
জুলাই সনদ স্বাক্ষরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐক্য ও সংস্কারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটির বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, “এটি দেশের রাজনৈতিক ঐক্য ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে এক বড় পদক্ষেপ।” শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ইইউর বাংলাদেশ মিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মিলার আরও বলেন, “জুলাই সনদ ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত—যা দেখায় দেশটি ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে।” উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা **‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’**-এ স্বাক্ষর করেন। তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেও গণফোরাম সনদে স্বাক্ষর করেনি। দলটি জানিয়েছে, সংবিধানসংক্রান্ত একটি পর্যবেক্ষণ নিয়ে তারা দলীয় ফোরামে আলোচনা শেষে শনিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় সংসদ ভবনের এলডি হলে স্বাক্ষর করবে। গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, “সংবিধানের একটি বিষয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। কমিশন সংশোধনী এনেছে বলে জানিয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে আমরা স্বাক্ষর করব।” জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ২৫টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অংশ নেন। জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন—
বিএনপির মহাসচিব **মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর**, স্থায়ী কমিটির সদস্য **সালাউদ্দিন আহমেদ**; জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল **মিয়া গোলাম পরওয়ার**, নায়েবে আমির **ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের**; নাগরিক ঐক্যের সভাপতি **মাহমুদুর রহমান মান্না**, সাধারণ সম্পাদক **শহীদুল্লাহ কায়সার**; এবি পার্টির চেয়ারম্যান **মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু**, সাধারণ সম্পাদক **ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ**; খেলাফত মজলিসের আমির **মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ**, মহাসচিব **ড. আহমদ আবদুল কাদের**; রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক **হাসনাত কাইয়ুম**, মিডিয়া সমন্বয়ক **সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন**; গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী **জোনায়েদ সাকি**, নির্বাহী সমন্বয়কারী **আবুল হাসান রুবেল**; গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি **নুরুল হক নুর**, সাধারণ সম্পাদক **মো. রাশেদ খান**; জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক **ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ**; জাগপার সভাপতি **খন্দকার লুৎফর রহমান**; বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক **সাইফুল হক** এবং রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য **বহ্নিশিখা জামালী**। এছাড়া স্বাক্ষর করেন— এলডিপির মহাসচিব **ড. রেদোয়ান আহমেদ**, প্রেসিডিয়াম সদস্য **ড. নে’য়ামূল বশির**; এনডিএমের চেয়ারম্যান **ববি হাজ্জাজ**, মহাসচিব **মোমিনুল আমিন**; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব **মাওলানা জালালউদ্দীন আহমদ**, সিনিয়র নায়েবে আমির **মাওলানা ইউসুফ আশরাফ**; জেএসডির সাধারণ সম্পাদক **শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন**, সিনিয়র সহসভাপতি **তানিয়া রব**; ১২ দলীয় জোটের চেয়ারম্যান **শাহাদাত হোসেন সেলিম**; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য **অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন**, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব **মাওলানা গাজী আতাউর রহমান**; জাকের পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান **আলহাজ শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া**, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক **আমিনুল হক টিপু বিশ্বাস**, সদস্য **মঞ্জুরুল আরেফিন লিটু বিশ্বাস**; নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির **মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী**, মহাসচিব **মাওলানা মুসা বিন ইযহার**; লেবার পার্টির চেয়ারম্যান **ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান**, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব **খন্দকার মিরাজুল ইসলাম**; ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান **বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু**, মহাসচিব **ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ (সেলিম)**; জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি **মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী**, মহাসচিব **মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী**; ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান **মাওলানা আব্দুল কাদের**, মহাসচিব **মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী**; এবং আমজনতার দলের সভাপতি **কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামান**, সাধারণ সম্পাদক **মো. তারেক রহমান**।


