেটের বিভিন্ন খাবার, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার, বাংলাদেশের মিষ্টি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় কৃষিপণ্যকে পর্যটনের অংশ করা সম্ভব। পর্যটক একটি দেশকে শুধু চোখ দিয়ে দেখেন না, অনেক সময় খাবারের স্বাদের মধ্য দিয়েও একটি দেশকে মনে রাখেন। তাই বাংলাদেশের স্থানীয় খাবারকে পরিচ্ছন্নতা, মান এবং নান্দনিক পরিবেশনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা প্রয়োজন। পর্যটনের সুফল পৌঁছাতে হবে স্থানীয় মানুষের ঘরে পর্যটন উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শর্ত হলো স্থানীয় জনগণকে এর অংশীদার করা। একটি পর্যটনকেন্দ্রে হোটেল তৈরি হলো, রাস্তা হলো, পর্যটক এলেন, কিন্তু স্থানীয় মানুষ যদি অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত না হন, তাহলে সেই পর্যটন উন্নয়ন পূর্ণাঙ্গ অর্থে টেকসই হবে না। স্থানীয় তরুণদের পর্যটন গাইড হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। স্থানীয় নারীদের হস্তশিল্প, খাবার, হোমস্টে এবং ক্ষুদ্র পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। স্থানীয় কৃষক, জেলে, মাঝি, কারিগর এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পর্যটনের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে যাবে। তরুণরাই হতে পারেন পর্যটনের নতুন দূত বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী পর্যটন শিল্পের বড় শক্তি। বিদেশি ভাষা, পর্যটন ব্যবস্থাপনা, গাইডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফটোগ্রাফি, ভিডিও নির্মাণ এবং আতিথেয়তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের পর্যটন শিল্পে যুক্ত করা গেলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একজন দক্ষ পর্যটন গাইড শুধু একজন গাইড নন। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার একজন দূত। নারীর জন্যও খুলে যেতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের দরজা পর্যটন শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে। হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার, হোমস্টে, পর্যটন গাইড, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, অনলাইন পর্যটন ব্যবসা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের যুক্ত করা সম্ভব। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের পর্যটনকেন্দ্রিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে পর্যটন শুধু অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে না, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখবে। পর্যটনকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় খাতে পরিণত করতে হবে আধুনিক হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বিনোদনকেন্দ্র, নৌপর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, ইকো ট্যুরিজম, ওয়েলনেস পর্যটন এবং সম্মেলন পর্যটনে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ প্রক্রিয়া, দীর্ঘমেয়াদি নীতি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা গেলে পর্যটন শিল্পে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। ডিজিটাল পর্যটন হবে আগামী দিনের বাস্তবতা বিশ্বের পর্যটন ব্যবস্থা দ্রুত ডিজিটাল হচ্ছে। বাংলাদেশকেও এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে। একজন বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে আসার আগেই যেন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন, কীভাবে যাবেন, কোথায় খাবেন, কত খরচ হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে কোথায় যোগাযোগ করবেন, সেই ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, ডিজিটাল ম্যাপ, বহুভাষিক ওয়েবসাইট, পর্যটন অ্যাপ এবং ভার্চুয়াল পর্যটন নির্দেশনা বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে পারে। নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাই পর্যটনের ভিত্তি পর্যটন যতই সুন্দর হোক, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার অভাব থাকলে পর্যটকের অভিজ্ঞতা পূর্ণতা পায় না। পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকবান্ধব আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, জরুরি চিকিৎসা, উদ্ধার ব্যবস্থা, তথ্য সহায়তা, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পর্যটকের কাছে বাংলাদেশের সৌন্দর্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের আচরণ ও সেবার মানও দেশের পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠবে। পরিবেশ রক্ষা ছাড়া পর্যটনের ভবিষ্যৎ নেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন সম্পদ হচ্ছে প্রকৃতি। তাই পর্যটনের নামে পাহাড় কাটা, নদী দখল, বন ধ্বংস, সৈকত দূষণ কিংবা জীববৈচিত্র্য নষ্ট করা যাবে না। পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতি থাকবে, পর্যটক আসবেন, স্থানীয় মানুষ উপকৃত হবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও একই সৌন্দর্য উপভোগ করবে, এমন ভারসাম্যপূর্ণ পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা নদীমাতৃক বাংলাদেশকে নদীভিত্তিক পর্যটনের দেশ হিসেবেও বিশ্বের সামনে তুলে ধরা সম্ভব। কর্ণফুলী, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা, কুশিয়ারা এবং দেশের অসংখ্য নদী ও জলাভূমিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত নৌভ্রমণ, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন এবং স্থানীয় জীবনযাপনের সঙ্গে পর্যটকদের পরিচিত করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কর্ণফুলী নদীকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের একটি আধুনিক নদী পর্যটন পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে এটি দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। মেডিকেল, ওয়েলনেস ও সম্মেলন পর্যটনের সম্ভাবনা পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে মেডিকেল ও ওয়েলনেস পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। একইভাবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, ব্যবসায়িক সভা, প্রদর্শনী ও করপোরেট আয়োজনের সঙ্গে পর্যটনকে যুক্ত করা সম্ভব। একজন ব্যবসায়ী বা সম্মেলনের অতিথি বাংলাদেশে এসে যদি একই সফরে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সুন্দরবন কিংবা অন্য কোনো পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণ করেন, তাহলে ব্যবসা ও পর্যটন উভয় ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হবে। পর্যটন সার্কিট গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশের পর্যটনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে আন্তঃআঞ্চলিক পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার মধ্যে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার। কক্সবাজার থেকে বান্দরবান। বান্দরবান থেকে রাঙামাটি। চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই। খুলনা থেকে সুন্দরবন ও বাগেরহাট। সিলেট থেকে জাফলং, রাতারগুল ও হাওর। ঢাকা থেকে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। এভাবে একাধিক পর্যটনকেন্দ্রকে একটি প্যাকেজে যুক্ত করা গেলে পর্যটকের বাংলাদেশে অবস্থানের সময় বাড়বে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটনের অর্থনৈতিক সুফল ছড়িয়ে পড়বে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ে নতুন বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে শুধু সস্তা পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হবে বৈচিত্র্যের দেশ হিসেবে। এটি নদীর দেশ। এটি সমুদ্রের দেশ। এটি পাহাড়ের দেশ। এটি সুন্দরবনের দেশ। এটি হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দেশ। এটি বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশ। এটি অতিথিপরায়ণ মানুষের দেশ। এই গল্পকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিশ্ব পর্যটন মেলার মাধ্যমে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, তথ্যচিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যটন সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটাতে হবে। কারণ স্থানীয় সাংবাদিকরা তাঁদের এলাকার প্রকৃতি, ইতিহাস, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গভীরভাবে তুলে ধরতে পারেন। পর্যটন উন্নয়নে গবেষণা প্রয়োজন কোন দেশের পর্যটক বাংলাদেশে আসতে চান? তাঁরা কী দেখতে চান? কতদিন থাকতে চান? কত টাকা ব্যয় করতে আগ্রহী? কোন পর্যটনকেন্দ্র তাঁদের বেশি আকর্ষণ করে? কেন অনেক বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে এসে অল্প সময়ের মধ্যে ফিরে যান? এসব প্রশ্নের উত্তর গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। পর্যটন উন্নয়নে নিয়মিত পর্যটক জরিপ, বাজার গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রবণতা বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। সামনে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের পর্যটন ভাবনায় একটি আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন রয়েছে। যেখানে কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। সুন্দরবন হবে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র। পার্বত্য চট্টগ্রাম হবে প্রকৃতি, অ্যাডভেঞ্চার ও সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটনের অন্যতম ক্ষেত্র। সিলেট হবে চা, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অনন্য গন্তব্য। চট্টগ্রাম হবে পাহাড়, সমুদ্র, নদী, বন্দর ও ঐতিহ্যের সমন্বিত পর্যটন প্রবেশদ্বার। দেশের প্রতিটি অঞ্চল তার নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিশ্ব পর্যটনের সামনে নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরবে। প্রয়োজন সম্মিলিত জাতীয় উদ্যোগ বাংলাদেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বেসরকারি বিনিয়োগকারী, পর্যটন ব্যবসায়ী, হোটেল রেস্তোরাঁ শিল্প, পরিবহন খাত, স্থানীয় জনগণ এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ। পর্যটনের জন্য প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা। প্রয়োজন পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। প্রয়োজন পর্যটনকে জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নতুন পরিচয় বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের সম্পদ তৈরি করতে হবে না। প্রকৃতি আমাদের সম্পদ দিয়েছে। আমাদের রয়েছে সমুদ্র। আমাদের রয়েছে পাহাড়। আমাদের রয়েছে নদী। আমাদের রয়েছে সুন্দরবন। আমাদের রয়েছে দ্বীপ। আমাদের রয়েছে হাওর। আমাদের রয়েছে ইতিহাস। আমাদের রয়েছে ঐতিহ্য। আমাদের রয়েছে সংস্কৃতি। আমাদের রয়েছে জীববৈচিত্র্য। আর রয়েছে মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা। এখন প্রয়োজন এই সম্পদকে আধুনিক পরিকল্পনা, বিশ্বমানের অবকাঠামো, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত কর➤“বিশ্ব পর্যটন দিবস: চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের পর্যটনের নতুন দিগন্ত-➤হাটহাজারীতে বিদেশি পিস্তল ও ওয়ান শুটারগানসহ গ্রেপ্তার ১➤জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাজারে বাড়ছে পণ্যের দাম, দুশ্চিন্তায় মানুষ➤চট্টগ্রাম রেঞ্জে আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী অপরাধের অন্ধকারে আলোর সন্ধান, মাঠে নেমেই কঠোরতার বার্তা➤রাউজানে মানব কল্যাণে ধম্মকথার ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন➤বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি ৫৬ বছরের ঐতিহ্য, হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং বোয়ালখালীবাসীর প্রত্যাশা

― Advertisement ―

চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা স্মারকলিপি নাগরিক উদ্যোগকে স্বাগত কবীর ভূঁইয়ার, যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর অসহনীয় যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের...

চট্টগ্রাম রেঞ্জে আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী অপরাধের অন্ধকারে আলোর সন্ধান, মাঠে নেমেই কঠোরতার বার্তা

Homeসম্পাদকীয়চট্টগ্রাম রেঞ্জে আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী অপরাধের অন্ধকারে আলোর সন্ধান, মাঠে নেমেই কঠোরতার...

মো. কামাল উদ্দিন
ডেপুটি এডিটর, দি টুরিস্ট
নির্বাহী সম্পাদক, চট্রল চিত্র
সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সিনিয়র’স প্রেসক্লাব
চট্টগ্রামের মাটি যেমন সমুদ্রের বিশালতা ধারণ করে, তেমনি ধারণ করে পাহাড়ের নীরবতা, সীমান্তের সংবেদনশীলতা, বন্দরের ব্যস্ততা এবং কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার অসংখ্য গল্প। এই জনপদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা তাই অন্য যেকোনো এলাকার চেয়ে আলাদা। এখানে অপরাধের চরিত্র বহুমাত্রিক, সামাজিক বাস্তবতা জটিল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও বহুগুণ বেশি। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের নতুন ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, পিপিএম। গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের দায়িত্ব থেকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়। একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর পদবি নয়, তাঁর বক্তব্যও নয়। সময়ের সঙ্গে তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্ত, মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ড, অধীনস্থদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর আচরণই শেষ পর্যন্ত তাঁর পেশাগত পরিচয় তৈরি করে। সেই জায়গা থেকেই আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীর চট্টগ্রাম রেঞ্জে আগমনকে দেখলে তাঁর পূর্ববর্তী কর্মপরিধি এবং সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ড বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। দায়িত্বের পরিধি যেমন বিশাল, চ্যালেঞ্জও তেমনি বহুমাত্রিক চট্টগ্রাম রেঞ্জ বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। সমুদ্রবন্দর, সীমান্ত, পাহাড়ি এলাকা, পর্যটন অঞ্চল, শিল্পাঞ্চল, নগর ও গ্রামীণ জনপদ মিলিয়ে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বাস্তবতা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস, অস্ত্র, কিশোর অপরাধ, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পুলিশি সেবা পাওয়ার প্রশ্নও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে একজন রেঞ্জ ডিআইজির দায়িত্ব শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার করা কিংবা অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁকে একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের পুলিশকে সক্রিয় রাখতে হয়, তদন্তের মান উন্নত করতে হয়, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হয় এবং পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহির মধ্যেও রাখতে হয়। এই বাস্তবতায় আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীর সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে তাঁর নেতৃত্বকে কতটা কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা যায়। সিলেট থেকে চট্টগ্রাম, অভিজ্ঞতার একটি নতুন অধ্যায় চট্টগ্রাম রেঞ্জে আসার আগে আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সিলেটে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট ও ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিলেটে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নগর পুলিশিংয়ের কথা বলেছেন। নাগরিকদের দ্রুত পুলিশি সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাপ চালুর উদ্যোগও তাঁর দায়িত্বকালের আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির মাধ্যমে জরুরি পুলিশি সহায়তা, অবস্থান জানানো, অভিযোগের অগ্রগতি অনুসরণসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়। আধুনিক পুলিশিং শুধু অস্ত্র, ইউনিফর্ম কিংবা অভিযাননির্ভর নয়। আধুনিক পুলিশিংয়ের সঙ্গে প্রযুক্তি, নাগরিক যোগাযোগ, দ্রুত সেবা এবং আস্থার সম্পর্কও জড়িয়ে আছে। আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীর প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডে এই ধারণার প্রতিফলন দেখা যায়। অপরাধের শিকড় খুঁজে আঘাত করার কথা বলেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর বক্তব্য ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে মাদকবিরোধী অবস্থান বিশেষভাবে সামনে এসেছে। গত ২০ আগস্ট লক্ষ্মীপুরে আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে মাদক নির্মূলের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁর বক্তব্যে শুধু মাদকসেবী নয়, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ডিলার, অর্থের জোগানদাতা, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাসহ পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে আইনের আওতায় আনার কথা উঠে আসে। এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দৃষ্টিভঙ্গি। কারণ মাদককে শুধু একজন সেবনকারীর ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল জায়গায় পৌঁছানো যায় না। মাদকের পেছনে অর্থের প্রবাহ, সরবরাহকারী, পরিবেশক এবং স্থানীয় নেটওয়ার্ক থাকে। সেই জায়গায় আঘাত করতে না পারলে অভিযান সাময়িক ফল দিতে পারে, কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন। এই বাস্তবতা বিবেচনায় মাদকবিরোধী অভিযানে সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি অর্থের উৎস শনাক্ত করার যে কথা তিনি বলেছেন, সেটি মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। জঙ্গল সলিমপুরে সরেজমিনে উপস্থিতি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা, ভূমি দখল, পাহাড় কাটা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ে আলোচনায় থাকা একটি এলাকা। দায়িত্ব গ্রহণের পর সেখানে সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী। ৪ আগস্ট তিনি জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। জঙ্গল সলিমপুরের মতো এলাকায় একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার সরেজমিনে উপস্থিতির আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। কারণ মাঠের বাস্তবতা কাগজের প্রতিবেদনের চেয়ে অনেক সময় ভিন্ন হয়। একটি এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান, মানুষের চলাচল, অপরাধের ধরন, পুলিশের সক্ষমতা এবং স্থানীয় বাস্তবতা নিজের চোখে দেখা নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও বাস্তবভিত্তিক করতে পারে। সেখানে তাঁর বক্তব্যে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা উঠে আসে। এই বার্তা কতটা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। শুধু অভিযান নয়, মানবিক পুলিশিংয়ের কথাও এসেছে পুলিশের কাজের সবচেয়ে কঠিন জায়গাগুলোর একটি হলো কঠোরতা এবং মানবিকতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।
অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করতে হবে কঠোরভাবে। কিন্তু একই সঙ্গে নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ পুলিশ জনগণের নিরাপত্তার জন্যই নিয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী মানবিক পুলিশিং এবং জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরির কথা বলেছেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে তাঁকে বলতে দেখা যায়, অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে পুলিশকেও পরিবর্তিত হতে হবে এবং নাগরিক ও পুলিশের মধ্যে আস্থার সেতু গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই ধারণাটি চট্টগ্রাম রেঞ্জের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি থানায় সাধারণ মানুষ অভিযোগ করতে এসে যদি নিজেকে নিরাপদ ও সম্মানিত মনে করেন, তাহলে পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক শক্তিশালী হয়। আবার অপরাধী যদি মনে করে আইনের হাত তার নাগালের বাইরে, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়। পুলিশি কঠোরতা যেন হয় আইনের ভিতরে আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী নোয়াখালীতে অপরাধ দমন ও শাস্তির কার্যকারিতা নিয়েও বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি এমন শাস্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, যার মাধ্যমে সমাজে অপরাধের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর বার্তা যায়। একই সঙ্গে তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার বাস্তবতাও তুলে ধরেছেন। পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে, তদন্ত করতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত আদালতের। এই বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার বিভাগের ভূমিকার সীমারেখা স্বীকার করা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশি ক্ষমতা যতটা প্রয়োজনীয়, সেই ক্ষমতার আইনি সীমারেখাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাই চট্টগ্রাম রেঞ্জে তাঁর নেতৃত্বের একটি বড় পরীক্ষা হবে অপরাধ দমনে কঠোরতা বজায় রেখেও আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া এবং নাগরিক অধিকারকে সম্মান করা। একজন কর্মকর্তাকে মূল্যায়নের আসল জায়গা মাঠ কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে শুধু তাঁর বক্তব্য দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। তাঁর দায়িত্বকালে অপরাধের প্রবণতা কীভাবে পরিবর্তিত হলো, তদন্তের মান কতটা বাড়ল, মামলা নিষ্পত্তির গতি কেমন হলো, সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছ থেকে কতটা দ্রুত সেবা পেলেন এবং পুলিশ সদস্যরা কতটা
জবাবদিহির মধ্যে থাকলেন, এসব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
তাঁর সামনে এখন একটি বিশাল কর্মক্ষেত্র। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার, কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী, ফেনী থেকে লক্ষ্মীপুর, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে সীমান্তবর্তী জনপদ, প্রতিটি এলাকার অপরাধের ধরন আলাদা। কোথাও মাদক বড় সমস্যা, কোথাও চোরাচালান, কোথাও ভূমি ও পাহাড়কেন্দ্রিক বিরোধ, কোথাও কিশোর অপরাধ, আবার কোথাও রাজনৈতিক বা সামাজিক বিরোধ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। একজন রেঞ্জ ডিআইজির নেতৃত্বের সাফল্য তাই একটি অভিযানের সাফল্যে মাপা যায় না। সামগ্রিক পুলিশ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক উন্নতিই সেখানে আসল মাপকাঠি। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরাই তাঁর নেতৃত্বের মূল শক্তি একজন ডিআইজি যতই দক্ষ পরিকল্পনা করুন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ পরিদর্শক, উপপরিদর্শক এবং কনস্টেবল পর্যায়ের সদস্যরা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীর জন্য শুধু অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে তাঁর অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, সততা এবং জনবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা। একজন ভালো নেতৃত্বের পরিচয় অনেক সময় নিজের বক্তব্যে নয়, অধীনস্থদের আচরণে প্রকাশ পায়। একজন নাগরিক থানায় গিয়ে কী ব্যবহার পেলেন, একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ কত দ্রুত নেওয়া হলো, তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হলো এবং একজন সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছ থেকে কতটা সহযোগিতা পেলেন, সেখানেই নেতৃত্বের বাস্তব প্রতিফলন ঘটে। অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক কর্মপরিধি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীর পেশাগত জীবনে দেশীয় দায়িত্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কাজ করা একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য শৃঙ্খলা, বহুজাতিক পরিবেশে কাজ করার সক্ষমতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের মতো বহুমাত্রিক একটি অঞ্চলে এই অভিজ্ঞতা তাঁর প্রশাসনিক ও নেতৃত্বের কাজে কতটা কার্যকর হয়, সেটিও সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।
চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা এখন কর্মে চট্টগ্রামের মানুষ পুলিশের কাছে শুধু অভিযান চায় না। তারা নিরাপদ সড়ক চায়, মাদকমুক্ত পরিবেশ চায়, চাঁদাবাজমুক্ত ব্যবসার পরিবেশ চায়, পাহাড় ও ভূমি দখল থেকে নিরাপত্তা চায়, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা চায় এবং সর্বোপরি চায় থানায় গিয়ে সম্মানের সঙ্গে কথা বলার অধিকার। এই প্রত্যাশার জায়গা থেকেই নতুন ডিআইজির প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর বক্তব্যে মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তাঁর উপস্থিতিও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের যেকোনো নতুন নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বার্তার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষ প্রতিশ্রুতি শুনে আশাবাদী হয়, কিন্তু ফলাফল দেখে আস্থা তৈরি করে। সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
চট্টগ্রাম রেঞ্জে আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীর সামনে তাই একদিকে যেমন কঠিন অপরাধ দমনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে মানবিক পুলিশিং প্রতিষ্ঠার সুযোগ।
অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোরতা থাকতে হবে, কিন্তু নিরপরাধ মানুষের প্রতি থাকতে হবে সংবেদনশীলতা। মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে, কিন্তু মাদকাসক্ত একজন তরুণকে সমাজে ফিরিয়ে আনার পথও ভাবতে হবে। চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, আবার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের শক্ত অবস্থান থাকতে হবে, কিন্তু সেই শক্তি অবশ্যই আইনের কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োগ করতে হবে। এই ভারসাম্যই একজন পুলিশ নেতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সময়ই বলবে কর্মের হিসাব আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীর চট্টগ্রাম রেঞ্জ অধ্যায় এখনো শুরুর পর্যায়ে। তাই তাঁর নেতৃত্বের চূড়ান্ত মূল্যায়নের সময় এখনো আসেনি। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদকবিরোধী অবস্থান, জঙ্গল সলিমপুরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় সরেজমিনে উপস্থিতি এবং বিভিন্ন জেলায় আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ দমন নিয়ে তাঁর বক্তব্য তাঁর অগ্রাধিকার সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা দেয়। এখন প্রয়োজন সেই অগ্রাধিকারকে ধারাবাহিক কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়া।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের মানুষ দেখতে চায়, অপরাধের বড় নামের পাশাপাশি ছোট অপরাধীও আইনের আওতায় আসছে কি না। তারা দেখতে চায়, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুধু বক্তৃতার মঞ্চে সীমাবদ্ধ থাকছে, নাকি মাদকের অর্থের উৎস ও সরবরাহ ব্যবস্থায়ও আঘাত হানছে। তারা দেখতে চায়, পুলিশ সদস্যদের অনিয়মের বিরুদ্ধেও একই কঠোরতা প্রয়োগ হচ্ছে কি না। তারা দেখতে চায়, থানায় সাধারণ মানুষের অভিযোগ কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর পদবি নয়, তাঁর বক্তব্য নয়, তাঁর কর্মফল।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের নতুন ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীর সামনে এখন সেই কর্মফল নির্মাণের সময়। বিশাল এই রেঞ্জের সমুদ্র, পাহাড়, সীমান্ত, নগর ও জনপদের নিরাপত্তার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। মানুষের প্রত্যাশা একটাই, অপরাধীর জন্য আইনের কঠোরতা এবং সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশের মানবিক হাত যেন একই সঙ্গে দৃশ্যমান হয়। চট্টগ্রাম এখন তাঁর বক্তব্য শুনেছে। এবার চট্টগ্রাম দেখতে চায় তাঁর কর্ম। সময়ই সেই কর্মের সবচেয়ে নিরপেক্ষ সাক্ষী হবে।