শিরোনাম
➤চট্টগ্রামের স্বার্থে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে দিন | নগর পরিকল্পনার কঠিন পথে বাধা নয়, চাই সত্য, প্রমাণ ও আইনের শাসন➤উৎপাদন বাড়লে হাতের নাগালে আসতে পারে ইলিশের দাম➤মিছিল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আটক, ছাড়িয়ে নিলেন পথচারীরা➤ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নিন➤বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম➤গুলশানে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় আপস➤“ঝড়, বিতর্ক ও প্রত্যাবর্তন: কোতোয়ালী পেরিয়ে গুলশানে আবু জায়েদ নাজমুন নূর-একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নের সবচেয়ে শক্ত জবাব -নতুন দায়িত্ব, নতুন আস্থা, নতুন অধ্যায়””➤ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ➤রাষ্ট্রীয় পুলিশ পদকের স্বীকৃতি পাচ্ছেন বাবুল আজাদ কঠিন সময়ে পাহাড়তলী থেকে ডবলমুরিং, চকবাজার হয়ে ডিবিতে; সাহস, মেধা ও পেশাদারিত্বে উজ্জ্বল এক পুলিশ কর্মকর্তার পথচলা-➤জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

― Advertisement ―

চট্টগ্রামের স্বার্থে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে দিন | নগর পরিকল্পনার কঠিন পথে বাধা নয়, চাই সত্য, প্রমাণ ও আইনের শাসন

মো. কামাল উদ্দিন:চট্টগ্রামকে ভালোবাসি বললেই চট্টগ্রামের জন্য কাজ করা হয় না। চট্টগ্রামের জন্য কাজ করতে হলে অনেক সময় জনপ্রিয়তার পথ ছেড়ে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে...

“নজরুল চর্চাই গড়ে তুলবে মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও আলোকিত প্রজন্ম”

Homeচট্টগ্রাম“নজরুল চর্চাই গড়ে তুলবে মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও আলোকিত প্রজন্ম”

চট্টগ্রামে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মননশীল সেমিনার বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারস্থ মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সেমিনার। সোমবার (২৫ মে ২০২৬) বিকেল ৪টায় আয়োজিত এই সেমিনারটি ছিল শুধু একটি স্মরণসভা নয়—বরং এটি ছিল নজরুলের দর্শন, মানবতা, বিদ্রোহ এবং সাম্যের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পুনরায় তুলে ধরার এক বৌদ্ধিক প্রয়াস। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে “ইতিহাসের পাঠশালা” ও “জুঁইফুল”। নজরুল: সময়ের সীমা পেরিয়ে মানবতার কবি সেমিনারে বক্তারা একবাক্যে বলেন—কাজী নজরুল ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট যুগের কবি নন; তিনি সময়কে অতিক্রম করা এক চিরন্তন মানবিক চেতনার নাম। তাঁরা বলেন, নজরুলের সাহিত্য শুধু কবিতা বা গান নয়—এটি একটি সমাজ দর্শন, একটি প্রতিবাদী মনোভাব এবং একটি মানবিক রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি। এক বক্তার ভাষায়— “নজরুলকে বোঝা মানে কেবল সাহিত্য পড়া নয়, বরং মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা বোঝা।” অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ও নেতৃত্ব সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সুফি কবি শাহজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ সিরাজুদ্দৌলা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন “ইতিহাসের পাঠশালা”-র পরিচালক ও সম্পাদক সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ-দীন। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক-গবেষক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন লেখক ও গবেষক ডিকে দাশ মামুন। বক্তাদের বিশ্লেষণ: নজরুলের দর্শন কেন আজও প্রাসঙ্গিক বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন—বর্তমান বিশ্বে যখন বিভাজন, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, সামাজিক অবক্ষয় এবং নৈতিক সংকট বাড়ছে, তখন নজরুলের দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
তাঁরা উল্লেখ করেন—
১. মানবতার চেতনা
নজরুল বলেছেন—
“গাহি সাম্যের গান—
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।”
এই চেতনা আজও মানুষকে জাতি-ধর্ম-বর্ণের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠতে শেখায়।
২. সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান
নজরুল লিখেছেন—
“মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম—হিন্দু মুসলমান।”
বক্তারা বলেন, এই একটি লাইনই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক অস্ত্র।
৩. বিদ্রোহের দর্শন
নজরুলের “বিদ্রোহী” কবিতা কেবল রাজনৈতিক বিদ্রোহ নয়—এটি অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে চিরন্তন প্রতিবাদ।
“আমি চির বিদ্রোহী বীর—বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির!”
আলোচনায় উঠে আসে শিক্ষা ও সমাজের বাস্তবতা
আলোচনায় অংশ নেন—
শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান
লেখক দুলাল কান্তি বড়ুয়া
শিক্ষাবিদ বাবুল কান্তি দাশ
সমীরন বড়ুয়া
বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম নবী
জুঁইফুলের প্রতিষ্ঠাতা জিএম মামুনুর রশিদ
প্রকাশক মোহাম্মদ মুদ্দাসিসর হাসান
সুফি চিন্তক ওমর ফারুক
শাহাদাত হোসেন প্রমুখ
তাঁরা বলেন, নজরুলকে শুধু সাহিত্যিক হিসেবে নয়, একজন সমাজ সংস্কারক ও মানবমুক্তির চিন্তক হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
নজরুল চর্চা: নতুন প্রজন্মের জন্য কেন জরুরি
বক্তারা বিশেষভাবে বলেন—
আজকের তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর হলেও অনেক ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই অবস্থায় নজরুল চর্চা হতে পারে একটি নৈতিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ।
তাঁদের মতে—
নজরুল চর্চা মানে মানবিকতা চর্চা
নজরুল পাঠ মানে সহনশীলতা শেখা
নজরুল দর্শন মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো
নজরুল চেতনা মানে অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়া
সেমিনারের মূল সিদ্ধান্ত ও আহ্বান
অনুষ্ঠানের শেষাংশে বক্তারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান—
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরুল চর্চা আরও বিস্তৃত করতে হবে
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মানবিক মূল্যবোধ যুক্ত করতে হবে
তরুণদের সাহিত্য, ইতিহাস ও দর্শনে আগ্রহী করতে হবে
সমাজে ঘৃণার বদলে সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির চর্চা বাড়াতে হবে
নজরুলকে পাঠ্যবইয়ের বাইরে জীবনের অংশ করতে হবে
সমাপ্তি: একটি চেতনার পুনর্জাগরণ
এই সেমিনার কেবল একটি স্মরণসভা ছিল না—এটি ছিল এক চেতনার পুনর্জাগরণ।
নজরুল আমাদের শেখান—
“আমি চির বিদ্রোহী বীর…
দুঃখ-দারিদ্র্য-অবিচারের বিরুদ্ধে আমি অগ্নিস্বরূপ।”
এই অগ্নিচেতনা আজও সমাজকে জাগিয়ে তোলে, মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়, এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে।
বক্তাদের একান্ত উপলব্ধি ছিল—
নজরুলকে শুধু স্মরণ নয়, তাকে ধারণ করতে হবে জীবনের প্রতিটি স্তরে। তাহলেই সম্ভব হবে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক, সহনশীল ও আলোকিত বাংলাদেশ গঠন।
কারণ শেষ পর্যন্ত—নজরুল কোনো কবির নাম নয়, তিনি একটি চেতনার নাম;
যে চেতনা যুগে যুগে মানুষকে মানুষ হতে শেখায়।