শিরোনাম
ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ টেস্টার মোবারক গ্রেপ্তারযাত্রাবাড়ীতে ২১৫ গ্রাম গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারশেখ হাসিনার পতন, দেশত্যাগ, এবং ভবিষ্যতের রাজনীতিঃএক বছর আগে যে আলো দেখেছিলাম হাসিব আজিজ—চট্টগ্রামের কমিশনার থেকে অতিরিক্ত আইজিপি, এপিবিএন প্রধানসমাজের নৈতিক পরিবর্তনে সীরত মাহফিলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণএপিবিএনকে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দিতে নতুন আইন হচ্ছেবিমানবন্দর এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় একজন গ্রেপ্তারআধুনিক চিকিৎসাসেবায় নতুন আস্থার ঠিকানা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালতখন এস আলমের নাম নেওয়াই ছিল অপরাধ—আজ ফেসবুকের স্মৃতিতে ফিরে এলো আমার সেই সাহসী লেখা এস আলম গ্রুপকে বাঁচানোর সেই আর্তনাদ, চট্টগ্রামের শিল্প-অর্থনীতি ও আমার বিবেকের দায়-মরুর বুকে ভ্রমণের গল্প, শব্দে শব্দে জীবনের মুগ্ধতা

― Advertisement ―

ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ টেস্টার মোবারক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ মো. মোবারক হোসেন ওরফে টেস্টার মোবারক (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে...

শ্রাবন্তীর গানের ভেলায়—চাটগাঁর প্রাণ থেকে হৃদয়ের গভীরে”

HomeUncategorizedশ্রাবন্তীর গানের ভেলায়—চাটগাঁর প্রাণ থেকে হৃদয়ের গভীরে”

মো.কামাল উদ্দিনঃ
আমরা অনেকেই গান শুনি। কেউ সুরের কারণে, কেউ গায়কীর কারণে, কেউ বা শুধুই মন খারাপের ওষুধ খুঁজে নিতে। কিন্তু কিছু কণ্ঠ থাকে, কিছু মানুষ থাকে—যারা শুধু গান শোনায় না, একেকটি গানকে জীবনের কথা বলে তোলে। তারা গানের প্রতিটি পঙক্তিতে জীবনের রং মিশিয়ে দেন। এমনই এক শিল্পী শ্রাবন্তী শুক্লা। একজন কণ্ঠশিল্পী, একজন সংস্কৃতিসেনানী, একজন চাটগাঁইয়া হৃদয়ের নারী, যিনি গান গেয়ে গেয়ে জয় করে নিয়েছেন শ্রোতার মন, আবেগ আর ভালোবাসা।
শ্রাবন্তী শুক্লা—এই নামটি উচ্চারণ করলেই যেন একধরনের উষ্ণতা, একধরনের স্নিগ্ধতা মনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তার কণ্ঠে একটি নিজস্ব স্বরভঙ্গি আছে, যেখানে মায়া ও মমতা পাশাপাশি হাঁটে, আবেগ ও আত্মবিশ্বাস একসাথে ধ্বনিত হয়। তিনি কেবল একজন গায়িকা নন, তিনি যেন এক সংগীতের নদী—যার স্রোত আমাদের নিঃশব্দ অভ্যন্তরকে ছুঁয়ে যায় বারবার। তার গানগুলো শোনা মানে যেন আত্মার দরজায় একটু ধাক্কা লাগা। জীবনের গল্প, প্রেম-ভালোবাসা, বিরহ, প্রতিবাদ, সংগ্রাম—সবই যেন তার কণ্ঠে সুর পায়। শ্রাবন্তী যেন আমাদের চাটগাঁইয়া হৃদয়ের সেই মেয়েটি, যে গানে গানে আমাদের ব্যথা বোঝে, আনন্দের সুরে হেসে ওঠে, আবার তীব্র বেদনায় দীর্ঘশ্বাসও তোলে।
শ্রাবন্তীর আচরণ এমনই—একটা আন্তরিক স্পর্শ অনুভব হয় তার সঙ্গে দেখা হলেই। তার বাচনভঙ্গি, কথা বলার ধরণ, শ্রোতার প্রতি সম্মান—সবকিছুই এমনভাবে গাঁথা যে মনে হয়, শিল্পী নয়, তিনি যেন পরিবারের একজন। সংগীতের বাইরে শ্রাবন্তীর যে ব্যক্তিত্ব, সেটাও কম নয়। তিনি সরাসরি, সৎ, সহজ-সরল, আবার দৃঢ়চেতা। এই গুণগুলো তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তোলে।
চট্টগ্রামের নানা সাহিত্য-সংস্কৃতি সংগঠনের সাথে তার জড়িত থাকা নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। তিনি এই সংগঠনের প্রাণ। নতুনদের উৎসাহ দেওয়া, অসহায় শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানো, কণ্ঠ চর্চার কর্মশালায় অংশগ্রহণ, সাহিত্য আড্ডায় গান গেয়ে পরিবেশ উজ্জ্বল করে তোলা—সবই করে চলেছেন নিরবধি ভালোবাসা থেকে। তার গাওয়া গান যেমন শ্রুতিমধুর, তেমনি সমাজ সচেতনতায় পরিপূর্ণ।
তিনি একাধিকবার গান গেয়ে মন জয় করেছেন ‘চাটগাঁইয়া নওজোয়ান’, ‘সুবর্ণরেখা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’, ‘নবদিগন্ত সাহিত্য সংগঠন’, ‘নগর সাংস্কৃতিক পরিষদ’, ‘চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্র’-এর মতো অনেক সংগঠনের আসরে। এসব আসরে তার গাওয়া গান কখনো ছিল লালন ভাবের, কখনো নজরুল চেতনার, কখনো রবি ঠাকুরের অসীম প্রেমের সুরে মূর্ছিত।
একজন কণ্ঠশিল্পীর আসল শক্তি তার শ্রোতা। শ্রাবন্তী জানেন কীভাবে শ্রোতার হৃদয়কে ছুঁতে হয়। যখন তিনি গান করেন, তখন মনে হয় তিনি শুধু গাইছেন না—তিনি কথা বলছেন, অনুভব করাচ্ছেন, জাগিয়ে তুলছেন। তার কণ্ঠে “আমি চিরদিন তোমার প্রেমে হই ধন্য”, অথবা “এই পথ যদি না শেষ হয়” গানগুলো শুনলে বোঝা যায়, কী গভীর আত্মমগ্নতা ও ভালোবাসা দিয়ে তিনি গান করেন।
শ্রাবন্তীর গান শুনতে শুনতে মনে হয়, গান যেন তার নিঃশ্বাসের মতো। গানে তিনি তার আত্মাকে ঢেলে দেন, জীবনের সব অভিজ্ঞতা, সুখ-দুঃখ, স্বপ্ন-ব্যর্থতা একেকটি সুরে মিশে গিয়ে আমাদের সামনে ফুটে ওঠে। আর সেই কারণেই, শ্রাবন্তীর গান শুধু গান থাকে না—তা হয়ে ওঠে জীবনের প্রতিবিম্ব।
আমি নিজেও একজন শ্রোতা হিসেবে তার প্রতি গভীরভাবে আবেগী। অনেকদিন ধরে ভাবছি, এই মানুষটিকে নিয়ে লিখব। কিন্তু কখনো সময় পাইনি, কখনো হয়তো সাহস পাইনি। অথচ তিনি কতবার অনুরোধ করেছেন—‘আমাকে নিয়ে একটু লেখো না, তোমার কলমে আমি যেন আমার নিজের ছবিটা দেখি।’ সেই অনুরোধ আজ আর এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আমি লজ্জিত, কেন এই গুণী মানুষটিকে নিয়ে আগে কিছু লিখিনি। আজ ভুল শুধরে নিতে চাই।
তার সংগীত শুধু রোমান্স কিংবা সান্ত্বনা নয়, একধরনের প্রতিবাদও। সমাজের অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ উচ্চারিত হয় সাহসের সাথে। নারীর প্রতি বৈষম্য, শিশু নির্যাতন, পরিবেশ ধ্বংস, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন—এসব বিষয়ে তিনি নিজের গান ও বক্তব্যে বারবার সরব থেকেছেন।
শ্রাবন্তীর গান শুনলে বোঝা যায়, তিনি কেবল সুরের প্রেমে পড়েননি, তিনি শব্দের প্রেমিকাও বটে। তার গানের নির্বাচন, লিরিকের প্রতি মনোযোগ, গায়কির সাবলীলতা—সব মিলিয়ে একধরনের সাহিত্যিক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে প্রতিবার। তিনি একেকটি গানকে কবিতার মতো অনুভব করে পরিবেশন করেন।
তিনি যেভাবে একটি গান শুরু করেন—সেই ভূমিকা, সেই ভঙ্গিমা, আর গান শেষে দর্শকের মধ্যে রেখে যাওয়া এক দীর্ঘ আবেশ—এসবই বলে দেয়, তিনি একজন প্রকৃত শিল্পী, আত্মবিশ্বাসী শিল্পী। তার চোখে যে জ্যোতি, তা শুধু কণ্ঠে নয়, তার মনের গভীরে শিল্পের শুদ্ধ বাস।
শ্রাবন্তী কেবল একজন গায়িকা হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে যেমন উজ্জ্বল, তার সমাজভাবনা, মানবিকতা, ও সংস্কৃতিচেতনা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তিনি জানেন, শিল্পীর দায়িত্ব শুধু বিনোদন নয়, সমাজকে বদলানোর দিকনির্দেশনা দেওয়া। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি প্রতিনিয়ত গানকে একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন, যেখানে প্রেম ও প্রতিবাদ হাত ধরে হাঁটে।
শেষ কথা হলো—শ্রাবন্তী শুক্লা আমাদের চাটগাঁর সংস্কৃতির গর্ব। তার কণ্ঠ, তার মন, তার সুর—সবই আমাদের অন্তরের অংশ হয়ে গেছে। তার প্রতি আমার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা—সে যেন আরও গান গায়, আরও হৃদয় ছুঁয়ে যায়, আরও মানুষের ভালোবাসার আধার হয়ে ওঠে।
তার গান শুনে যদি একজন মানুষও নতুনভাবে বাঁচার অনুপ্রেরণা পায়, তবে শিল্পী হিসেবে তার জয় অবধারিত। আর আমরা যারা তার গানের ভক্ত, তারা জানি—শ্রাবন্তী শুক্লার গান কখনো পুরোনো হবে না, বরং প্রতিবার শুনলে নতুন করে ভালোবেসে ফেলতে হয়।
শ্রাবন্তী, তোমাকে নিয়ে আজ লিখতে পারলাম—এটাই আমার সৌভাগ্য। তুমি গান গাও, আমরা শুনি। তুমি জীবন ছুঁয়ে যাও, আমরা তাকে জীবনের ভাষায় অনুবাদ করি। তোমার গানেই আমরা বাঁচতে চাই, প্রেমে পড়তে চাই, প্রতিবাদ করতে চাই। তুমি কণ্ঠে যা বলো, আমরা তা হৃদয়ে ধারণ করি।